বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

যাদের ক্ষমতা আছে তারাই দুর্নীতি করে ---অর্থমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। দুর্নীতিতে আমরা সবাই নিমজ্জিত। যাদের ক্ষমতা আছে তারাই দুর্নীতি করে। পরোক্ষভাবে আমরা সবাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদকের হটলাইন-১০৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  এ সময় দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. নাসির উদ্দিন, কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম এবং দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামালসহ দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত না থাকলে দুর্নীতি হতো না। যাদের ক্ষমতা আছে তারাই দুর্নীতি করে। যদি এতে সবাই অংশ না নেয় তাহলে দুর্নীতি হয় কীভাবে। পরোক্ষভাবে আমরা সবাই দুর্নীতিতে জড়িত।

তিনি বলেন, অনেক সময় বাধ্য হয়ে আমাদের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হতে হয়। বাংলাদেশে দুর্নীতির সংস্কৃতি আগে ছিল না। এটা একটা গোপনীয়তার মধ্যে ছিল। একটু শরমের বিষয় ছিল।

দুদকের একজন প্রাক্তন চেয়ারম্যানের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক সময় দুদকের এক প্রাক্তন চেয়ারম্যান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ করবেন বলে ঘোষণা করেন। জেহাদের ভবিষ্যত সব সময় অন্ধকার হয়। কারণ জেহাদ একটি অন্য জিনিস। অব্যশ্যই ধর্ম যুদ্ধে এসব ছিল, এখন আর নাই। জেহাদের নাম নিয়ে কোনো পরিবর্তন হয় না।

তিনি বলেন, তদন্ত  নিয়ে একটি বক্তব্য আছে, তদন্ত করবেন ভালো কথা। কিন্তু তবে জেহাদি হবেন না। জেহাদি হলে তদন্তের কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায়।

দুর্নীতি করার মানসিকতা পরিবর্তন হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকুরিজীবীরা আগে চিন্তা করতেন কীভাবে দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। এখন কিন্তু বলা যেতে পারে সরকারি বেতন মানে সুন্দর জীবন-যাপন। সাধারণ মানুষেরও অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। দুর্নীতি যে করতে হবে এরূপ মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে। আমি আশাবাদী, আট থেকে ১০ বছর পর এই অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি দুর্নীতি দমনে অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার দুর্নীতি কমিয়ে দিতে সহায়তা করবে। সরকারের বিভিন্ন টেন্ডারসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারে দুর্নীতি কমিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। আমরা যারা রক্ষক হিসেবে আছি, তারাই ভক্ষক হিসেবে অবতীর্ণ হই। এই প্রয়াস বন্ধ হওয়া চাই।

তিনি আরো বলেন, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য হটলাইন-১০৬ খোলা হয়েছে। এতে যেকোনো ব্যক্তি দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আগে ও পরে অভিযোগ করতে পারবেন। এর ফলে আমরা তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নিতে পারব। এই হটলাইন খোলার মাধ্যমে দুদকের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন হলো। হটলাইন উদ্বোধনের পরপরই অনুষ্ঠান থেকে অর্থমন্ত্রী দুদকের কলসেন্টারে ফোন দিয়ে কথা বলেন।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ