মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কুমিল্লা বোর্ডে ফল বিপর্যয় হতাশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা অফিস : উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ১০টি শিক্ষা বোর্ডেও  গড় পাসের হার ৬৮.৯১ শতাংশ হলেও ৪৯.৫২ শতাংশ পাসের মধ্যদিয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে অবস্থান সবার শেষে। গত বছরের তুলনায় এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পর এবার এইচএসসি পরীক্ষায়ও ফল বিপর্যয়ে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। শুধু মাত্র ইংরেজি বিষয়েই ৩৭.৯৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করায় এ ফল বিপর্যয় ঘটছে বলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এ বোর্ডের অধীন কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় এক লাখ ৩৭২ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৪৯ হাজার ৭০৪ জন।
এর মধ্যে বিজ্ঞানে পাসের হার ৭২.৭২, ব্যবসায় শিক্ষায় ৪৯.৬৩ ও মানবিকে পাসের হার ৩৮.৩১ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। গত বছর দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৬৪.৪৯ শতাংশ পাস করলেও পাসের হারের দিক থেকে অবস্থান ছিল সর্বনিম্ন।
এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার গত বছরের তুলনায় আরও ১৪.৯৭ শতাংশ কমে ৪৯.৫২ শতাংশ হওয়ায় তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক হাজার ৯১২ জন, এ বছর পেয়েছে মাত্র ৬৭৮ জন।
এ বোর্ডে পাসের হারে ৫০.৪৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করাসহ জিপিএ-৫ সর্বনিম্ন হওয়ায় এবং ইংরেজি বিষয়ে বেশি ফেল করায় ফলাফলে দেশের সকল বোর্ডের তুলনায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে এবং এতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এ বছর সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হয়েছে ইংরেজি বিষয়ে। ফেল করা পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭.৯৪ শতাংশ ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ইংরেজিতে ২১.৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর অধিক ফেল করেছে। এ বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭টি এবং শতভাগ ফেল করা  প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩টি।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত গত ৪ বছরের তুলনায় এ বছরই সর্বনিম্ন ফলাফল। এর মধ্যে ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ ফলাফল ছিল ৭০.১৪ শতাংশ।
দুপুরে কুমিল্লা  বোডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ইংরেজি বিষয়ে ৩৭.৯৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করার কারণে এ বছর ফলাফল খারাপ হয়েছে।
ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো.আবু তাহের জানান, এমনিতে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর মাঝে ইংরেজি ভীতি রয়েছে, এরপরও অধিকাংশ কলেজে ইংরেজি বিষয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকের অভাবে এ বছর ইংরেজিতে অধিক পরীক্ষার্থী ফেল করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ