মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জুলাই মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [তিন]
২০ জুলাই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্রদলের সম্মেলনে ছাত্রলীগের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়। পুলিশ ফাঁকা গুলী ও টিয়ার গ্যাস ছেড়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। ২১ জুলাই কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে সীট দখল নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রুপের ৩ কর্মী আব্দুর রহীম, মনির খান ও এনায়েত তপুকে মারধর করে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের ক্যাডাররা। ২২ জুলাই নেত্রকোনার পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষ। উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সরোয়ার হোসেন খোকন গ্রুপ ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সুপথ চক্রবর্তী রিংকু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে শাকিল, রুমান ও রাফিকসহ আহত পাঁচজন। ঢাকার আশুলিয়ায় ইয়ারপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ফারুক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন মাদবরের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় জিডি করে টেম্পু পরিবহন সমিতি। চাঁদার দাবীতে তারা গাড়ি চালক রাব্বিকে পিটিয়ে আহত করে। ২৪ জুলাই পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সাপলেজা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় এমপি ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজীকে অবরোধ করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। এমপি ছাত্রলীগ-যুবলীগ মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত এমন বক্তব্য দেয়ার পর তাকে অবরোধ করা হয়। ২৫ জুলাই ঢাকার আশুলিয়ায় পরিবহনে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির অভিযোগের পর শ্রমিকের উপর আবার হামলা করে ছাত্রলীগ। গত ২৩ জুলাই ছাত্রলীগ চাঁদার দাবীর পর শ্রমিকদের মারধর করা হয়। এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করায় আশুলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফারুক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন মাদবরের নেতৃত্বে রনি, সানমুন ও শুভসহ ৮-১০ জন সন্ত্রাসী পরিবহন শ্রমিক আল-আমিনকে মারধর করে। ২৬ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে রিয়াজুল হক নামে একজন আহত হয়। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে বিএনসিসি চত্ত্বরের সামনে অশোভন উক্তির প্রতিবাদ করায় এক কলেজ ছাত্রীকে মারধর করে উপজেলা ছাত্রলীগ সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।
২৭ জুলাই সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ জুলাই সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে শাহ পারাণ হলের কয়েকটি কক্ষ ভাংচুরের ঘটনায় চার ছাত্রলীগ নেতা বাছির মিয়া, মুনকির মিয়া, তৌফিক তন্ময় ও হিমেলকে হল কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করে। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে বড়গ্রাম এলাকায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে তিন পুলিশ আহত হয়। কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগ যুগ্ম-সম্পাদক সাইদুর রহমান রতন এবং অপর যুগ্ম-সম্পাদক মোরসালিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় এএসআই নূর হোসেনসহ আহত তিন পুলিশ। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তুরান মার্কেটে চা খাওয়ার সময় ছাত্রদল উপজেলা সভাপতি শেখ নাজমুল হক ও দফতর সম্পাদক জহুরুল ইসলামের উপর হামলা করে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি একরামুল হক লায়েস ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমানসহ ১৫-২০ জন।  ২৯ জুলাই সিলেটের দক্ষিন সুরমায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে ছাত্রলীগ-যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলীবর্ষণ করে। মূলত যুবলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে জাকির আহমেদ খোকা, জামিল আহমেদ ও সুহেল আহমেদ আহত হয়। ৩০ জুলাই নেত্রকোনার পূর্বধলায় ষ্টেশন এলাকায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ও এমপি ওরাসাত হোসেন বেলাল এবং অপর আওয়ামী লীগ নেতা আহম্মদ হোসেন সমর্থকদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। ৩১ জুলাই ঢাকার আশুলিয়ায় ডিইপিজেড-এর ঝুটের মধ্যে গোপনে কাপড় পাচার কালে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যুবলীগ সদ্য বিদায়ী থানা সাধারণ সম্পাদক ও ঝুট ব্যবসায়ী শাদাহাত হোসেন খানের ট্রাকে।
যুবলীগ ঃ ৫ জুলাই নাটোর সদরে নবাব সিরাজউদৌলা সরকারি কলেজে ছাত্রী উত্যাক্ত করার প্রতিবাদ করায় যুবলীগ নব্য ওয়ার্ড সভাপতি মোহনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের হামলায় ছাত্রলীগ কলেজ শাখা সহ-সভাপতি শেখ তারেক স্পর্শ, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহমান রিয়ন ও কর্মী নিশাদ হোসেন আহত হয়। ৬ জুলাই ময়মনসিংহ সদরে দলীয় আসামীদের পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর যুবলীগের হামলা। যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান রনির নেতৃত্বে ১০-১২টি মটর সাইকেলে তারা ফাঁড়িতে হামলা চালালে এস.আই ফারুক হোসেনসহ ৭ পুলিশ আহত হয়। পুলিশ শান্ত ও সাজ্জাদকে আটক করে। নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন সেতুর পশ্চিম পাশে দক্ষিন বাধ্যকর এলাকায় যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করায় এলাকাটি পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে এলাকা বাসী চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সেন মার্কেটের সামনে থেকে চোরাই মটর সাইকেলসহ যুবলীগ দিরাই পৌর সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর এনামুল হক এবং বাবুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। ৭ জুলাই চাঁদপুরের উত্তর মতলব উপজেলার ছেঙ্গারচর পৌর যুবদল সভাপতি ফয়সাল রহমান ডালিম ও সাধারণ সম্পাদক মোখলেচুর রহমান মহসিন বিএনপির এক অসুস্থ নেতাকে দেখে আসার সময় তাদের উপর হামলা করে যুবলীগ-ছাত্রলীগ। পরে পুলিশের সহায়তায় সেখানে তাদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়ার পর ছটকি লঞ্চঘাট থেকে তাদেরকে পুনরায় অপহরণ করে ঐ যুবলীগ-ছাত্রলীগ।
৮ জুলাই ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগ আহবায়ক কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান রনিকে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করার অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিস্কার করে যুবলীগ। খুলনা মহানগরীর আমতলা এলাকায় নর্থখাল রোডে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে হারুনুর রশীদ সুমন নামে এক কর্মী খুন হয়। ঘটনার সাথে জড়িত যুবলীগ ক্যাডার শেখ সেলিম, তার শ্যালক জাহিদ হাসান রাসেল ও রাজু হাওলদারকে আটক করে পুলিশ। শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ইদিলপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে পরীক্ষা বন্ধ করে যুবলীগ পৌর আহবায়ক, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন সরদারের মায়ের কুলখানি করে। ফরিদপুরে পুলিশের এসবি শাখার এসআই মশিউল আজমকে কেরণীগঞ্জ থেকে অপহরণ করা হয়। পুলিশ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে কানাইপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মোল্লা, পাপ্পু, সুজন, মিতুল, শিমুল, বেলায়েত ও সাদ্দামকে আটক করে। ১০ জুলাই নোয়খালী সদরের অশ্বদিয়া ইউনিয়ন মেম্বার ও যুবলীগ নেতা রিয়াজ উদ্দিনকে মহিলাসহ আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদন্ড দেয়, মহিলাকে ১৫ দিনের কারাদন্ড এবং বাড়ীতে আশ্রায় দেয়ায় বাড়ীর মালিককে পাঁচ টাকা জরিমানা করে। উল্লেখ্য, রিয়াজ উদ্দিন এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার চার্জসীট ভুক্ত আসামী। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো অনৈতিক অপরাধের অভিযোগ আছে।
১২ জুলাই ঠাকুরগাঁও সদরে দলীয় কোন্দলে যুবলীগের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদর উপজেলা অর্থ সম্পাদক আব্দুল মান্নান নিহত হয়। সিগারেট খাওয়া নিয়ে জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক দেবাষীশ দত্তের ভাই যুবলীগ সদর উপজেলা যুগ্ম-সম্পাদক সজীব দত্তের সাথে আব্দুল মান্নানের কথা কাটাকাটি হয়, পরে রাতে মান্নানকে একা পেয়ে সজীব ও শান্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় এবং ঠেকাতে গেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুম্মান আহত হয়। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা যুবলীিগ যুগ্-সম্পাদক সজীব দত্ত ও মানিক কুমার দে আইন শৃংখলা বিঘœ কাজে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে সংগঠন থেকে বহিস্কৃত হয়। চুয়াডাঙ্গার জীবনগরে অনন্তপুর গ্রামের এক স্কুল ছাত্রীকে আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সামসুজ্জোহা অপহরণ করে বলে তার পরিবার একটি মামলা দায়ের করে। মেয়েটি স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সামসুজ্জোহা তাকে উত্যাক্ত করতো। ১৩ জুলাই কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সোহেল নিজ চাচার জমি দখল করে ব্যক্তিগত অফিস তৈরী করে তাতে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি টাঙ্গিয়ে মাদক কারবারের আড্ডা তৈরী করে বলে সোহেলের চাচা আহমেদ রেজা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। ১৪ জুলাই নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে মাহবুব নামে এক কর্মী গুলীবিদ্ধ হয়। ১৭ জুলাই নরসিংদীর পলাশে ১০৭ পিস ইয়াবাসহ যুবলীগ ডাঙ্গা ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব পুলিশের কাছে আটক হয়।
১৯ জুলাই ফেনীর সোনাগাজীতে যুবলীগ কর্মী ও কালাম বাহিনীর প্রধান ল্যাংড়া কালাম চট্টগ্রামের চকবাজার থানার পলোগ্রাউন্ড এলাকায় র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুুদ্ধে নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব ১টি এ.কে ২২ রাইফেল ও ১৫ রাউন্ড গুলী উদ্ধার করে র‌্যাব। ২২ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা। হামলায় শহীদুল্লাহ, আকবর, আফসার, তারেক, মঞ্জু ও ছোটনসহ আহত পঁচিশ জন। ২৫ জুলাই রংপুরের মিঠাপুকুরে স্থানীয় এমপি ও তার পুত্রের অনুপস্থিতিতে বর্ধিত সভা করার চেষ্টার অভিযোগে উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক আসাদুজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে একদল যুবলীগ কর্মী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দফতর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনকে মারধর করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ