বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চাটখিলে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল সৃষ্টি, লিখক পলাতক

চাটখিল (নোয়াখালী) সংবাদদাতা: নোয়াখালী জেলার চাটখিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গত বুধবার বিকেলে খতিয়ান নকলের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করে ছাপ কবলা দলিল করার জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে দাখিল করলে খতিয়ান নকল বলে ধরা পড়ে।
সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, দলিল লিখক নিজে দলিল খানা দাখিল না করে অন্যদলিল লিখক আঃ মতিনের মাধ্যমে দাখিল করেন। জালিয়াতকারী দলিল লিখক ছালে আহম্মদ বাবলু, সনদ নংÑ৩১৫৭, উক্ত দলিলখানা তৈরি করে। দলিলের দাতা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও রেহানা আক্তার ১০৬ নং নারায়ণপুর মৌজার ২৬৪ নং ছাপা খতিয়ানের বর্তমান ১৩৩নং দাগে ৩২ শতাংশ জমি গ্রহীতা শিউলী আক্তারের নিকট ছাপ কবলা দলিল মূলে বিক্রি করার জন্য সাবÑরেজিস্ট্রার গিয়াস উদ্দিনের নিকট দাখিল করিলে দেখা যায় উক্ত দাতাদের নাম ২৬৪নং খতিয়ানে নাই। কিন্তু দলিল লিখক ছালে আহম্মদ বাবলু খতিয়ানে জালিয়াতি করে কম্পিউটারে উক্ত দাতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। এতে সন্দেহ হলে সাব-রেজিস্ট্রার স্থানীয় তহসিল অফিসে যোগাযোগ করলে উক্ত খতিয়ানের জালিয়াতি ধরা পড়ে। এরপর দলিলখানা আটক করা হয় এবং দলিল লিখক কে খোঁজ করলে তাকে পাওয়া যায় নি।
উল্লেখ্য, এই দলিল লিখক ছালে আহম্মদ বাবলু ইতোপূর্বে আরো কয়েক বার জাল দলিল, খতিয়ান জালিয়াতি, জমির রকম পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে দলিল করতে গেলে এক দুই বার ধরা পড়ে এবং তার সনদ সাময়িক স্থগিত করে তাকে তিরস্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চাটখিল ভূমি অফিসেও একাধিক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরো জানা যায়, চাটখিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার গিয়াস উদ্দিন এরকম আরো কিছু ঘটনা প্রথমে ধরে, পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন, কিন্তু কোন মন্তব্য করেননি এবং অফিসের প্রধান সহকারী রাখাল চন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উক্ত দলিল লিখকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু দলিল লিখক ও ভুক্তভোগীরা জানান, চাটখিল সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে অহরহ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে এরূপ অনেক ঘটনা করে আসছে একটি প্রভাবশালী মহল। আর এসব ব্যাপারে সহযোগিতা করে আসছে অফিস কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ