বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে  রাজনীতি করার আহ্বান  প্রধানমন্ত্রীর

 

বাসস : প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা আদর্শ এবং ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের রাজনীতি করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারাই এটা করতে পারবেন তারাই রাজনীতিতে এগিয়ে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের কলাণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্যই আমাদের রাজনীতি। কাজেই আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের একটা কথাই বলবো, আপনারা যারা জনগণকে কিছু দেয়ার ও ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করবেন তারাই রাজনীতিতে এগিয়ে যাবেন।’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভা এবং পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

 শেখ হাসিনা বলেন, কি পেলাম, কি পেলাম না সেটা বড়ো কথা নয়, তুমি জনগণের জন্য কি করতে পারলে সেটাই একজন রাজনীতিবিদের আদর্শ হওয়া উচিত। আমি আশাকরি সেই মানসিকতা নিয়েই নিজেদেরকে গড়ে তুলবে।

এ সময় তাঁর সন্তানদের সুসন্তান হিসেবে গড়ে তোলায় প্রধানমন্ত্রী মহান রাব্বুল আলামিনের শোকরিয়াও আদায় করেন।

তিনি বলেন, আমি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু তারা (সন্তানেরা) কখনও টাকা-পয়সা, বিষয় সম্পাত্তি বা একটা ব্যবসা, কিছুর জন্যই কখনও বিরক্ত করে নাই।

সংগঠনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভপাতি মোল্লা মোহম্মদ আবু কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি বক্তৃতা করেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মকবুল হোসেন এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদিন নাসিম এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের আহ্বান 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জ্ঞানভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সন্নিবেশিত করে দেশের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তিই একটি দেশ ও জাতির সামষ্টিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়ার প্রধান হাতিয়ার। জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতা ও প্রায়োগিক দক্ষতার সমন্বয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হবে। তাই কারিগরী শিক্ষাকে পর্যায়ক্রমে মূল ধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন স্কিলস ফর দ্য ফিউচার ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক এন্ড টিবিইটি ফর গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

আইডিইবি ও আন্তঃদেশীয় রাষ্ট্রীয় সংস্থা কলম্বো প্ল্যান স্টাফ কলেজ (সিপিএসসি) ম্যানিলা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’র সহোযোগিতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি- দেশের জনসংখ্যা বোঝা নয়। ১৬ কোটি মানুষ আমাদের এক অমূল্য সম্পদ। দক্ষ মানবসম্পদের চেয়ে কোন সম্পদই বড় নয়। আমরা জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য বিজ্ঞান এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। সরকারি উদ্যোগে দেশে তিনটি মহিলা পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটসহ ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং বেসরকারি পর্যায়ে সরকার অনুমোদিত ৪৬৭টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছে।

 দেশে কারিগরি শিক্ষা প্রসারের সরকারি উদ্যোগের তথ্য বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রতিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দ্বিতীয় শিফট চালু রয়েছে। অবশিষ্ট ২৩টি জেলায় আমরা বিশ্বমানের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। বিভাগীয় শহরে আরও ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে মহিলা কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন করা হবে। ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে দক্ষ মাবসম্পদ সৃষ্টির কার্যক্রম চালু আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ