রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

অর্থমন্ত্রী এবার সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের দাবিকে বললেন ‘টোটালি রাবিশ-বোগাস’

 

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের দাবি ‘টোটালি রাবিশ, বোগাস’। সাংবাদিকরা সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে অধিক বেতন পান। এই কারণে তাদের এই ওয়েজবোর্ডের দাবি ‘আননেসেসারি’। 

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব এর সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকে নোয়াবের পক্ষ থেকে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্যা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। অন্যদিকে নোয়াব নেতারা সম্মেলন কক্ষের অন্য দরজা দিয়ে চলে যান। তারা সাংবাদিকবদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। সম্মেলন কক্ষে কোনো সাংবাদিককেও ঢুকতে দেয়া হয়নি।

তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষের সামনে ৯ম ওয়েজ বোর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকদের বেতন সরকারি কর্মকর্তাদের চাইতেও বেশি। তাদের জন্য ওয়েজ বোর্ডের কোনো দরকার নেই। এ সময় তিনি বলেন, ঢাকা থেকে যে সাড়ে পাঁচ’শ মতো সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়, সেগুলো টোটালি ‘ইউজলেস’।

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন, প্রোভিডেন্ট ফান্ডসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা রয়েছে কিন্তু সাংবাদিকদেরতো এমন কোনো সুযোগ নেই এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনাদেরও প্রোভিডেন্ট ফান্ড আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসটার্স ডিগ্রি পাশ করে ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াতে ৮ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মাস্টার্স পাস করা আমাদের পিয়নও আছে। ১৬ হাজার টাকা বেতন পায়। আমি জানি আপনাদের ৫ টি গ্রেড আছে। সর্বশেষ গ্রেড ২০ হাজারের কোটায় রয়েছে। টেলিভিশনে তো ওয়েস বোর্ড নেই এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নো, নো টেলিভিশন নয় ফর অল এভরিবডি। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আপনার একজন বা দুইজন দায়িত্ব নেন, আমাকে আপনাদের ৫টি গ্রেডের তথ্য দেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ১৫-২০ টি খবরের কাগজ ছাড়া ৫০০টা পত্রিকা রয়েছে এগুলো অল আর বোগাস। আমি ১৫ বা ২০ পত্রিকার জন্য বেতন স্কেল ঠিক করতে পারি। যেগুলোতে মানুষজন কাজ করে। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা শহরে চারশর মতো পত্রিকা আছে। এগুলো একবারে বোগাস। ২০টার মতো পত্রিকা থাকলে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন সম্ভব।

টেলিভিশনগুলোর কি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সেম, সেম সেম। কয়েকটা টেলিভিশন মরে যাবে। ইজ ইট ডিজারেবল ফর কান্ট্রি। দুনিয়ার কোন খানে এত টেলিভিশন চ্যানেল আছে?

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি কত বার বলেছি, এতগুলো ব্যাংক আছে, টেলিভিশন আছে, এগুলো থাকবে না। অটোমেটিক্যাললি এগুলো মরে যাবে যাবে, যখন আইনটা হবে।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে আগামী ১৭ আগস্ট দুপুর ১২ টায় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বসে বিষয়টি দেখা হবে জানান অর্থমন্ত্রী।

এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, তাহলে সরকার এগুলোর অনুমোদন দেন কেন ? জবাবে উপস্থিত তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার জন্য এখনো কোনো আইন নেই। ওয়েজ বোর্ড হচ্ছে খবরের কাগজের জন্য, সেজন্য সংবাদপত্রের মালিকদের সঙ্গে বসেছিলাম। কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে ওয়েজবোর্ড নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের একপর্যায়ে সাংবাদিকরা হৈচৈ করে বলেন, আপনার কাছে যে তথ্য আছে, তা সঠিক নয়। এ পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কেন, আমাকে তো বলা হলো- একজন রিপোর্টারের প্রারম্ভিক বেতনই ২৫ হাজার টাকার বেশি। রিপোর্টিংয়ে যখনই কেউ ঢুকেন, ২৫ হাজার টাকার বেশি বেতন পান। এ সময় সাংবাদিকরা বলেন, আমরা আপনার সঙ্গে এই বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে চাই।

তখন অর্থমন্ত্রী বলেন, হু ইজ ইউর লিডার? সাংবাদিকরা বলেন, তাদের প্রেস ক্লাব আছে, সাংবাদিক ইউনিয়ন আছে, রিপোর্টার্স ইউনিটি আছে। এসব সংগঠনের নেতারা নবম ওয়েজবোর্ডের দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ পর্যায়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ওয়েজবোর্ডের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আরো মতামত নেয়া হবে। উল্লেখ্য এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে তিনি টুলালি রাবিশ এবং বোগাস শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এবার প্রথম সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এ শব্দটি বললেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ