বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চীনের সেনাবাহিনীর চেয়ে পর্বত নড়ানো সহজ

২৪ জুলাই, এনডিটিভি : ভূখণ্ড রক্ষার ক্ষেত্রে চীনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের ‘ভুল ধারণা’ পোষণ না করতে ভারতকে সতর্ক করেছে বেইজিং। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিকে ‘ভুল’ শোধরাতেও বলেছে দেশটি।
সীমান্ত-সংকট নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভারতের উদ্দেশে এই সতর্কতা দেয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উ কিয়ান বলেন, পিপলস রিপাবলিক আর্মিকে (চীনের সেনাবাহিনী) নড়ানোর চেয়ে পর্বত নড়ানো সহজ। সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে বলা হয়, চীনের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পিপলস রিপাবলিক আর্মির সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করা হচ্ছে। চীন দাবি করে, গত জুনে চীন ডংলাং মালভূমিতে রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। মালভূমিটিকে ভারত ও ভুটান ডকলাম নামে অভিহিত করে এবং এটিকে ভুটান নিজের ভূখণ্ড হিসেবে মনে করে। ভারত এই মালভূমিতে রাস্তা নির্মাণকে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি মনে করে কারণ এতে সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী সরু ভূখণ্ড ‘চিকেন নেক’ এ সহজে ঢুকে পড়তে পারবে চীনা সেনাবাহিনী!
গত সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, দুই দেশের সেনাবাহিনীই এই বিরোধপূর্ণ মালভূমি থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে সমস্যার সমাধানে আলোচনা বসতে হবে। তিনি বলেন, বেশির ভাগ দেশ ভারতের পদক্ষেপকে সমর্থন করে এবং মনে করে চীন ভুটানকে তার ভূখ- হস্তান্তর করতে চক্রান্ত করছে। তিন দেশের সীমান্তে যে ঝুঁকিপূর্ণ ভারসাম্য আছে চীন সেটা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আলোচনায় বসার আগে ভারতকে তার সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। ভারতকে কোনো কিছু ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়ে থাকলে হবে না এবং কোনো অবাস্তব বিভ্রমে থাকলে চলবে না। মুখপাত্র উ কিয়ান যোগ করেন, সেনাবাহিনী জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ওই অঞ্চলে এবং সেনা মোতায়েন ও মহড়া বৃদ্ধি করেছে।
ভারত ও ভুটান এলাকাটিকে ডোকলাম নামে ডাকে। দেশ দুটির দাবি, এই ভূখ- ভুটানের। এলাকাটিকে নিজেদের ডংলাং অঞ্চলের অংশ হিসেবে দাবি করছে চীন।
সিকিম সীমান্তে এক মাসের বেশি সময় ধরে ভারত ও চীনের সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে আছে। সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে ভারতের প্রতি ফের আহ্বান জানিয়েছে চীন।
তবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গত সপ্তাহেই জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতকে যদি সেনা সরাতেই হয়, তাহলে চীনকেও একই সঙ্গে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। দুই দেশ একই সঙ্গে সেনা সরিয়ে আলোচনায় বসতে পারে।  আজ চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ফের বলেছে, যেকোনো ধরনের আলোচনার আগে ভারতকে অবশ্যই সীমান্ত থেকে সেনা সরাতে হবে।
এ প্রসঙ্গে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি নিয়তির ওপর ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না ভারতের। আর তাদের কোনো অবাস্তব ভ্রমও পোষণ করা উচিত হবে না।
চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলটিতে তাদের সেনাবাহিনী জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। সেখানে আরও সেনা মোতায়েন ও মহড়া অব্যাহত থাকবে।
গত এক মাস ধরে সিকিম সীমান্ত সংলগ্ন এই মালভূমিতে মুখোমুখি অবস্থানে আছে দুই দেশের সেনাবাহিনী। ভারতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, চীনের সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে কোনো অতিরিক্ত সেনাবাহিনী নিয়োজিত করেছে। তিব্বতে যে মহড়া চালিয়েছে সেটা চীন সেনাবাহিনীর বার্ষিক মহড়া, তাতে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়েছে বলে মনে করে না ভারতীয় সেনাবাহিনী।
মালভূমিতে ১৫০ মিটার দূরে দুই পক্ষের ৩০০ জন করে সেনা মুখোমুখি অবস্থানে আছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ভারতকে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ