শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

প্রযুক্তির কল্যাণে দ্রুত পাল্টাচ্ছে বিশ্ব

জাফর ইকবাল: প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির ইতিহাসে যুক্ত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। যেমন এক শ’ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক  ছোঁয়ার ৫ বছর পরেই ২০০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছুঁয়েছে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় সাইট ফেসবুক। আবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারি তৈরির ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত বিখ্যাত উদ্যোক্তা এলন মাস্কের গাড়ি, বিদ্যুৎ ও সোলার প্যানেল নির্মাতা কোম্পানি টেসলা। লিথিয়াম আয়ন প্রযুক্তির এই ব্যাটারিটি ১০০ দিনের মধ্যে তৈরি করা হবে। তা ছাড়া মহাকাশে পৃথিবী প্রদক্ষিণ শুরু করেছে বাংলাদেশের প্রথম ক্ষুদ্রাকৃতির কৃত্রিম উপগ্রহ বা ন্যানো স্যাটেলাইট ‘ব্র্যাক অন্বেষা।’ এ্যামাজান ও গুগলের পর এবার ভার্চুয়াল সহকারীকে ডিভাইসের মাধ্যমে বাজারে নিয়ে এসেছে আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড। ‘টিমল জিনি এক্স১’ নামে আলিবাবার এই ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্টের পরীক্ষামূলক বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে মোবাইল চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংকের দিন অতীত হতে চলেছে। এই শতকে চলে এল বিশ্বের প্রথম ব্যাটারিবিহীন মোবাইল। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তৈরি করেছেন এই মোবাইলটির। আলোচনায় বিলাসবহুল পরিবহরযোগ্য বাসস্থান। বাজারে আসছে নতুন নতুন হ্যান্ডসেট।
নতুন লক্ষ্যে মার্ক জাকারবার্গ: এক শ’ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছোঁয়ার ৫ বছর পরেই ২০০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছুঁয়েছে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় সাইট ফেসবুক। ২০০৪ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে মার্ক জাকারবার্গ এবং তার সহযোগী এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিজ ও ক্রিস হিউস মিলে শুরু করেছিলেন ফেসবুক। যাত্রা শুরুর ৮ বছরের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফেসবুকে ১০০ কোটি ব্যবহারকারী যুক্ত হয়। ২০০ কোটি ব্যবহারকারী নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ সার্ভিসের মধ্যে শীর্ষে আছে ফেসবুক। একই সময়ে ভিডিও দেখার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউবের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫০ কোটি, বিনামূল্যে বার্তা আদান-প্রদানের এ্যাপ উইচ্যাটের ব্যবহারকারী ৮৮ কোটি ৯০ লাখ, মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে ৩২ কোটি ৮০ লাখ এবং স্ন্যাপচ্যাটে। ম্যাসেঞ্জারের ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ১২০ কোটি। ৭০ কোটি ব্যবহারকারী নিয়ে খুব শীঘ্রই এ ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে ছবি শেয়ারের জনপ্রিয় এ্যাপ ইন্সটাগ্রাম। আর দুই বিলিয়নের লক্ষ্যমাত্রা সাফল্য উপভোগ করতে না করতেই মার্ক জাকারবার্গ ছকে ফেলেছেন নতুন প্ল্যান। হাতের মুঠোয় পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ জনতা, এবার ছুঁতে হবে বাকি দুই-তৃতীয়াংশকে। মানে এবার লক্ষ্য চার বিলিয়ন মানুষকে ফেসবুকের আওতায় আনা। স্বপ্নটা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি। আইডিয়ার স্তর পেরিয়ে বাস্তবে উড়ছে তার স্বপ্ন-উড়ান। নাম এ্যাকিলা। ধরুন, আপনার কাছে কোন ইন্টারনেট পরিষেবা নেই, এমনকি সুদূর ভবিষ্যতে হওয়াও সম্ভব নয়। কেননা আপনি থাকেন প্রত্যন্ত গ্রামে, যেখানে এখনও ইলেক্ট্রিসিটি পৌঁছায়নি। কিংবা কেউ হয়তো গভীর অরণ্যের বাসিন্দা। কেউবা আছেন সমুদ্র-পরিবেষ্টিত দ্বীপে। তারা সবাই ফেসবুক সংযোগ করতে পারবেন এই এ্যাকিলার সাহায্যে! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যির খুব কাছে চলে এসেছেন জাকারবার্গ। এ্যাকিলার জ্বালানি সৌরশক্তি। তাই অতি অল্প খরচেই সম্ভবপর হবে এই অসাধ্যসাধন। সারা পৃথিবীর মানুষকে একই সুতায় গাঁথার উদ্দেশ্য সফল হবে, কেউই আর বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবেন না, এমনটাই আশা করেন তিনি। অতি সম্প্রতি সাহারা মরুভূমির বিস্তৃতিতে পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ানো হলো এই এ্যাকিলাকে। যাত্রাপথ জুড়ে অসংখ্য অজানা তথ্য সংগ্রহ করে এনেছে সে, যা আসলে ভবিষ্যতদ্রষ্টা মার্কের ঠোঁটে হাসি ফুটিয়েছে। ইন্টারনেট ছাড়াই যদি জনসংযোগ হয়, তাহলে অনেকের স্বপ্নই তো একসঙ্গে সফল হবে।
তৈরি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারি: বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারি তৈরির ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত বিখ্যাত উদ্যোক্তা এলন মাস্কের গাড়ি, বিদ্যুৎ ও সোলার প্যানেল নির্মাতা কোম্পানি টেসলা। লিথিয়াম আয়ন প্রযুক্তির এই ব্যাটারিটি ১০০ দিনের মধ্যে তৈরি করা হবে। মূলত দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি সঙ্কট মেটাতে এই ব্যাটারি ব্যবহার করা হবে। এই ব্যাটারির ক্ষমতা হবে ১০০ মেগাওয়াট যা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৩০ হাজার আবাসিক ভবনে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। এডিলেডের ২৩০ কিলোমিটার উত্তরের শহর জেমস টাউনে এই ব্যাটারি তৈরি করা হবে। সেখানকার একটি বায়ুকলের সঙ্গে এটি যুক্ত করা হবে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, টেসলা ১০০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে বিনামূল্যে ব্যাটারিটি সরবরাহ করার অঙ্গীকার করেছে। তবে এ প্রকল্পের খরচ সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। এলন মাস্ক টেসলার মাধ্যমে বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের হার কমিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেন। এ জন্য বিদ্যুৎচালিত গাড়ি  তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংরক্ষণের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে জোর দিচ্ছেন তিনি।
আলিবাবার ৭৩ ডলারের ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট: এ্যামাজন ও গুগলের পর এবার ভার্চুয়াল সহকারীকে ডিভাইসের মাধ্যমে বাজারে নিয়ে এসেছে আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড। ‘টিমল জিনি এক্স১’ নামে আলিবাবার এই ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্টের পরীক্ষামূলক বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম ১ হাজার জন গ্রাহক মাত্র ৭৩ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার টাকা) মূল্যে এই ভার্চুয়াল এ্যাসিস্ট্যান্টটির মালিক হতে পারবেন। কণ্ঠনিয়ন্ত্রিত এই স্পিকারটি দিয়ে মিউজিক বাজানো, তৃতীয় পক্ষের এ্যাপ চালানো এবং চীনা ই-কমার্স জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন স্টোর থেকে পণ্য কেনা যাবেÑ খবর বিবিসির। শুরুতে শুধু ম্যান্ডারিন ভাষা বুঝবে স্পিকারটি। আর আপাতত শুধু স্থানীয় বাজারেই পাওয়া যাবে। এর আগে দেশটিতে একই ধরনের স্পিকার উন্মোচন করেছে বাইদু এবং জেডি ডটকম। টিমল জিনি নিয়ে চীনা বাজারে এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামছে আলিবাবা। থম এক হাজার জন কিনতে পারবেন এ ভার্চুয়ালএ্যাসিস্ট্যান্ট। টিমল জিনি নামের স্পিকারটি দিয়ে মিউজিক বাজানো, তৃতীয় পক্ষের এ্যাপ চালানো এবং আলিবাবা অনলাইন স্টোর থেকে পণ্য কেনা যাবে। দেশটির বাজারে ঠিক একই ধরনের স্পিকার উন্মোচন করেছে বাইদু এবং জেডি ডটকম। তাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামছে আলিবাবা। এ ছাড়া একই ধরনের বাজারে প্রতিযোগিতা করছে মার্কিন টেক জায়ান্ট এ্যাপল। সম্প্রতি তারা এআই স্পিকার উন্মোচন করেছে। স্যামসাংও এআই স্পিকার আনতে কাজ করছে। দামের দিক থেকে ‘টিমল জিনি এক্স১’ টেক্কা দেবে এ্যামাজন-গুগলের ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্টগুলোকে। কারণ যেখানে এপলের হোমপ্যাডের মূল্য ৩৪৯ ডলার, গুগল হোমের মূল্য ১২৯ ডলার এবং এ্যামাজনের ইকোর মূল্য ৩২০ ডলার সেখানে টিমল জিনি এক্স১-এর মূল্য মাত্র ৭৩ ডলার।
ব্যাটারিবিহীন মোবাইল ফোন: প্রযুক্তির ইতিহাসে যুক্ত হচ্ছে নতুন একটি ইতিহাস। মোবাইল চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংকের দিন অতীত হতে চলেছে। এই শতকে চলে এলো বিশ্বের প্রথম ব্যাটারিবিহীন মোবাইল। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তৈরি করেছেন এই মোবাইলটি। এ নিয়ে একটি গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছেন তারা। তাতে দাবি করা হয়েছে, আশপাশের রেডিও সিগন্যাল বা আলোকতরঙ্গের সাহায্যেই এই মোবাইল কাজ করবে। গত ১ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে প্রসিডিংস অব দ্য এসোসিয়েশন ফর কম্পিউটিং মেশিনারি অন ইন্টারেক্টিভ, মোবাইল, ওয়্যারেবল এ্যান্ড ইউবিকুইটাস টেকনোলজিস নামক জার্নালে। প্রোটোটাইপটি ব্যবহার করতে খরচ হবে মাত্র সাড়ে ৩ মাইক্রোওয়াট পাওয়ার। যার জন্য ব্যাটারির প্রয়োজন নেই। এম্বিয়েন্ট রেডিও সিগন্যাল বা আলোকতরঙ্গের মাধ্যমে সেই পাওয়ার যোগাড় করে নেবে মোবাইলটি। গোটা গবেষণাটি ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনসহ গুগল ফ্যাকাল্টি রিসার্চ এ্যাওয়ার্ডসের অর্থ সাহায্যে করা হয়েছে। প্রচলিত ব্যাটারি নয়, এই মোবাইল চলবে আশপাশের রেডিও সিগন্যাল বা আলোকতরঙ্গের মতো অপ্রচলিত উপাদানের সাহায্যে। রেডিও সিগন্যাল থেকে শক্তি সঞ্চয় করে মোবাইলের বেস স্টেশন থেকে ৩১ ফুট দূর পর্যন্ত কথাবার্তা বলা যাবে। তবে যদি আলোকতরঙ্গের সাহায্যে মোবাইলটি চলে তবে তা বেস স্টেশনের ৫০ ফুট দূরের পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকবে। গবেষকরা জানিয়েছেন, কারও সঙ্গে কথা বলতে হলে মাইক্রোফোনের শব্দতরঙ্গগুলো ব্যবহার করবে মোবাইল। এর পর শব্দতরঙ্গগুলোকে শ্রবণযোগ্য সাঙ্কেতিক সিগন্যালে বদলে ফেলে তার প্রতিফলন ঘটাবে তা। এর উল্টোটা হবে কল রিসিভের সময়। ফোনের স্পিকারে আসা সাঙ্কেতিক রেডিও সিগন্যালগুলোকে শব্দতরঙ্গে বদলে নেবে মোবাইলটি।
বিলাসবহুল পরিবহনযোগ্য বাসস্থান: এটা কেমন হয়! যদি আপনার ভ্রমণটা আকাশপথের মতো দ্রুত গতির, প্রাইভেটকারে চড়ে অত্যাধুনিক বিলাস বহুল হোটেলের সব সুবিধাসম্পন্ন পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হয়! আর হ্যাঁ, সেটাই হচ্ছে ব্রানডন সাইব্রিচ এর ‘হাইপার লুপ হোটেলের’ নেপথ্য- যেটাকে মনে করা হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য বিলাস বহুল ভ্রমণ চাহিদার সমাধান। ব্রানডন সাইব্রিচ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাজ অঙ্গরাজ্যের নেভাডা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা একজন স্থপতি প্রকৌশলী। ইতোমধ্যে যিনি অর্জন করেছেন বর্ষসেরা ‘র‌্যাডিক্যাল ইনোভেসন এওয়ার্ড।’ এই পুরস্কার দেয়া হয় ভবিষ্যতের কাল্পনিক হোটেলের নক্সাকারদের উৎসাহিত করার জন্য। সাইব্রিচের হোটেল নক্সার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো একত্রে অনেক কক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সব জায়গায় ‘হাইপার লুপ’ থিওরির সাহায্যে চাপ সংকোচিত পাইপের মধ্য দিয়ে বহন করা যাবে। ‘হাইপার লুপ’ থিওরির মূল পরিকল্পনাবিদ হচ্ছে ইলন মাসকের সিইও টেসলা, যিনি ২০১৩ সালে প্রথম এমন একটা ধারণার উপর প্রকাশনা বের করেন। এই থিওরির উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী স্টিলের পাইপ তৈরি করে তার ভেতর দিয়ে পরিবহন ব্যবস্থা করা যার গতি হবে আনুমানিক ঘণ্টায় ৩০০ কিমি.।
‘পরিবহনে ব্রডব্যান্ড’ হচ্ছে হাইপার লুপের মূলমন্ত্র। হোটেল ব্যবসায় বিশ্বয়কর পরিবর্তন আনতে এবং ভ্রমণ পিপাসুদের অভিজ্ঞতা আরও এত ধাপ এগিয়ে নিতে হাইপার লুপ হোটেল ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করবে। ভ্রমণ পিপাসুদের আর আলাদা করে টিকেট কাটা বা থাকার জন্য হোটেল বুকিং করা লাগবে না। বরং হোটেলটাই দ্রুতগতিতে তাকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। সাইব্রিচের আশা এটা এশিয়া এবং ইউরোপেও একইভাবে বিস্তার করা সম্ভব। রেডিক্যাল ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের বিচারকদের চিন্তা ভাবনাকে তাক লাগিয়ে দেন সাইব্রিচের এই ‘হাইপার লুপ’ হোটেলের নক্সা। সাইব্রিচের মতে আমাদের বসবাসের সাধারণ ধারণাকেই পাল্টে দেবে এই হাইপার লুপ হোটেলের ধারণা। র‌্যাডিক্যাল ইনোভেশন গ্রুপ এই ধরনের নতুন আবিষ্কারকে বাস্তবতায় রূপ দেয়ার সমস্ত সাহায্য করে থাকে।
সাইব্রিচ এই হোটেল তৈরি করতে ব্যবহার করতে চান জাহাজের বড় বড় কন্টেনার যার মধ্যে তিনি সংযোজন করবেন সব ধরনের বিলাস বহুল জিনিসপত্র। সাইব্রিচ জানান প্রতিটা হোটেল বানাতে খরচ হবে ১০ মিলিয়ন ডলার। র‌্যাডিক্যাল ইনোভেশন টিম ইতোমধ্যে তাকে ১০ হাজার ডলার দিয়েছে যাতে করে সে তার এই ধারণাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে। ‘হাইপার লুপ’ পদ্ধতি এখনও ভূমিষ্ট হয় নাই যদিও আশা করা যায় তা ২০২০ সালের মধ্যে শুরু হবে। এ কথা জানান সাইব্রিচ। তিনি আরও বলেন এ বিষয়ে তিনি হাইপার লুপের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করা যায় হাইপার লুপ হোটেল খুব শীঘ্রই বাস্তবতার মুখ দেখবে। এই পরিকল্পনা একেবারেই বাস্তব সম্মত যেহেতু নেভেদায় সাইব্রিচ নিজ এলাকায় এটা বাস্তবায়ন করেছেন। তার বিশ্বাস হাইপার লুপ হবে ভবিষ্যত প্রজন্মের ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী পরিবহন ব্যবস্থার যুগান্তকারী আবিষ্কার।
হ্যান্ডসেটে নতুন প্রযুক্তি: পকেটে মোবাইল রাখার দিনও বুঝি শেষ হয়ে এলো। স্মার্টফোন নির্মাতা চীনা প্রতিষ্ঠান লেনোভো বাজারে নিয়ে এসেছে নতুন এক স্মার্টফোন, যেটি নিজের ইচ্ছামতো মুড়িয়ে হাতে ঘড়ির মতো পরে থাকা যাবে। বিশ্বাস হচ্ছে না? কিন্তু এমনটাই ঘটেছে লেনোভোর টেক ওয়ার্ল্ড সম্মেলনে। বিখ্যাত ইউটিউবার মেগান ম্যাকার্থি কনফারেন্স চলাকালে এই জাদুকরি হ্যান্ডসেট নিয়ে হাজির হন। দারুণ স্টাইলিশ লুকের হ্যান্ডসেটটি সবার সামনে তিনি বাঁকা করে নিজের কব্জিতে ঘড়ির মতো করে বেঁধে ফেলেন। স্মার্টফোন হাতে কব্জিতে বেঁধেই তিনি অপর হাতে নেন একটি ট্যাবলেট, যেটি দেখতে আর দশটি ট্যাবের মতোই। কিন্তু হঠাৎ দেখা যায়, সেই ট্যাবলেটটিকে মাঝবরাবর বাঁকিয়ে তিনি একটি ফোনের আকারে নিয়ে আসেন এবং কানে ধরে একটি ফোনকলও রিসিভ করেন। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবলের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, লেনোভোর এই ব্যতিক্রমধর্মী বেন্ড টেকনোলজির বিষয়ে। লেনোভোর এসভিপি এবং সিটিও পিটার হর্টেন্সিয়াস দর্শকের উদ্দেশে বলেন, ‘অন্যান্য বাঁকানো স্ক্রিনের ডিভাইসের সঙ্গে লেনোভোর এই ডিভাইসগুলোর রয়েছে এক বিস্তর পার্থক্য। কারণ, লেনোভোর বেন্ড টেকনোলজিতে শুধু স্ক্রিন নয়, বাঁকানো হয় মাদারবোর্ড ও ব্যাটারিকেও।’ তবে নতুন ফ্লেক্সিবল ডিভাইসগুলো বাজারে কবে আসছে, এ বিষয়ে কিছু জানায়নি লেনোভো। তবে এর দাম যে আকাশচুম্বী হবে, এ বিষয়ে ধারণা পাওয়া গেছে সম্মেলন থেকেই। হর্টেন্সিয়াস ঠাট্টা করে ম্যাকার্থিকে বলেন, একটু সাবধানে মোবাইল আর ট্যাবগুলো ধরে রাখার জন্য, কারণ এই ডিভাইসগুলোর দাম বর্তমান বাজারের অন্যান্য স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবের থেকে ‘খানিক’ বেশি। বেন্ড টেকনোলজির ব্যবহার আসলে কতটা প্রসার লাভ করবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ, দাম যদি অনেক বেশি হয়, তাহলে হয়তো শুধু বেন্ড টেকনোলজির কারণে সর্বসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ট্যাবলেটটি সে ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। কারণ, ট্যাব দিয়ে কথা না বলতে পারার বিড়ম্বনাটা সবাই ভোগ করে থাকে। যদি সেটি ভাঁজ করে মোবাইল ফোনের আকারে নিয়ে আসা যায়, তাহলে এই ডিভাইসটির মাধ্যমে একই সঙ্গে ফোন ও ট্যাবের সুবিধা পাওয়া যাবে।
নতুন গেইমিং মনিটর: গেইম খেলতে মন চায় না এমন প্রাণ খুব কম পাওয়া যাবে। আর সেই রাজ্যে বিচরণ করতে করতে গেইমারদের নাওয়া খাওয়া থাকে সেটা আমাদের অনেকের জানা। কিন্তু গেইম খেলতে হলে পিসির যে আলাদা সেটআপ লাগে সেটা এখনকার সব গেইমারই জানেন। তা তো সাউন্ড, সিপিইউ আর মনিটর হতে হবে আলাদা। বিশ্বের জায়েন্ট কোম্পানি স্যামসাং নিরেট নির্ভেজাল গেইমারদের জন্য নিয়ে এসেছে আলাদা গেইমিং মনিটর। যেটার সব থেকে মজার বিশেষত্ব হলো হাইট আর এ্যাঙ্গেল। গেইমারদের মনের মতো করে বানানো হয়েছে এই মনিটর। কিউএলইডি গেইমিং মনিটরে রয়েছে ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেইট এবং ১ এমএস রেসপন্ড টাইমের মতো ফিচার। মনিটরটি স্যামসাং অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের মাধ্যমে ঢাকায় উদ্বোধন করা হয়। মনিটরটি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্যাংওয়ান ইউন, হেড অব কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স ফিরোজ মোহাম্মদ, মনিটর বিজনেসের লিড বদিউজ্জামান অপু। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্যামসাং স্যাংওয়ান ইউন বলেন, ‘একটি গেইম-এর প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য গেইমাররা মনিটরে আরও উন্নত প্রযুক্তি প্রত্যাশা করেন।’ ‘আমি নিশ্চিত যে, এটি গেইমিং জগতে একটি নতুন ধারা স্থাপন করবে।’ স্যামসাং কিউএলইডি মনিটর দু’টির মূল্য যথাক্রমে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪৯ হাজার ৫০০ টাকায়। তিনটি সাইজের দু’টি ‘এক্সক্লুসিভ’ মডেলের মনিটর খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে পাওয়া যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন বদিউজ্জামান অপু।
এ্যাপল আট নিয়ে আলোচনা: এ্যাপলের আগামী দিনের স্মার্টফোন আইফোন এইট কেমন হতে যাচ্ছে এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো তাদের পরিকল্পনা আগে থেকে প্রকাশ না করলেও প্রযুক্তিপ্রেমীরা সেই স্মার্টফোনটি নিয়ে তাদের কল্পনার জগৎ সাজিয়ে ফেলেছেন। বিভিন্ন ফাঁস হওয়া খবরে, বিভিন্ন গোপন সূত্রে যেসব খবর চাউর হচ্ছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, আইফোন এইট-এ নতুন ধরনের গ্লাস থাকবে, স্টেইনলেস স্টিলের ডিজাইন হবে, ওয়ারলেস চার্জিং সুবিধা থাকবে আর থাকবে না কোন হেডফোন জ্যাক এবং হোম বাটন। একটি উড়ো খবরে জানা যায় ডিসপ্লের নিচে থাকবে টাচ আইডি ফিঙ্গারপ্রিন্ট। কিন্তু আবার আরেকটি খবরে জানা যায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকছে না। কেউ আসলে সত্যি করে বলতে পারছে না কোনটি আসল খবর। এ্যাপল নিয়ে যারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখে তারাও বলতে পারছে না। ম্যাশাবল ডট কমে বলা হয় এ্যাপল যদি আইফোন এইট থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর উঠিয়ে দেয় তাহলে তার জায়গায় কোনটি আসছে, এটা সহজে ভাঙ্গা যায় এমন কোন পিন কোড নিয়ে আসবে। স্যামসাং গ্যালাক্সির মতো ফেইস সেন্সর কি ব্যবহার করা হবে। কিন্তু অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছে ফেইস সেন্সর অন্ধকারে কাজ করে না। এ্যাপল তার আইফোন এইট নিয়ে ভক্তদের আকর্ষণ ধরে রেখেছেন। বাজারে আসলেই এটা বেশ ঝড় তুলবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
রোবটের বাড়াবাড়ি: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একটি রোবট ভবনের উপর থেকে ঝর্ণার পানিতে পড়ে গেছে। এক পথচারী নাইটস্কুপের তৈরি করা রোবটটি পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ছবি তুলে তা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। আর সেই ছবি দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এটি একুশ শতকের প্রযুক্তির একটি ‘বিরল’ দুর্ঘটনা। ভবনে থাকা এক কর্মী টুইটারে পোস্ট করেছেন, আমরা উড়ন্ত গাড়ি চেয়েছি, তার বদলে আমরা এখন আত্মঘাতী রোবট পাচ্ছি! অনেকেই অবশ্য মজা করে টুইট করেছেন, রোবটটি আত্মহত্যা করতে পানিতে ঝাপ দিয়েছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত নাইটস্কুপের তৈরি রোবটের এটাই প্রথম কোন দুর্ঘটনা নয়। এর আগে গতবছরেই সিলিকন ভ্যালির শপিং সেন্টারে ১৬ মাস বয়সী এক বাচ্চার উপর উঠে গিয়েছিল। সে বছরই নাইটস্কুপ রোবটকে আক্রমণ করায় এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়। মাতাল ওই ব্যক্তি অবশ্য পরে জানিয়েছিল, সে নাইটস্কুপ রোবটটিকে পরীক্ষা করার জন্যই এই কাণ্ড ঘটিয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ