ঢাকা, সোমবার 13 July 2020, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষা করতে ওআইসিকেই এগিয়ে আসতে হবে

অনলাইন ডেস্ক: ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র মহাসচিব ইউসুফ বিন আহমাদ আল ওসাইমিন রোহিঙ্গা মুসলমানদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে ও তাদেরকে  মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ইয়াঙ্গুন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে চার দিনের এক সফরে এসে তিনি এই দাবি জানান।

ওআইসির মহাসচিব এমন সময় এই দাবি জানালেন যখন রাখাইন প্রদেশের কাইঙ্গ গিই গ্রামে উগ্র বৌদ্ধদের সাম্প্রতিক হামলায় কয়েকজন মুসলমান নিহত হয়েছে। 

ষাটের দশক থেকেই মিয়ানমার সরকার সেখানকার রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে দেশ-ত্যাগে বাধ্য করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। রোহিঙ্গাদের কৃষিক্ষেত্র, ঘর-বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রগুলো এ লক্ষ্যেই দখল করা হত। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগও জোরদার করেছে মিয়ানমার সরকার এবং এই সরকারের মদদপুষ্ট নানা বাহিনী। 

মিয়ানমার সরকার বলছে, রোহিঙ্গারা বাঙ্গালী, তাই তাদেরকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে। অথচ আরাকান তথা বর্তমান রাখাইন অঞ্চলে শত শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা। অতীতে আরাকান ছিল একটি পৃথক রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আসলে মিয়ানামারের সংখ্যাগুরু ধর্মীয় সম্প্রদায় তথা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উগ্র নেতারা এই দেশে মুসলমানদের ব্যাপক উপস্থিতিকে সহ্য করতে পারছে না। আর তাই তারা প্রায়ই নানা অজুহাতে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিষয়ের বিশেষজ্ঞ মুহাম্মাদ আলমাসরি বলেছেন,  ‘মিয়ানমারে এখন চলছে জাতিগত শুদ্ধি বা বংশ-নিধন অভিযান ঠিক যেভাবে ৯০’এর দশকে বসনিয়ার মুসলমানদের নির্মূল করতে সার্বরা কিংবা ফিলিস্তিনিদের নির্মূল করতে ইহুদিবাদী দখলদাররা চালিয়েছে গণহত্যা। মিয়ানমারের মুসলমানদের নির্মূলের জন্য পাশ্চাত্য ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে রয়েছে গোপন সমঝোতা।’ 

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে দাবি করছে যে রোহিঙ্গা মুসলমানরা স্বেচ্ছায় তাদের ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এই দাবির বিষয়ে বিন্দুমাত্র সত্যতা খুঁজে পায়নি। 

মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ইয়াং হি লি বলেছেন, ‘মিয়ানমারের মুসলমানরা ইচ্ছে করেই নিজ বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে তা পুরোপুরি বানোয়াট ও অসত্য। আর মুসলিম গ্রামবাসীদের মারধোর করা মিয়ানমার পুলিশের এক স্বাভাবিক ও নিয়মিত আচরণে পরিণত হয়েছে।’  

দুঃখজনক বিষয় হল মানবাধিকারের তথাকথিত সমর্থক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর গণহত্যার বিষয়ে এখনও নীরব রয়েছে। মিয়ানমারের মুসলমানদেরকে দেশটির নাগরিকত্ব দিতে সেখানকার সরকারকে বাধ্য করারও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ব-সমাজ।

আসলে পশ্চিমা সরকারগুলো মিয়ানমারে তাদের বিশেষ স্বার্থ টিকিয়ে রাখার জন্যই সেখানে মুসলমানদের ওপর গণহত্যার বিষয়ে নীরব রয়েছে। 

এটা এখন সবার কাছেই স্পষ্ট মিয়ানমারের অশিন ভিরাতু’র মতো উগ্র বৌদ্ধ নেতারা ‘নয়শ উনসত্তর’ নামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসহ নানা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তুলে  পরিকল্পিত গণহত্যার মাধ্যমে  দেশটি থেকে মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়। তাই এই অব্যাহত গণহত্যা ঠেকানোর বিষয়ে পশ্চিমা ও আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতার প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় ওআইসি বা ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাকেই গুরু-দায়িত্ব পালন করতে হবে।  -পার্সটুডে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ