মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কাতার সঙ্কট নিরসনে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক

২৪ জুলাই, বিবিসি : চলমান কাতার সঙ্কট নিরসনের লক্ষে সৌদি আরব থেকে কুয়েত পৌঁছেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। গত রোববার স্থানীয় সময় রাতে কুয়েত পৌঁছান তিনি।
বিমানবন্দরে এরদোগানকে স্বাগত জানান কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমেদ আস-সাবাহ।
তুর্কি সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলু সংস্থা বলেছে, দার সালওয়া প্রাসাদে কুয়েতি আমিরের সাথে বৈঠক করেছেন এরদোগান। বৈঠক এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছে বলে জানান হলেও বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
কুয়েতের সরকারি সংবাদ সংস্থা কেইউএনএও এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।
কাতারের সাথে সৌদি নেতৃত্বাধীন চার আরব দেশের চলমান সঙ্কট নিরসনের আঞ্চলিক দেশগুলো সফর করছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। জুনে 'সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়া' এবং ইরানের সাথে সম্পর্ক রাখার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিসর। এরপর দুই দফায় কাতারকে নানা রকম শর্ত দেয় আরব দেশগুলো, যা মানতে অস্বীকৃতি জানায় কাতার। এ সফরের মাধ্যমে এরদোয়ানের পক্ষে এই বিরোধ নিরসনে ভূমিকা রাখার সুযোগ খুবই কম।
 কেননা, তুরস্ক ইতোমধ্যেই কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, আবার একইসাথে দেশটি সৌদি আরবের বিপক্ষে অবস্থান নেবে না।
উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাতারের ওপর অবরোধ আরোপের ফলে দেশটিতে যেন খাদ্য সঙ্কট তৈরি না হয় সেই জন্য খাদ্যসামগ্রী পাঠায় তুরস্ক। সেসময় দেশটির ওপর আরোপ করা অবরোধেরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন এরদোয়ান।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাতারের সাথে তুরস্কের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। ২০১৫ সালে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশ। এ ছাড়া কাতারে সামরিক ঘাঁটিও তৈরি করেছে তুরস্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরব বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দোহাকে অন্যতম মিত্র হিসেবে আঙ্কারার অবস্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
গত বছর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনা সদস্যদের একাংশের অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টার সময় প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।
অভ্যুত্থান চেষ্টার পর এরদোয়ানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতারের বিশেষ বাহিনীর ১৫০ সদস্যের একটি ইউনিট তুরস্ক পাঠানো হয়েছিল বলেও জানা যায়। তাছাড়া দুই দেশের সরকারের মধ্যে আদর্শিক ঐক্যও রয়েছে।
মিসরভিত্তিক ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুড ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে মনে করে না দুই দেশই। আবার ইরানের প্রতিও দেশ দুটির দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম। দুই পক্ষই স্বীকার করে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তি হলো ইরান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ