শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে সংসদ ভেঙ্গে সেনা মোতায়েন করুন -ড. এমাজউদ্দীন

গতকাল মঙ্গলবার সেন্টার ফর ডায়ালগ এন্ড ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রোডম্যাপ : নিরপেক্ষ নির্বাচনে সংকট ও সম্ভবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমদ -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনে দোষ কোথায়। সরকার চাইলে সংসদ ভেঙ্গে সেনা মোতায়েন করে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারে। এতে করে আওয়ামী লীগের সমর্থন আরও বাড়বে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডায়লগ (বিসিডি) আয়োজিত এক গোল টেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক মো: শাজাহান খান সম্রাট, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ প্রমুখ।

এমাজউদ্দীন বলেন, দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও চায় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন। ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে নির্বাচনে আগে সেনা মোতায়েন হওয়ায় নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছিল। নির্বাচন নিয়ে কোন প্রশ্ন ওঠেনি।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়। জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে তাদের সহযোগিতা নিব না কেন? সেনাবাহিনীর উপর জনগণের আস্থা রয়েছে।

সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন অবশ্যই জরুরি। কিন্তু তার পাশাপাশি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে এমন পরিবেশ নেই। ২০১৪ সালের নির্বাচন ছিল জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে ভয়ংকর সমালোচনার এবং হাস্যকর।

এ সময় নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দিয়ে এমাজউদ্দিন বলেন, নিরপেক্ষ এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে বিএনপির নামে ২৫ হাজার মামলা শিথিল করতে হবে। যদি চালাতে চায় তার পরেও নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হবে। সেনা মোতায়েন নিয়ে কমিশনের বক্তব্য স্পষ্ট হতে হবে। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সরকারের মন্ত্রী এমপিদের নির্দেশ অবৈধ। তাদের নির্দেশ না মানার ক্ষমতা বা সাহস থাকতে হবে।

কমিশনের দেয়া নির্বাচনকালীন রোড ম্যাপ নিয়ে তিনি বলেন, রাস্তার চূড়ান্ত চিত্র অঙ্কন করতে হলে চূড়ান্ত গন্তব্য তৈরি করতে হয়। বাংলাদেশের গন্তব্য হচ্ছে নিরপেক্ষ নির্বাচন যা জনগণ এবং বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এরপর রোড ম্যাপ দিতে হবে।এসময় তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, এ মূহুর্তে সহায়ক সরকার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফেরার পর যে রোডম্যাপ দেবে সেটাই হবে সহায়ক সরকারের আসল রোড ম্যাপ। প্রতিটি দেশেই নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হয়। তারপর কেয়ারটেকার সরকারের মাধ্যমেই নির্বাচন হয়। 

এ নিয়মে নির্বাচন জাপান সহ কয়েকটি দেশেই হয়ে থাকে। একটি ফ্রি ফেয়ার নির্বাচন করতে হলে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের বিকল্প নেই এবং লেভেল প্লেইং ফিল্ড হতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ক ও খ এ সুষ্ঠু সমাধান দেয়া আছে। এতে ক্ষমতা পূর্ণ করার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ফৌজদারি মামলার বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে বেশির ভাগ মামলাই রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর দেয়া। এ মামলাগুলি যদি চালাতেই হয় তবে নির্বাচনের সময় এ মামলাগুলি স্থগিত করে নির্বাচনের সুযোগ করে দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ