মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বন্যা আর নদী ভাঙনে সব হারিয়ে নিঃস্ব ফুলছড়ির মানুষ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : ফুলছড়ি উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। জেলার চার উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত ১৯৪ গ্রামের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বিস্তীর্ণ আবাদি জমি থেকে প্রতিদিনই পানি নেমে যাচ্ছে। বানভাসী মানুষ নতুন করে তাদের ঘরবাড়ি ও বাড়ির উঠান মেরামত করতে শুরু করেছেন।
তবে পানিবন্দী আড়াই লাখ মানুষের অনেকেই এখনও খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে রয়েছেন। দুর্গতদের মধ্যে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্রক্ষপুত্র নদের পশ্চিম তীরের উচু বাঁধ ও রেলের জায়গায় আশ্রয় নেওয়া শত শত পরিবার।
এসব পরিবারে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া পয়নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এসব মানুষ আরও বিপাকে পড়েছেন। অনেকের মধ্যে পানিবাহীতসহ বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই ছড়িয়ে পড়লেও মিলছে না পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা।
কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসী ঘাটের রেলের জমিতে আশ্রয় নেওয়া জোহরা বেগম বলেন, ‘বন্যার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে রেলের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। থাকার মতো খড়ের ছাপড়া তুলে তার মধ্যে হাঁস-মুরগিসহ স্বামী সন্তান নিয়ে থাকতে হচ্ছে। হাতে টাকা আর কাজকর্ম না থাকায় চাল, ডাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।’
আমেনা বেগম বলেন, ‘১৫ দিন ধরে আশ্রয় নিয়ে থাকলেও কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি। এমনকি কেউ খোঁজ খবরও নেয়নি তাদের। বিশুদ্ধ পনি, খাবার ও পয়নিষ্কাশনের অভাব থাকায় দুর্ভোগ বাড়ছে। কোন রকম এক বেলা দুমুঠো ভাত জুটলেও কপালে জোটেনা তরকারি। এ কারণে আলু ভর্তা, কচু ভর্তা, পাট শাক যাই পাওয়া যাচ্ছে তাই দিয়ে ভাত খেতে হচ্ছে।’
আনোয়ার হোসেন নামে আরও একজন বলেন, ‘বন্যা আর নদী ভাঙনে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছি। রেলের জায়গায় গরু, ছাগল নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু এভাবে এখানে কতদিন থাকতে পারবো তাও জানি না।’
এবারের বন্যায় জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার আড়াই লাখ মানুষ পনিবন্দী হয়ে পড়েন। কয়েকদিন ধরে পানি কমা শুরু করলেও এখনও অধিকাংশ লোকজন পানিবন্দী রয়েছেন। বন্যার পনিতে ডুবে ইতোমধ্যে জেলার চার উপজেলার বিস্তীণ জমির ফসল পচে নষ্ট হয়েছে। চার উপজেলায় বন্যায় ব্যাপক ফসল নষ্ট হয়েছে।
এছাড়া পুকুরের মাছ, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পানিতে ভেসে যাওয়ায় ক্ষতির শিকার হয়েছেন বানভাসীরা।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুল হালিম টলষ্টয় বলেন, ‘বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা অব্যহত রয়েছে। আশ্রয় নেওয়া মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের সহায়তা করার জন্য প্রক্রিয়া চলছে।’
সুন্দরগঞ্জে ১৫০ গৃহহীন ঘর পাচ্ছে
সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১’শ ৫০ জন গৃহহীন মানুষের সরকারি ভাবে ঘর বরাদ্দ মিলেছে।
জানা গেছে, সরকার গৃহহীন মানুষের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করণের জন্য “জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” প্রকল্প হাতে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের প প্রত্যেকটিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ১০টি করে ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ মেলে।
ইতিমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তালিকা প্রস্তুত করে ঘর গুলো নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। এতে করে উপজেলার ১৫০টি গৃহহীন পরিবার মাথা গোজার ঠাই খুঁজে পাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় প্রতিটি টিন সেড ঘর ১ লাখ টাকা ব্যয়ে কংক্রিট খুটি দিয়ে সাড়ে ১৬ ফুট বর্গাকৃতি আকারে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ঘর গুলো আগামী ২ মাসের মধ্যে সুবিধা ভোগিদের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
পলাশবাড়ীতে মানববন্ধন
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বাল্য বিবাহ-মাদক- যৌতুক ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার পলাশবাড়ী উপজেলা পেশাজীবী ফোরাম ও আরডিআরএস বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে সদরের চৌমাথায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলার পেশাজীবী ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে মানবন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, আরডিআরএস গাইবান্ধার জেলা সমন্বয়কারী পোরশীয়া রহমান, স্থানীয় এনজিও পল্লী অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও উপজেলা পেশাজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুরুজ হক লিটন প্রমুখ।
এ সময় আরডিআরএসের ইউনিয়ন ফোরামের সদস্যগণ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাঘাটায় জাতীয় করণের দাবিতে শিক্ষকদের সমাবেশ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক গত রোববার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধ্যাপক মতিতুল হক নয়নের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমাবেশে জরুরি ভিত্তিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জাতীয় করণ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক মাহমুদুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন,  প্রভাষক শাহ আলম, শিক্ষক মবিনুল ইসলাম বুলু, প্রভাষক গোলাম কিবরিয়া অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন, আব্দুল জলিল প্রমুখ। সমাবেশ শেষে শিক্ষকদের এক বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার বোনারপাড়ার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ