শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঝড় বৃষ্টিতেও মানুষের দোড়গোড়ায় সংবাদপত্র পৌঁছে দেয় প্রতিবন্ধী সুমন উদ্দিন                   

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি : বর্তমান বিশ্বের খবরাখবর জানার জন্য সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চায়ের সাথে সংবাদ পাঠ করতে না পারলেই যেন জানা হল না কোন কিছু। এই সংবাদপত্র ঝড় বৃষ্টিতে ভিজে রোদের খরা তাপে পুড়ে প্রত্যহ ঘরের কোণে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, গাড়িতে পৌঁছে দেয় হকাররা। এদের লাইন হকার বলা হয়। এরা প্রতিদিন পেপার এজেন্ট থেকে সংবাদপত্র সংগ্রহ করে নিজ এলাকায় পাঠকদের নিকট সংবাদপত্র পৌঁছে দেয়। লাইন হকাররা পায়ে হেঁটে এবং সাইকেল করে সংবাদপত্র পৌঁছে দেয়। অঝোর ধারা বৃষ্টি, গা পোড়া রোদের তাপে তাদের নেই দায়িত্বের অবহেলা। এমনি একজন লাইন হকার প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ সুমন উদ্দিন। সে ফটিকছড়ি পেপার বিতান থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করে নিত্যদিনের সমগ্র খবরের বোঝা মাথায় নিয়ে সংবাদ পাঠক পাঠিকাদের সেবা করে যাচ্ছে। ঝড় বৃষ্টি খরা রোদ্র তাপ যায় হোক দায়িত্ব পালনে নেই অবহেলা। অত্যন্ত পরিশ্রমের মাঝেও দেখা হলে কথা বলে হাসিমুখে। সুমন উদ্দিননের বাড়ি ফটিকছড়ি পৌরসভার বারৈয়ারহাটে। তার বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদ। অসুস্থ বিধায় তার বাবা কোন কাজকর্ম করতে পারেননা। তাই সুমনই ছয় সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। বড় ভাই থাকলেও বউ বাচ্চা নিয়ে আলেদা। মাস শেষে চার পাঁচ হাজার টাকা যা পাই তা দিয়ে কোনমতে সংসার চালাতে হয় বলে জানায় সুমন উদ্দিন। সুমন উদ্দিন বলে, আমাদের দুঃখ কে বুঝে। সারাদিন রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মানুষের নিকট পত্রিকা পৌঁছে দিয়ে যা অর্থ পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। তবুও এ পেশাকে ভালবেসে আগলে আছি। যতই কষ্ট হোক যথাসময় সংবাদপত্র পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের আনন্দ। এক প্রশ্নের জবাবে সে বলে এ পেশায় জড়িয়ে থাকাই হল ভবিষ্যত স্বপ্ন। ফটিকছড়ি পেপার বিতানের স্বত্তাধিকারী মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, রোদ, বৃষ্টিতে মানুষের দ্বারে সময়মত পত্রিকা পৌঁছে দেয়া খুব কষ্টের কাজ। তাই এ পেশায় বেশিদিন কেউ থাকেনা। সুমন উদ্দিনের মত হাতেগোনা কয়েকজন এ পেশায় টিকে আছে। পত্রিকা মালিকরা যদি এগিয়ে আসত তাহলে এ পেশায় জড়িত হকাররা কিছুটা হলেও উৎসাহী হতো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ