মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই চিকিৎসকদের হাইকোর্টে তলব

স্টাফ রিপোর্টার : পটুয়াখালীর বাউফলে এক প্রসূতির অস্ত্রোপচারের সাড়ে তিন মাস পর তার পেট থেকে গজ বের করার ঘটনায় পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন, বরিশাল মেডিকেলের গাইনি বিভাগের প্রধান ও বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১ আগস্ট তাদের এ ঘটনায় আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ কেন আনা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ৯ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গতকাল রোববার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
২২ জুলাই ‘সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হলো গজ!’ শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লাহ।
পরে আইনজীবী শহিদ উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ওই ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন, বরিশাল মেডিকেলের গাইনি বিভাগের প্রধান ও বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারীকে ১ আগস্ট আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওই ঘটনায় কেন তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হবে না তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের সামান্য অবহেলায় রোগীর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চে সন্তান প্রসবের জন্য মাকসুদা বেগমকে (২৫) বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে নেয়া হয়। অস্ত্রোপচার করে মাকসুদা বেগমের একটি মেয়ে হয়। কয়েক দিন ক্লিনিকে থাকার পর তারা বাড়ি ফেরেন। এক মাস পর মাকসুদা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় আবারও ওই ক্লিনিকে যান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন। দুই মাস পর খিঁচুনি দিয়ে জ্বর ওঠে। তখন খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। গত জুনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেখানো হয়। তখন আল্ট্রাসনোগ্রাফিতেও কিছু ধরা পড়েনি।
এরপর পটুয়াখালীর এক চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। গত ১২ জুলাই হাসপাতালে মাকসুদা বেগমের পেটে অস্ত্রোপচার হয় তখন তার পেটের ভেতর থেকে গজ বের করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ