ঢাকা, শুক্রবার 7 August 2020, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনের এখন কি অবস্থা্?

মিশরের আদালতে খাঁচার মধ্যে ব্রাদারহুডের নেতাকর্মীরা

অনলাইন ডেস্ক: কাতারের বিরুদ্ধে তাদের চার প্রতিবেশী দেশ গত মাসে বাণিজ্য, কূটনীতি এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে অবরোধ আরোপ করেছে - তার একটি কারণ হলো এই অভিযোগ যে কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দিচ্ছে।

সউদি আরব, মিশর বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকদের চোথে মুসলিম ব্রাদারহুড একটি সন্ত্রাসী সংগঠন - যাদের লক্ষ্য হলো আরব বিশ্বে বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে উল্টে দেয়া।

কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনের কি সত্যি এটা করার মতো শক্তি আছে?

মিশরে ব্রাদারহুডের হাজার হাজার নেতাকর্মী এখন কারাবন্দী

নিউইয়র্ক টাইমসে এক রিপোর্টে বিশ্লেষক প্যাট্রিক কিংসলে লিখছেন, মুসলিম ব্রাদারহুড এখন 'বিভক্ত এবং শক্তিহীন' হয়ে পড়েছে। তুরস্কে নির্বাসিত ব্রাদারহুডের নেতাকর্মীদের মতে, সংগঠনটির এখন নিজেদের সদস্যদের উপরই নিয়ন্ত্রণ নেই, মধ্যপ্রাচ্যের সরকারগুলোর ওপর প্রভাব ফেলা তো বহু দূরের কথা।

"আমরা এখানে বসে বসে দিন পার করছি। কিছুই করতে পারছি না" - বলছিলেন মাগদি সালাশ, তুরস্কে নির্বাসিত মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন নেতা।

কিন্তু ২০১১ সালে কিন্তু অবস্থাটা মোটেও এরকম ছিল না। মিশরে গণঅভ্যুত্থানে হোসনি মুবারকের পতনের পর তখন মোহাম্মদ মোরসি প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। তিউনিসিয়ায় ব্রাদারহুড অনুপ্রাণিত এন্নানহদা সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সিরিয়াতেও প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ বিরোধী বিদ্রোহে মুসলিম ব্রাদারহুডের ছিল এক প্রধান ভুমিকা।

এসব ঘটনা সৌদি আরব ওআমিরাতের মতো দেশগুলোর শাসক বা বংশানুক্রমিক রাজাদের আতঙ্কিত করে তোলে।

একুশ শতকের রাজনৈতিক ইসলাম নিয়ে একটি বই লিখেছেন শাদি হামিদ।

তিনি বলছেন, "স্বল্পমেয়াদে ব্রাদারহুড খুব বেশি বাস্তব সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারছে না। এন্নাহদা বা গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি গ্রুপ হামাস ব্রাদারহুড দ্বারাই অনুপ্রাণিত । তারা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু মূল মিশরীয় গোষ্ঠীটিকে এখন সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।"

বন্দী সাবেক মিশরীয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসি

কিন্তু দীর্ঘমেয়াদেও সৌদি আরব ও আমিরাতের প্রতি ব্রাদারহুডের মতাদর্শ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হয়ে থাকবে - বলেন তিনি।

মিশরে মি. মোরসি উৎখাত হবার পর হাজার হাজার ব্রা্দারহুড কর্মী গ্রেফতার বা নিহত হন। অনেকে কাতার এবং তুরস্কে পালিয়ে যান। তুরস্কে এখন আশ্রয় নিয়েছেন দেড় হাজার ব্রাদারহুড কর্মী। এরা এখন ক্ষমতাহীন। অনেকের পাসপোর্টও নেই। মিশরের সাথে এমন কি সাধারণ যোগাযোগ রাখতে গিয়েও বিপদে পড়েন তারা।

তাদের সাথে ফোনে কথা বলার অপরাধে মিশরে তাদের সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টির একসময়কার মুখপাত্র আয়মান আবদেল গনি বলছেন, মিশরে থাকা পরিবারের সাথেও যোগাযোগ রাখা কঠিন তাদের জন্য। তার নিজের শ্বশুরও এখন মিশরে কারাবন্দী।

অনেকেরই মিশরের ব্যবসা-বাণিজ্য বা ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। তুরস্কে তারা তেমন কোন কাজের সুযোগও পাচ্ছেন না।

আদালতে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ বাদি

এদের অনেকেই এখন তুর্কি বা কাতারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা তাদের সহমর্মী ধনী ব্যক্তিদের আনুকুল্যের ওপর জীবন কাটাচ্ছেন।

তবে ব্রাদারহুডের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অনৈক্য। তাদের অতীত কর্মকান্ড এবং মিশরের বর্তমান পরিস্থিতিতে কি করণীয় - এসব নিয়ে ব্রাদারহুডের নানা গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্য আছে। এক পক্ষ আছেন যারা আগের মত ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে এগুতে চান। অন্য গ্রুপটি মিশরের রাষ্ট্রীয় শক্তিকে মুখোমুখি মোকাবিলা করতে।

কিন্তু নির্বাসিত ব্রাদারহুড সদস্য ডাক্তার আবদুল্লাহ কারইয়ুনি-র মতে দুই পক্ষই 'অবাস্তব চিন্তা' নিয়ে চলছে।

তার কথায়, "এক পক্ষএখনো অপেক্ষা করছে কবে আল্লাহ তাদের বিজয়ী করবেন। আর অন্য পক্ষ যা করতে চায় তাতে মিশরেও সিরিয়া বা আলজেরিয়ার মতো অবস্থা তৈরি হবে।" -বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ