মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চলছে নদীর তীরভূমি দখলের দৌরাত্ম্য

সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদীকে ঘিরে। প্রাত্যহিক জীবনেও নদীর গুরুত্ব অনেক। সেই নদীই ক্রমে জীর্ণশীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। বলতে হয়, মানব-বান্ধব নদী আজ মানবের অযাচার-অনাচারে মরণ দশায় উপনীত হয়েছে। এমন বাস্তবতায় পত্রিকান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম হয়েছে ‘ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের দখলে চার নদীর তীর’। ৬ আগস্ট তারিখে মুদ্রিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ঢাকার চারপাশে যে চারটি নদী রয়েছে তার তীরগুলোর বিভিন্ন জায়গা আজ অবৈধ দখলদারদের কবলে। মোট তীরভূমির পরিমাণ হলো ২২০ কিলোমিটার। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নদীর তীরভূমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থায়ী বা পাকা কাঠামো নির্মাণ করেছেন বলে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশল বিভাগের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রকল্পের পটভূমিতে বলেছে রাজধানী ঢাকা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদী দিয়ে বেষ্টিত। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য এসব নদীর তীরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে তিনটি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর রয়েছে। কিন্তু নদীর তীরভূমির বিভিন্ন জায়গা অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে। তারা অননুমোদিত ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় বিশেষ করে ২০০৭ সাল থেকে দফায় দফায় তীরভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু তা আবার অবৈধ দখলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ সূত্র বলছে, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে সরকারি সম্পত্তি দখলের একটা প্রবণতা রয়েছে। সংস্থাটি বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে দখলকৃত তীরভূমি উদ্ধার করলেও তা সংরক্ষণ করতে পারেনি। তা চলে গেছে আবার দখলদারদের কবলে। জানা গেছে, সংস্থাটির কোন নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী নেই। এমনকি বিশাল তীরভূমি পাহারা দিয়ে রাখার মতো পর্যাপ্ত জনবলও নেই। ফলে বিআইডব্লিউটিএ বার বার উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেও তা সংরক্ষণে হিমশিম খাচ্ছে। এতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে প্রকল্পের আওতায় ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ নির্মাণের ব্যয় নিয়ে খোদ পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনটি স্তরে ওয়াকওয়ে নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ব্যবধান অনেক বেশি। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পের কাজ করবে বিআইডব্লিউটিএ। প্রকল্পের মাটি কাটাসহ সব কাজ ঠিকাদার কর্তৃক সম্পাদন করা হবে। অথচ ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি এক্সকেভেটর ক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কোনভাবেই যৌক্তিক নয়। এটিকে বাদ দিতে কমিশন পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, আমাদের নদী ও নদীর তীরভূমিগুলো এখন ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দূষিত হচ্ছে। এছাড়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নদীর পানিপ্রবাহও। বিষয়গুলো শুধু প্রকৃতি ও জনজীবনের জন্যই হুমকির কারণ নয়, জাতীয় অর্থনীতি ও উন্নয়নের জন্যও অশনি সংকেত। এসব নিয়ন্ত্রণে এবং দুর্নীতি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেমন সক্ষমতা অর্জন প্রয়োজন, তেমনি সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজন গভীর পর্যবেক্ষণ ও ন্যায়নিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ। সময়ের দাবি পূরণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা সফল হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ