রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

আগামী সপ্তাহে দক্ষিণের পাঁচ করিডোর দিয়ে ভারতীয় গরু আসবে

খুলনা অফিস : আগামী সপ্তাহ থেকে এবারের ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ভারতীয় গরু আসবে। যশোর ও সাতক্ষীরার পাঁচ করিডোর দিয়ে গরু আনা হবে। বাংলাদেশী রাখাল ও ব্যবসায়ীদের জিরো পয়েন্ট অতিক্রম না করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। শুধুমাত্র দু’দেশের রাখাল ও ব্যবসায়ীরা গরু হস্তান্তর ও গ্রহণ করার সুযোগ থাকবে। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের ঈদ উল আযহায় করিডোর দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গরু আসেনি। বিজিবি’র সূত্র জানায়, যশোর জেলার নাভারণ, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া, সাতআনী, দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া, কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর করিডোর দিয়ে ভারতীয় আসার সুযোগ রয়েছে।

খুলনা সেক্টরের মেজর মো. আনিসুর রহমান জানান, রাখাল ও ব্যবসায়ীরা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবে না। তবে গরু আসার সুযোগ থাকবে। করিডোরে রাখালদের চিহ্নিত করার জন্য রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিজিবি’র অন্যান্য সূত্র জানায়, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জিরোপয়েন্টে গরু নিয়ে আসার পর কাস্টমসের রাজস্ব পরিশোধ সাপেক্ষে দেশের অভ্যন্তরে আনা সম্ভব হবে। আগের মতো কেউ চোরাই পথে ভারত সীমান্ত অতিক্রম করছে না।

সাতক্ষীরা কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, গত মে মাসে ১ হাজার ৩৮২টি এবং জুন মাসে ২ হাজার ৫৭২টি গরু কুলিয়া ও বাসন্তপুর করিডোর দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। গরু প্রতি কাস্টমসের রাজস্ব ৫শ’ টাকা। আমদানিকৃত গরুর মধ্যে বাছুরের সংখ্যাই বেশি।

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সূত্র জানায়, মহানগরীসহ ৯ উপজেলায় কুরবানীর জন্য ২৬ হাজার গবাদীপশু হৃষ্ট-পুষ্ট হচ্ছে। তার মধ্যে গরু ১৬ হাজার এবং ছাগল ৯ হাজার ৭শ’। সবচেয়ে বেশি গরু লালন-পালন হচ্ছে কয়রা, দিঘলিয়া ও ডুমুরিয়া উপজেলায়। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ আনোয়ার উল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালে জেলায় ৬০ হাজার গরু ছাগল কুরবানী হয়।

র‌্যাব ও পুলিশের সূত্র জানায়, মহাসড়কগুলোতে সন্দেহ না হলে কুরবানীর পশুবাহী ট্রাক আটকানো যাবে না। সন্দেহ হলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তল্লাশী করা হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে টহল জোরদার করা হবে। ইতোমধ্যেই জেলার সাপ্তাহিক হাটগুলোতে পুলিশের নজরদারী রয়েছে।

শঙ্কা ও সঙ্কটের মধ্যে জোড়াগেটে কুরবানির পশুর হাট ঃ শঙ্কা ও সঙ্কট নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় নগরীর জোড়াগেটে আগামী ২৬ আগস্ট থেকে কুরবানির পশুর হাট শুরু হচ্ছে। তবে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এবারই প্রথম হাটে বসানো হচ্ছে দু’টি ওয়াচ টাওয়ার। এ টাওয়ারের মাধ্যমে পুরো হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ে মনিটরিং করবে হাটে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনী ও কেসিসি। নগরীর জোড়াগেট এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করেন ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসুজ্জামান মিয়া স্বপন। তিনি বিগত দিনে হাট পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু এবারই প্রথম তিনি পবিত্র হজ পালনে দেশের বাইরে থাকছেন। ওই পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্নাকে। তিনি অন্য ওয়ার্ড থেকে এসে কতটুকু প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কাউন্সিলররা।

তারা বলেন, ঘাট এলাকার নানা শ্রেণির দুর্বৃত্তদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। যা বিগত দিনে একাধিকবার ছোটখাটো সংঘর্ষ হলেও পরে ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের হস্তক্ষেপে তা শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা হয়েছে। এছাড়া বিগত দিনে প্যানেল মেয়র-১ আনিছুর রহমান বিশ্বাষ এর নেতৃত্বে এ হাট পরিচালিত হয়। যা যা করার দরকার তা তিনি করতেন।

প্যানেল মেয়র-১ আনিছুর রহমান বিশ্বাষ বলেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি হাটের সাতে পাঁচে কোনভাবেই এবার থাকছেন না।

৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও খালিশপুর থানা যুবলীগের আহবায়ক সাহিদুর রহমান সাঈদ বলেন, বিগত দিনে প্যানেল মেয়র-১ কোরবানির পশুরহাটের সার্বিক দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাকে সর্বদা সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু এ গুরু দায়িত্ব পালনকারী দু’জন যদি হাটের দায়িত্বে না থাকে তবে কিছু জটিলতা থেকেই যায়। স্থানীয় কর্তৃত্বদানকারীরা যেভাবে সমস্যা সহজে সমাধান করতে পারেন, অন্যদের তা পারা কঠিন বলে তিনি মনে করেন। তিনি মেয়রের ভাষ্য মতে বলেন, হাট সমষ্টিগতভাবেই পরিচালনা করা হবে। কয়েকজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মাত্র। ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশফাকুর রহমান কাকন বলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের আলাদা মর্যাদা থাকে। তবে যেহেতু হাট কর্পোরেশনের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে হবে। সেখানে সবারই অংশগ্রহণ থাকবে। তবে এতে সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলে তিনি মনে করেন। ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুব কায়সার বলেন, ব্যক্তি বিশেষের কারণে হাটে কোন ধরণের প্রভাব পড়বে না। এ হাট কেসিসি ও সরকার যৌথভাবে সফল করবে। কেসিসির প্রধান রাজস্ব অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা আরিফ নাজমুল হাসান জানান, এবার হাটে দু’টি ওয়াচ টাওয়ার (পর্যবেক্ষণ চৌকি) বসানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে দু’টি না হলেও একটি টাওয়ার বসানোর জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী হাটে একটি ওয়াচ টাওয়ার এবার বসানো হবে। ওই টাওয়ারের মাধ্যমে সমগ্র হাট নিরাপত্তা রক্ষীদের নজরদারিতে থাকবে। এছাড়া সিসি ক্যামেরাও সচল রাখা হবে। ফলে হাটের ভেতরে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা হলে তা ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে ধরা পড়বে বলে তিনি জানান। এছাড়া যত্রতত্র হাট যাতে না বসে এ জন্য ২৮ আগস্ট থেকে তিনটি মোবাইল টিম কাজ করবে। উল্লেখ্য, খুলনা জেলার উল্লেখযোগ্য হাটগুলো হচ্ছে ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া, শাহাপুর, পাইকগাছার চাঁদখালী, কাছিকাটা, দাকোপের বাজুয়া, নলিয়ান, কয়রার দেউলিয়া, কাশিরাবাদ, ফুলতলা উপজেলা সদর, দিঘলিয়া উপজেলার এম এম মজিদ কলেজ মাঠ ও জালাল উদ্দিন কলেজ মাঠ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ