ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 October 2020, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

জানা-অজানা: লোহিত সাগর

অনলাইন ডেস্ক: লোহিত সাগর (ইংরেজি: Red Sea) ভারত মহাসাগরের একটি অংশ, যা আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশকে পৃথক করেছে। সাগরটি দক্ষিণে বাব এল মান্দেব প্রণালী ও এডেন উপসাগরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সাথে যুক্ত। সাগরটির উত্তরাংশে সিনাই উপদ্বীপ, আকাবা উপসাগর এবং সুয়েজ উপসাগর অবস্থিত।

লোহিত সাগরের পৃষ্ঠদেশের ক্ষেত্রফল প্রায় ১,৭৪,০০০ বর্গকিলোমিটার। সাগরটি প্রায় ১,৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং সর্বাধিক ৩০০ কিলোমিটার প্রশস্ত।এটি মধ্যভাগে সর্বোচ্চ ২,৫০০ মিটার গভীর; এর গড় গভীরতা প্রায় ৫০০ মিটার। তবে সাগরটিতে প্রশস্ত মহীসোপান আছে, যাতে বসবাসকারী জলজ জীব ও প্রবালগুলি বিখ্যাত। এই সাগরে প্রায় ১,০০০ প্রজাতির অমেরুদন্ডী প্রাণী ও ২০০ রকমের নরম ও শক্ত প্রবালের বাস। 

লোহিত সাগরে ক্ষুদ্র উদ্ভিদ থাকায় পানি লাল বর্ণের(সাময়িক দেখায় , কিছু স্থানে দেখায় মাত্র )। তাই, এ সাগরের নাম লোহিত সাগর দেওয়া হয়েছে।

বাষ্পীভবন ও বায়ুপ্রবাহের ফলে উদ্ভূত জলপ্রবাহের বিন্যাসজনিত কারণে লোহিত সাগর বিশ্বের সবচেয়ে লবণাক্ত সাগরগুলির একটি। এই সাগরের লবণাক্ততা ৩.৬% থেকে ৩.৮%।

লোহিত সাগরকে ঘিরে মোট নয়টি দেশের সীমানা রয়েছে। আর দ্বীপ রয়েছে প্রায় ২৫টি। লোহিত সাগরের লবণাক্ততা অন্যান্য সাগর অথবা মহাসাগরের তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি হলেও এর জীববৈচিত্র্য বেশ সমৃদ্ধ। প্রায় ১,২০০ প্রজাতির মাছের সন্ধান মিলেছে এ সাগরে, যার মধ্যে ১৭টি প্রজাতি শুধুমাত্র এখানেই পাওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে প্রবাল।

২৫০ প্রজাতির প্রবালের উপস্থিতি লোহিত সাগরকে একটি জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ স্থানে পরিণত করেছে। সাগরের পানির গড় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। লোহিত সাগর পর্যটকদের জন্য অন্যতম একটি আকর্ষণীয় স্থান। প্রতিবছর সাগরের তলদেশে স্কুবা ডাইভিংয়ের আনন্দ উপভোগের জন্য এখানে অসংখ্য দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।এ কারণে সৌদি আরব লোহিত সাগরে তার উপকুলীয় এলাকায় বিলাসবহুল রিসোর্ট করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

-উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ