ঢাকা, শনিবার 15 August 2020, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

'ইয়েমেনে মানবীয় সংকট মানবতার জন্য চরম লজ্জা’

কেয়ার-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উলফগ্যাঙ জ্যাম্যান

অনলাইন ডেস্ক: মানবিক ও ত্রাণ সহায়তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কেয়ার’ ইয়েমেনের মানবীয় বিপর্যয়কে ‘মানবতার জন্য চরম লজ্জা’ বলে মন্তব্য করেছে।Cooperative for Assistance and Relief Everywhere তথা কেয়ার-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উলফগ্যাঙ জ্যাম্যান গতকাল (শনিবার) ইয়েমেনে ৫ দিনের সফর শেষ করার পর সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেছেন। 

তিনি বলেছেন, আমরা বর্তমানে একবিংশ শতকে বসবাস করছি, কিন্তু ইয়েমেনের এখন যে পরিস্থিতি তা ‘মানবতার জন্য চরম লজ্জা’।

কেয়ারের প্রধান বলেন, ইয়েমেনে ষাট শতাংশ অঞ্চলে খাদ্য নিরাপদ নয় এবং দেশটির অর্ধেকেরও বেশি জনগণ পান করার নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। ইয়েমেনের বহু অঞ্চল এখন দুর্ভিক্ষাবস্থার দ্বারপ্রান্ত থেকে মাত্র এক পা দূরে রয়েছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কেয়ার-এর প্রধান নির্বাহী ইয়েমেনিদের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে বিশ্ব-সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানকার হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত ও কয়েক মিলিয়ন মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে বলে তিনি জানান। 

আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র এই দেশে কলেরা মহামারির মত ছড়িয়ে পড়ছে। গত এপ্রিল মাস থেকে সেখানে কলেরায় ১৮২৮ জন মারা গেছে। আর প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার ইয়েমেনি সেখানে এই রোগের শিকার হয়েছেন। কলেরা রোগে আক্রান্ত ইয়েমেনির সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ত্রাণ সংস্থা অক্সফাম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশটিতে কলেরা-আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা কোনো একটি দেশের এক বছরের কলেরা-আক্রান্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সংখ্যার রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনে গত দুই বছরে নিহত হয়েছে প্রায় ১২ হাজার বেসামরিক নাগরিক এবং আহত হয়েছে প্রায ৪৪ হাজার ৫০০ জন। এ ছাড়াও দেশটির অবকাঠামোর এক বিশাল অংশ সৌদি বিমানের নির্বিচার বোমা বর্ষণে ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটির ওপর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

ইয়েমেনে পছন্দের সরকার তথা পলাতক মানসুর হাদি সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ও বিশ্ব-অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্রাণ-রেখা হিসেবে বিবেচিত বাব আল মান্দেব প্রণালীসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সৌদি সরকার এবং তার কয়েকটি মিত্র দেশ ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। 

ইয়েমেনে কয়েক বছর আগে এক জনপ্রিয় গণ-আন্দোলনের মুখে সৌদি-মার্কিন ও ইসরাইলি কর্তৃত্বপনা এবং তাদের হস্তক্ষেপকামী নীতির বিরোধী কয়েকটি দল ও আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতৃত্বাধীন সরকার রাজধানী সানাসহ দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। হুথি গোত্রের শিয়া মুসলমানদের প্রাধান্য রয়েছে এই আনসারুল্লাহ আন্দোলনে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ