বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

অর্ধশত বছরের পুরাতন খুলনা গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

খুলনা অফিস : খুলনা গভ. ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের ৫০ বছরের পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছলছে শ্রেণি কক্ষের পাঠদান কার্যক্রম। বুধবার ক্লাস চলাকালে ক্লাস রুমের ছাদের অংশ বিশেষ ভেঙ্গে পড়লে বৈরী আবহওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে এ যাত্রায় রক্ষা পায় শিক্ষার্থী এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, বুধবার দুপুর সোয়া ১ টার দিকে স্কুলের নীচতলার ৮ম শ্রেণির গোলাপ শাখার নির্ধরিত ১০৬ নং কক্ষে দশম শ্রেণির ৫ম প্রিয়ডের ইসলাম শিক্ষার কাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের দু’টি অংশ বিশেষ ভেঙ্গে পড়ে। এ সময় ওই কাসে মাত্র ৮/১০ জন শিক্ষার্থী কাস করছিল। যে বেঞ্চে একজন শিক্ষার্থী বসে ছিলো সেই বেঞ্চের অপর পাশে অংশটি পড়ায় শিক্ষার্থী প্রাণে রক্ষা পায়।

এ সময় শ্রেণি কক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থী রায়হান ও জেরিন জানান, আমরা কাস করছিলাম হঠাৎ ছাদের অংশ বিশেষ এক শিক্ষার্থীর বেঞ্চের উপর ভেঙ্গে পড়ে। আমরা ভয়ে দ্রুত দৌড়ে বাহিরে চলে যাই। বৈরী আবহওয়ার জন্য আমাদের কাসের মাত্র ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী এসেছিল যেখানে আমরা কাস করছিলাম সেই কক্ষে অন্যদিনে ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী কাস করে। আবহাওয়া ভালো থাকলে অথবা উপস্থিতি বেশি থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে অনেকে হতাহত হতো।

তারা জানায়, স্কুলের প্রতিটি শ্রেণি কক্ষের এই অবস্থা আর এর মধ্যে দিয়ে চরম নিরাপত্তা হিনতার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কাস করতে হচ্ছে। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপতি দত্ত বলেন, ভবন গুলো অত্যান্ত জরাজীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ যা সংশ্লিষ্ট সকলে অবহিত আছেন। স্কুল চলাকালে ছাদের অংশ ভেঙ্গে পড়ে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা অন্য সময়ে বা উপস্থিতি বেশি হলে অনাকাঙ্খিত বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত। উপস্থিতি কম থাকায় ভাগ্যক্রমে শিক্ষার্থীরা বেঁচে গেছে। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চল খুলনার পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চল খুলনার পরিচালক টি এম জাকির হোসেন স্কুলের ভবনগুলোর দুরাবস্থা ও জরাজীর্ণ অবস্থা স্বীকার করে বলেন, ভবন গুলোর পরিনতির বিষয়ে মন্ত্রনালয়ে অবহিত করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক। 

উল্লেখ্য, ফুলবাড়ীগেট তেলিগাতিতে অবস্থিত গভ. ল্যাবরেটরি হাই স্কুলটি ১৯৬৭ সালের নির্মিত পরাতন জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালছে। এ ব্যাপারে একাধিক সরেজমিন সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চল খুলনার পরিচালক টি এম জাকির হোসেন বলেছিলেন ভবনগুলোকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে তারপরও কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ