বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

১২ হাজার হজ্বযাত্রীর মোয়াল্লেম চুক্তি নিয়ে মক্কায় বিপাকে ৭০ এজেন্সি

মিয়া হোসেন : ই-ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হজ্বযাত্রীদের। সময়মতো ভিসা প্রিণ্ট না হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে অনেকেই হজ্বে যেতে পারছেন না। সার্ভার সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। যাদের ভিসা প্রিণ্ট করতে সমস্যা হচ্ছে তাদের পাসপোর্ট পুনরায় দূতাবাসে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে হজ্ব এজেন্সিদের সংগঠন হাব। এদিকে সৌদি আরবে প্রায় ১২ হাজার হজ্বযাত্রীর মোয়াল্লেম চুক্তি নিয়ে বিপাকে পড়েছে ৭০ থেকে ৭২টি এজেন্সি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ‘বি’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিসের কোটা ফুরিয়ে যাওয়ায় দ্বিগুণ চার্জ দিয়ে মোয়াল্লেম সার্ভিসের জন্য চুক্তি করতে হবে। আর এ নিয়ে এজেন্সিগুলো মক্কার হাব অফিসে ক্ষোভ প্রকাশ করছে বলে জানা গেছে।

ই ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা সর্ম্পকে হজ্ব ক্যাম্প থেকে জানা গেছে, ই-ভিসা জটিলতার কারণে কনফার্ম থাকার পরও যাত্রীরা বিমানে উঠতে পারছেন না। যাত্রীদের হজ্বক্যাম্প থেকে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার পর ভিসা বুঝিয়ে দিতে না পেরে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্ভার সমস্যার কারণে অনেকে ই-ভিসা প্রিন্ট নিতে পারছেন না। এ কারণে যারা যেতে পারছেন না তাদের ফের কবে পাঠানো হবে- সে বিষয়েও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না এজেন্সিগুলোও। ফলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে পবিত্র হজ্বপালন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেছে।

এমন এক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইয়ার, পাসপোর্ট নং- বিএন০৩০৫৮৫৮। তিনি জানান, বুধবার বিকেল ৫টায় সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি- ৮০৭ ফ্লাইটে স্ত্রী জীবন নিসাকে (পাসপোর্ট নং- বিএন০৩০৫৮৬১) নিয়ে বিমানে ওঠার কথা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে বলা হয়, এখনও ভিসা হয়নি। আপনারা ফ্লাই করতে পারবেন না। আবার কবে ফ্লাইট কনফার্ম করা হবে- সেটিও নিশ্চিত করতে পারেননি এজেন্সি- অভিযোগ করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল মোহাম্মদ ইয়ারই নন, এমন অসংখ্য হজ্বযাত্রী ই-ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় প্রতিদিন নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

আশকোনা হজ্বক্যাম্প থেকে জানা গেছে, ভিসা না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন বেশ কয়েকটি এজেন্সির মালিক এবং তাদের হাজারখানেক হজ্বযাত্রী। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা ভিসার জন্য হজ্বক্যাম্পে আবেদন করেন। সে আবেদন সৌদি দূতাবাসে পাঠানোর পরও এখন পর্যন্ত ভিসা দেয়া হচ্ছে না। এজন্য প্রথমে দূতাবাস থেকে হজ্বক্যাম্পকে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, ই-ভিসা জটিলতার কারণে এমনটি হচ্ছে। আবেদনপত্রের ছবি ছোট-বড় হওয়ায় ভিসা দেয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার ত্বরিত সমাধান না হলে বরাবরের মতো এবারও হাজার হাজার যাত্রীর হজ্ব পালনে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। এমনটি মনে করছেন হজ্ব এজেন্সির সংশ্লিষ্টরা।

হজ্ব এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম ই-ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে বলেন, এবারই প্রথম হজ্ব যাত্রীদের জন্য ই-ভিসা চালু করা হয়েছে। এই ই-ভিসা প্রিন্ট করতে গিয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর প্রিণ্ট করতে গিয়ে অনেকের ভিসা প্রিন্ট হচ্ছে না। এজন্য তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধান করার জন্য হজ্ব অফিসকে তাগিত দেয়া হয়েছে। আর এসব পাসপোর্ট আমরা আবার সৌদি দূতাবাসে পাঠাচ্ছি। আশা করি এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে মক্কায় প্রায় ১২ হাজার হজ্বযাত্রীর মোয়াল্লেম সার্ভিসের জন্য চুক্তি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে ৭০ থেকে ৭২টি এজেন্সি। বাংলাদেশীদের জন্য নির্ধারিত ‘বি’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিসের কোটা ফুরিয়ে যাওয়ায় এজেন্সিগুলো বিপাকে পড়েন। এখন ‘এ’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিস নিতে গেলে হজ্বযাত্রী প্রতি অন্তত ১৪-১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত গুণতে হবে।

এ বিষয়ে মক্কায় অবস্থানরত হাবের সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বি’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিসের কোটা ফুরিয়ে গেছে। এখন কোটা বৃদ্ধি করার জন্য চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে। কোটা বৃদ্ধি করা হলে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। হজ্বযাত্রী প্রতি ১৫শ রিয়ালের ‘এ’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিসে কোটা রয়েছে। যে কেউ তা নিতে পারে। এখনো ৭০টির মতো এজেন্সি মোয়াল্লেমদের সাথে চুক্তি করতে পারেনি। তারা মক্কায় অবস্থান করছেন বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ