মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

‘বিজেপি কি মুসলিমমুক্ত ভারত চাচ্ছে’?

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল এমপি অধ্যাপক সৌগত রায় লোকসভায় শাসকদল বিজেপির উদ্দেশে প্রশ্ন করেছেন, ‘বিজেপি কি মুসলিমমুক্ত ভারত চাচ্ছে?’ ভারতের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনির ঘটনা প্রসঙ্গে লোকসভায় আলোচনার সময় গত ৩১ জুলাই সোমবার তিনি ওই প্রশ্ন উত্থাপন করেন। ইন্ডিয়া টুডে ও পার্স টুডে পরিবেশিত খবরে আরো বলা হয়, সৌগত রায় বলেন, গণপিটুনিতে হত্যার ৯৭ শতাংশ ঘটনাই কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঘটেছে। আমি এর মধ্যে হিন্দু-মুসলিমের প্রশ্ন আনতে চাচ্ছি না, কিন্তু গণপিটুনিতে হত্যার ৯৭ শতাংশ ঘটনাই নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পরই ঘটেছে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই মুসলিম। তিনি ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের জিজ্ঞেস করেন, আপনারা কংগ্রেসমুক্ত ভারতের কথা বলে থাকেন কিন্তু আপনারা কি মুসলিমমুক্ত ভারতও চান? তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গণপিটুনির বিরুদ্ধে আইন তৈরিরও দাবি জানান। এছাড়া গত সোমবার সংসদে কংগ্রেস এমপি মুহাম্মাদ আসারুল হক টুপি ও বোরকা পরিহিতদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, টুপি পরা ও দাড়ি রাখা লোক এবং বোরখাপরা নারীরা ঘরের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। লোকেরা তাদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করছে, এর প্রতিবাদ করলেই তারা আক্রমণ করছে। এদিকে সংসদে বিজেপি এমপি হুকুমদেব নারায়ণ যাদব গণপিটুনির ঘটনাকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।
প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, গত জুন মাসে ভারতের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেত্রী সাধ্বী প্রাচি ‘মুসলিমমুক্ত ভারত’ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে পাঞ্জাব এবং কেরালায় পৃথকভাবে এফআইআর দায়ের করা হয়। সাধ্বী প্রাচি বলেছিলেন, “আমরা ‘কংগ্রেসমুক্ত ভারত’ অভিযান সম্পন্ন করেছি, এবার দেশকে মুসলিমমুক্ত করার সময় এসেছে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।” সাধ্বী প্রাচির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সে সময় জম্মু-কাশ্মীর বিধান সভাতেও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এর আগে ২০১৪ সালে আরএসএস সংশ্লিষ্ট ধর্ম জাগরণ মঞ্চের নেতা রাজেশ্বর সিং ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতকে মুসলিম ও খৃস্টানমুক্ত করার ঘোষণা দেয়ায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বিজেপি সরকারের আমলে ভারতে উগ্রবাদীদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বেড়ে চলেছে, সে কথা আমরা জানি। তবে এমন ক্ষেত্র তৈরির প্রস্তুতি বেশ আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। আর এমন পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও ধর্মজাগরণ মঞ্চের মতো সংগঠনগুলো। আর নরেন্দ্র মোদি তো ওখান থেকেই উঠে এসেছেন।
সাম্প্রতিককালে ভারতে ধর্মীয় উগ্রতা ও অসহিষ্ণুতার যে পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা অবশ্যই দুঃখজনক। শাসকদলের প্রশ্রয়ে বিষয়টি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। গরুর গোশত ইস্যুতে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। তবে আশার কথা, ভারতের সব রাজনৈতিক দল কিংবা সব নাগরিক উগ্রবাদীদের সমর্থন করছে না। সেখানকার লেখক, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা উগ্রতা ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। তারা সরকারি খেতাবও ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আর ভারতের সংবিধানও গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা বহন করছে। তারপরও ভারতে উগ্রতা ও অসহিষ্ণুতার মাত্রা বেড়ে চলছে কেন? প্রশ্নটা এখন বড় হয়ে উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ