মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

ঢাবি অধ্যাপক শাহাদাৎ হোসাইনের বরখাস্তের আদেশ অবৈধ

 

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.মো. শাহাদাৎ হোসেনকে বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতেও বলা হয়েছে। এ রায়ের ফলে সাহাদাৎ হোসেনের পদে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

 এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফারুক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও ব্যারিস্টার তাহসিনা তাসনিম মৃদু। ঢাবির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিন। সরকারপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম।

গত ৭ জুন অধ্যাপক ড.শাহাদৎ হোসাইনকে বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। তিন সপ্তাহের মধ্যে ঢাবির ভিসি, সিন্ডিকেট, রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

জানা যায়, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দুই ছাত্রী তাদের স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর ওই বিভাগের অধ্যাপক শাহাদৎ হোসাইনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৬ মার্চ তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

ঢাবির ওই সিদ্ধান্তেরর ব্যাখ্যায় বলা হয়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ সত্য। ছাত্রীদের সঙ্গে শাহাদৎ হোসাইনের এই আচরণ স্পষ্টত নৈতিকতার স্খলন, যা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন শাহাদৎ হোসাইন।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার তাহসিনা তাসনিম মৃদু বলেন, শাহাদৎ হোসাইন বাধ্যতামূলক ছুটিতে ছিলেন। এ অবস্থায় তাকে বরখাস্ত করা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পরিপন্থী। বরখাস্তের আগে কোনো ধরণের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়নি। এমনকি তাকে নিজের পক্ষে কোনো যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ না দিয়েই বরখাস্ত করা হয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের লঙ্ঘন। তাই আদালত বরখাস্তের আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। চাকরিতে এখন তার পুনর্বহালের বাধা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ