মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

যশোর বোর্ডে পাসের হারে শীর্ষে খুলনা

# দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া মাদরাসা শীর্ষে
খুলনা অফিস : যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে খুলনা। পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
গতকাল রোববার  প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, এবার খুলনা জেলার  ৯৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯ হাজার ৬ শ’ সাতচল্লিশজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ২৪২জন পাস করেছে। পাসের হারের দিকে থেকে খুলনার পর মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, বাগেরহাট,  নড়াইল ও মাগুরা যথাক্রমে ফলাফলের তালিকায় স্থান করেছে। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ।
খুলনার সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ জেলার শীর্ষে রয়েছে। এ কলেজ থেকে ৯০৪ জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ৮৭১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৬  দশমিক ৩৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০০জন। গতবার এ কলেজ জেলার শীর্ষে ছিল। কলেজটিতে এক হাজার ৪শ’ ৪১ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে এক হাজার ৪শ’ ১৬ জন কৃতকার্য। পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৮০ জন।
খুলনা জেলা  যশোর  বোর্ডের মধ্যে সেরা হওয়ায় এখানকার কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ কলেজে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি অনেকটা কম ছিল।
বোর্ডে জিপিএ-৫ ও পাসে মেয়েরা এগিয়ে : যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ফলাফলে জিপিএ-৫ ও পাসের হার ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, চলতি বছর যশোর বোর্ড থেকে ৫৫ হাজার ৭৯১ জন ছেলে ও ৪৪ হাজার ৯০১ জন মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। যার মধ্যে ৩৩ হাজার ১৯৪ জন ছেলে ও ৩৩ হাজার  ৮০৮ জন মেয়ে পাস করেছে। সে হিসেবে ছেলেদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ ও মেয়েদের  ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকেও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে। যশোর বোর্ডের আওতাভুক্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২ হাজার ৪৪৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।  এরমধ্যে এক হাজার ১৪২ জন ছেলে এবং ১ হাজার ৩০৫ জন মেয়ে রয়েছে।
এদিকে গত বারের দেশ সেরা যশোর বোর্ডে এবার পাসের হার এবং জিপিএ ৫ দুটোই কমেছে। গতবার পাসের হার ৮৩ দশমিক ৪২ হলেও এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ০২-তে। জিপিএ ৫ গত বার ছিল চার হাজার ৫৮৬ জনের। এবার তা নেমে এসেছে দুই হাজার ৪৪৭-এ। অর্থাৎ জিপিএ ৫-প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে এবার প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। তবে, শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এবারের ফলাফল গত বারের তুলনায় ভালো হয়েছে।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধবচন্দ্র রুদ্র সাংবাদিকদের জানান, গত বছর যশোর শিক্ষাবোর্ড থেকে যে পরীক্ষার্থী ছিল-তার একটি বড় অংশ (প্রায় ৪০ হাজার) অনিয়মিত। তারা এক বিষয়ে পরীক্ষা দেয় এবং পাস করে। ফলে ওই ফলাফল মোট পাসের হারে প্রভাব ফেলে। এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশ কম।
পরীক্ষায় জিপিএ ৫-প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এতো কম কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, 'এবারের পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা, ইংরেজি, অংক, জীববিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে ছেলে-মেয়েরা ভালো করতে পারেনি। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এসব সাবজেক্টের একটিতে খারাপ করেছে। সেই হিসেবে তারা এক বিষয়ে ভালো করে পাস করেছে। কিন্তু জিপিএ-৫ এ পৌঁছাতে পারেনি।' তিনি বলেন, 'এ বছর যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে দশ জেলার ৫৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯৫ হাজার ৬৯২ শিক্ষার্থী ২২৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ছেলে ৫০ হাজার ৭৯১ এবং মেয়ে ৪৪ হাজার ৯০১ জন। পাস করেছেন ৬৭ হাজার দুইজন।
মাধবচন্দ্র রুদ্র বলেন, 'চলতি বছর যশোর বোর্ডের অধীন চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, মেহেরপুরের মড়কা জাগরণ কলেজ (পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দুই), মাগুরার বীরেন শিকদার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ (পরীক্ষার্থীর ছয়), একই জেলার দক্ষিণ নোয়াপাড়া সম্মিলনী কলেজ (পরীক্ষার্থী চার) এবং ঝিনাইদহের ডিজিপিএল মডেল কলেজ (পরীক্ষার্থী তিন)।
পাসের হার শূন্য এসব কলেজের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অমল কুমার বিশ্বাস বলেন, 'গত বছর যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট এমন ছিল, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলোর পাঠদানের অনুমতি বন্ধ রয়েছে। এবারো নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
এদিকে খুলনার দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে আলিম পরীক্ষায় এবার এ মাদরাসা থেকে পরীক্ষার্থী ছিল ৮৪ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ ৯, এ গ্রেডে ৩৮, এ মাইনাস ২১, বি গ্রেড ১২ গ্রেড ও সি গ্রেডে একজন পাস করেছে। এ মাদরাসা থেকে ৩ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।  পাসের ৯৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
খুলনা আলিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আ খ ম জাকারিয়া জানান, এবার এ মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষার্থী ১৪৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন। এ মাদরাসা থেকে ১২ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।  পাসের হার ৮৭ দশমিক ০৭ শতাংশ।
খুলনা তা’লীমুল মিল্লাত মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এ এফএম নাজমুস সউদ জানান, এবার এ মাদরাসা থেকে ৬৩ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। জিপি এ-৫ পেয়েছে ২ জন।  এ মাদরাসা থেকে ১৮ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৬৯.৮৪ শতাংশ।
খুলনা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ রহমাতুল¬াহ জানান, এবার এ মাদরাসা থেকে ৬০ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। এর মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছে। এ গ্রেডে ১৭ জন, এ মাইনাস ১৪ জন, বি গ্রেডে ১৩ জন ও সি গ্রেডে ৫ জন পাস করেছে। এ মাদরাসা থেকে ১১ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। 
মোহাম্মদ নগর মহিলা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুসাম্মাৎ হুমায়রা খাতুন জানান, এবার এ মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় ৫৪ জন অংশ নেয়। জিপিএ-৫ একজন। এ মাদরাসা থেকে দুইজন অকৃতকার্য হয়েছ্নে। পাসের হার ৯৬.২৯ শতাংশ।
গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তবে এবার জেলা প্রশাসকের শিক্ষা বিভাগ থেকে কোন রেজাল্টশিট দেয়া হয়নি। ফলে সাংবাদিকদের ফলাফল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একমাত্র যশোর বোর্ড থেকে রেজাল্ট শিট সংগ্রহ করা ছাড়া কোন পথ ছিল না। এতে করে তাদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ফলাফলের জন্য দুপুর আড়াইটার পর থেকে নগরীর সাইবার ক্যাফে এবং কম্পিউটারের দোকানগুলোতে ছিল ফলপ্রার্থী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ