মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সীমান্তে সমস্যা

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ভারতের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে বলে আমরা জানি। এরপরও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা ও অপহরণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ৩ দিনে শুধু সাপাহার সীমান্তেই ৫ জন বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ। বিএসএফ-এর হাতে আটক গরু ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলামকে ফেরত পাঠাতে চিঠি দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উল্লেখ্য যে, গত ২০ জুন সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোসালপুর সীমান্তে বিএসএফ গুলী করে স্কুলছাত্রসহ দুই বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। এছাড়া জলাশয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতীয় নাগরিকদের বিরোধের জের ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জামিনপুর সীমান্তে গত ২৫ মার্চ দুপুরে তাণ্ডব চালায় বিএসএফ। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রায় ১০০ গজ ভিতরে ঢুকে বিএসএফ-এর সাউন্ড গ্রেনেড হামলায় নারী ও শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশী নাগরিকদের মনে আতঙ্ক ও ভীতি বিরাজ করছে।
বর্তমান সরকারের সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর বলে দাবি করা হলেও সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের মাত্রা মোটেও হ্রাস পায়নি। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি বিএসএফ’র চলমান নৃশংসতায় পর্যবেক্ষকরা বিস্মিত। ভারতের সাথে পাকিস্তান, চীন, নেপাল ও ভূটানের সীমান্ত রয়েছে। কোথাও বিএসএফ-এর এমন আচরণ লক্ষ্য করা যায় না। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেই বিএসএফ সবচেয়ে বেশি মানুষ হত্যা করছে। বিএসএফ-এর নৃশংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। বাংলাদেশের সীমান্ত প্রহরী বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে বিস্মিত হতে হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা সীমান্ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, বিএসএফ নিজেদের আত্মরক্ষার্থেই সীমান্তে গুলী চালায়। সীমান্ত চোরাচালানকারীরা খুব দুর্ধর্ষ মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সীমান্ত হত্যা এখন অনেক কম। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় আনতে বিজিবি-বিএসএফ যৌথভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানান। এমন বক্তব্যে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুসারে কোন দেশ অন্য দেশের নাগরিককে হত্যা করতে পারে না। কেউ যদি অন্যায় করে তবে তাকে গ্রেফতার করে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু এসবের কিছুই মানছে না বিএসএফ। তাদের গুলীতে অহরহ নিহত হচ্ছে বাংলাদেশী নাগরিকরা। যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না। সীমানায় স্থাপনা নির্মাণের আইনও মানছে না ভারত। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোন স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। কিন্তু ভারত ৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে বলে দৈনিক সংগ্রামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। স্বীকৃত বিধি-বহির্ভূত কর্মকা-ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবাদসহ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে বন্ধুত্ব বিনষ্ট হওয়ার কথা নয়। পৃথিবীর সব স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজেদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখার অধিকার রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ