শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ত্রাণ পেয়েও অস্বীকার করার শাস্তি প্রকাশ্যে কান ধরে ক্ষমা চাওয়া

স্টাফ রিপোর্টার : ত্রাণ পেয়েও না পাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ করায় এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কান ধরে ক্ষমা চাওয়ানো হয়েছে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদে গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। কান ধরে ক্ষমা চাওয়া ওই ব্যক্তি দাউদপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইনাতআলীপুর গ্রামের লুৎফুর রহমান ওরফে লকুস মিয়া। তাঁর কান ধরে মাফ চাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্যাকবলিত এলাকাবাসীদের নিয়ে একটি সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। ওই দিন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিককে লুৎফুর রহমান ত্রাণ পাননি বলে অভিযোগ করেন। এ কারণে ওয়ার্ড সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন সুধী সমাবেশে লুৎফুরকে হাজির করেন। পরে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের ত্রাণ নেওয়ার তালিকায় তাঁর নাম আছে। এ নিয়ে সমাবেশে লুৎফুরকে নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল বাছিত ওরফে বাবুল তাঁর কান টেনে ধরেন। এ সময় লুৎফুর হাত জোড় করে সবার সামনে ক্ষমা চান।
লুৎফুরের কান ধরার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এইচ এম খলিল। খলিল বলেন, ছবিটি আসলে ভুল বার্তা দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। ত্রাণ পেয়েও ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ শুনে সমাবেশে উপস্থিত সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তখন এ পরিস্থিতিতে লুৎফুরকে তাঁর আত্মীয়রা সমাবেশে হাজির করেন। তিনি হাত জোড় করে মাফ চাওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
লুৎফুরের কান টেনে ধরা আবদুল বাছিত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা একই এলাকার। ওই দিন সমাবেশটা ছিল সর্বদলীয়। ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে সমাবেশ অইছে। ত্রাণ পাইয়াও না পাওয়ার কথা মিডিয়াতে কওয়ায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়। লুৎফুর তখন নিজ থেকেই মাফ চান। আপনি কান টেনে ধরলেন কেন? এমন প্রশ্নে বাবুল বলেন, আফনারা সত্য ঘটনা খোঁজ নিয়া দেখউকা, আমি তাঁরে বাঁচাইবার লাগি হালকাভাবে কান ধরছি। লুৎফুরের এই নিয়া কোনো অভিযোগ নাই।
লুৎফুর একজন দিনমজুর। মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি ‘ভুল করছিলাম’ বলে ঘটনাটি এড়িয়ে যান। এ নিয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
তবে, ওই দিন সমাবেশে উপস্থিত সাতজন প্রত্যক্ষদর্শী ও তিনজন সংবাদকর্মী জানিয়েছেন, লুৎফুরকে জোর করে সমাবেশে হাজির করা হয়। টানাহেঁচড়া করে কান ধরাতে বাধ্য করা হয়। এ সময় উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুর রহমান ঘটনা প্রত্যক্ষ করে দ্রুত সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।
অবশ্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুর রহমান দাবি করেন, তিনি এ ঘটনাটি পরে শুনেছেন। ঘটনা ঘটার আগে তিনি সেখান থেকে চলে গেছেন।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহেদ মোস্তফা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, যেভাবে তাঁকে কান ধরা হয়েছে, মাফ চাওয়ানো হয়েছে, সেটা অন্যায় হয়েছে। আমি সমর্থন করি না। তবে এর পেছনের ঘটনা হচ্ছে, ওই লোক বিগত তিন মাস ত্রাণসহায়তা পাচ্ছেন, এরপরও তিনি বলেছেন ত্রাণ পাইনি। মানুষ ক্ষুব্ধ এ কারণেই।
ইউএনও আরও বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, যে লোক তাঁর কান ধরেছেন, তিনি তাঁরই এলাকার। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা নিজেদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ নিয়ে কোনো অভিযোগও নেই। অভিযোগ পেলে প্রশাসন এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ