শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

জগন্নাথপুরের সবকটি রাস্তার বেহাল দশা ॥ জনদুর্ভোগ চরমে

জগন্নাথপুর সংবাদদাতা : দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে বলে সরকার দাবি করলেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সবকটি রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখলে এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন জাগে জনমনে।

এ উপজেলার প্রত্যেকটি রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এসব সড়ক নিয়ে গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠলেও সংস্কারে কোন গতি নেই। অনেকেই রসিকতা করে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাকে মৎস্য হ্যাচারি কেউবা আবার বোরো জমি উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে থাকেন। জনদুর্ভোগ লাঘবকল্পে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক বলে সচেতন নাগরিকগণ জানিয়েছেন।

সরজমিনে বিভিন্ন সড়কে গিয়ে দেখা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর বিভাগীয় শহর সিলেটের সাথে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়ক দিয়ে। ওই সড়কটি শুধুমাত্র জগন্নাথপুর উপজেলা অংশ ছাড়া অন্যান্য সকল স্থানের রাস্তা ভাল রয়েছে। যদিও সম্প্রতি ওই সড়কের কিছু অংশে সংস্কার কাজ করা হয়েছিল কিন্তু সংস্কার কাজে নিম্নমানের উপাদান সামগ্রী ব্যবহার করার ফলে আবারো সড়কে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। তাছাড়া ওই সড়ক পথের জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্ট থেকে কেউনবাড়ী (আটঘর) জগন্নাথপুর উপজেলার শেষ সীমানা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অনেকগুলো গর্ত রয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় মাইক্রো চালক বলেন,‘১৩ কিলিমিটার রাস্তা, ১২মাসই ভাঙ্গা থাকে’। তিনি মনে করেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরে ওই রাস্তায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

স্থানীয় মীরপুর এলাকার বাসিন্দা বলেন, ওই রাস্তার এমন অবস্থা হয়েছে যে, রাস্তার মধ্যে সন্তান প্রসব হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে জনজীবনে নানান প্রতিকুলতা আর ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে এ উপজেলার জনসাধারণকে।

এদিকে- জগন্নাথপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী ওসমানী নগরের সাথে যোগাযোগের দুটি রাস্তা রয়েছে। এ দুটির রাস্তারও বেহাল দশা। একটি রাস্তা চলে গেছে কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে আর অপরটি ঝুঁলে রয়েছে উচ্চ আদালতে। কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে চলে গেছে জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ও আশারকান্দি ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া জগন্নাথপুর-কাতিয়া- বেগমপুর সড়কটি। ওই সড়কের জালালপুর (ভাঙ্গাবাড়ী) কয়েক দফায় কুশিয়ারা ভাঙ্গনের কবলে পরে এবং সংস্কার কাজ হলেও যথা সময়ে কাজ না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁরা আরো জানান, এমন পরিস্থিতির ফলে বার বার আমাদের সড়ক পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং যানচলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। বৃষ্টির জন্য কাজ করা যাচ্ছেনা। বৃষ্টির সময় চলে গেলে কাজ শুরু হবে। অন্যান্য সড়ক গুলোর সংস্কার কাজ করাণোর জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ