বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য চিংড়ি শিল্পের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে

খুলনা অফিস: খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সুস্বাদু চিংড়ির আলাদা চাহিদা রয়েছে বিশ্ব বাজারে। যে কারণে চিংড়ি শিল্পে শুরু থেকেই খুলনা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। অথচ অবৈধভাবে লাভবান হতে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী লাভজনক এ শিল্পটি ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড এবং র‌্যাব সদস্যরা প্রায়ই পূর্ব রূপসা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুশকৃত বাগদা ও গলদা চিংড়ি জব্দ করছে। পাশাপাশি ওই সকল অসাধু প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জরিমানা ও পুশকৃত চিংড়ি বিনষ্ট করা হচ্ছে। তারপরও থামছে না অবৈধ এ পুশ প্রক্রিয়া। শুধু পূর্ব রূপসায় নয়, কখনও কখনও পশ্চিম রূপসার নতুন বাজার ও চর রূপসা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুশ চিংড়ি জব্দ করা হচ্ছে। তবে পূর্ব রূপসা এলাকায় পুশকারীদের যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে কে কত বেশী অবৈধ এ কাজটি করতে পারে।
চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশের সাথে পুলিশের পাশাপাশি যুক্ত রয়েছে সরকার দলীয় জনপ্রতিনিধি, ওই সকল জনপ্রতিনিধিদের সমর্থনপুষ্ট রূপসাষ্ট্যান্ড দখলকারী কয়েকজন ব্যক্তি। এরাই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এ পুশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে চিংড়ি তার সুনাম হারাতে বসেছে। এই অসাধু চক্রের কারণে গত বছর বিদেশ থেকে চিংড়ির কয়েকটি চালান ফেরত আসে। যা’ বাংলাদেশের জন্য লজ্জা ও দুঃখজনক ঘটনা।
গত ১১জুলাই পূর্ব রূপসা এলাকায় নাজমুল হাসানের মালিকানাধীন তালহা ফিস নামক একটি ডিপোতে অভিযান চালিয়ে অপদ্রব্য জেলী পুশকৃত ১৬০ কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ করা হয়। অপদ্রব্য পুশের অভিযোগে ডিপো মালিক নাজমুল আহসানকে ৫০হাজার টাকা জরিমানা এবং অপদ্রব্য পুশকৃত ১৬০ কেজি চিংড়ি রূপসা নদীতে ফেলে দিয়ে বিনষ্ট করা হয়। পূর্ব রূপসা এখন যেন চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশের অন্যতম কেন্দ্র স্থল। আর এ অপদ্রব্য পুশের কারণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চিংড়ি শিল্পে অশনিসংকেত দেখা দিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১১ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড পূর্ব রূপসা এলাকায় তালহা ফিস নামক একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে অপদ্রব্য জেলী, সিরিঞ্জ ও ১৬০ কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী মোর্শেদ তালহা ফিস মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
পূর্ব রূপসা এলাকায় তালহা ফিসের মত অসংখ্য ডিপো রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করছে। ওজন বৃদ্ধি করার অপকৌশল হিসেবে চিংড়িতে জেলী পুশ করা হচ্ছে। আর এ সকল পুশকৃত চিংড়ি নামিদামি অনেক চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানা হরহামেশা ক্রয় করছেন। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে, আর সেটি হলো অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে অবৈধ এ পুশ প্রক্রিয়া। আর এ অবৈধ কাজটিতে সহায়তা করছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে রূপসা থানা পুলিশের সাথে মাসিক চুক্তি করে অবৈধভাবে এ পুশ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পুলিশ প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বেমালুম সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করছে।
এ ব্যাপারে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো রফিকুল ইসলাম পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি চিংড়িতে পুশের সাথে পুলিশের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই।
অপরদিকে মৎস্য অধিদপ্তরের মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, চিংড়িতে পুশ কোনভাবেই করতে দেয়া হবে না। পুশ বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। চিংড়ি শিল্পকে বাঁচাতে পুশকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ