শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খাদ্য সংকটে খোলা আকাশের নিচে বানভাসীদের মানবেতর জীবন যাপন

 

 

নিছার উদ্দীন খান আযম, মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা : সপ্তাহব্যাপী প্রবল বর্ষণে মণিরামপুরে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার হচ্ছে। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্যামকুড় ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামই এখন প্লাবিত এমনটিই জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। গতকাল বুধবার পর্যন্ত শ্যামকুড়ের কয়েক হাজার মানুষ বাড়ি ঘর ফেলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে উঁচু রাস্তার পাশে গরু ছাগলের সাথে ঠাঁই নিয়েছে। সেখানে চলছে চরম খাদ্য সংকট। এ পর্যন্ত কোন প্রকার ত্রান সামগ্রি বিতরণ করা হয়নি। ফলে বানভাসি মানুষ এখন চরম খাদ্য সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছে। 

জানাযায়, সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণে উপজেলার ভবদহ সংলগ্ন নেহালপুর, মনোহরপুর, কুলটিয়া, হরিদাসকাটি, দূর্বাডাঙ্গা, ঢাকুরিয়া এবং কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন মশ্বিমনগর, হরিহরনগর, ঝাঁপা, চালুয়াহাটি, শ্যামকুড় ইউনিয়নের প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। এসব এলাকার খাল-বিল, নদী-নালা, মাছের ঘের, পুকুর, ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি মানুষের দুঃখ কষ্টের সিমা নেই। জীবন বাঁচানোর তাগিদে এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ বাড়ি ঘর ফেলে গবাদি পশুসহ পরিবারবর্গ নিয়ে উঁচু রাস্তার পাশে টোং ঘর তৈরি করে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। ইতিমধ্যে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের চিনাটোলা বাজারে এখন হাঁটু পানি। চিনাটোলা ও ফকির রাস্তার দু’পাশে টোং ঘর তৈরি করে সেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এ সব স্থানে এখন চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানাগেছে। শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে তার ইউনিয়নে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বুধবার বাকি ৮টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। অর্থাৎ শ্যামকুড় ইউনিয়নের সবকটি গ্রামই এখন প্লাবিত। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাসাডাঙ্গা, নাগোরঘোপ, আমিনপুর, জামলা গ্রাম। এসব এলাকার বানভাসিদের মাঝে এখনও কোন ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করা হয়নি। অবশ্য গতকাল বুধবার স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য শ্যামকুড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে বানভাসিদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার ইয়ারুল হক জানান, বানভাসিদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রি বরাদ্দ চেয়ে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ