সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চিকুনগুনিয়ার সহজ হোমিও চিকিৎসা

ডা: মো: ইকবাল হাসান : হোমিও প্যাথি চিকিৎসা নিয়ে তিরস্কার করেন এমন অনেকের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই এক সময় হোমিও চিকিৎসার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে এই চিকিৎসা গ্রহণ করে উপকৃত হয়েছেন। এই প্যাথির চিকিৎসা নীতি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকে এরূপ করে থাকেন। এই চিকিৎসা ব্যবস্থার মৌালিক কথা হল; রোগ নয় রোগীর চিকৎসা। অসুস্থ লোকটির সকল সিমটম গ্রহণ করে সমস্যার; রুট; নির্ণয় করে রোগ নির্ধারণ করা হয়। হোমিও পদ্ধতিতে সমস্যার ভিত্তিমূলকে রোগ হিসেবে গণ্য করে অন্যান্য সমস্যাকে রোগের সিমটম হিসেবে ধরা হয়। কারণ দেহে নানা সমস্যা দেখা দেয় নানা রূপে। অথচ এর ভিত্তিমূলে হাত দিলে দেখা যায় ভিত্তিমূল অভিন্ন। আবার একই সমস্যা তার ধরন বা সিমটম অনুসন্ধানে দেখা যায় তার ভিত্তিমূল ভিন্ন। আর রোগের সিমটম নিখুঁতভাবে নির্ণয় করলে রোগ নির্ণয় করাও সহজ হয়। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সময় নতুন নতুন রোগের আবির্ভাব হয়। এ নিয়ে নানারকম আলোড়ন এবং আতংক তৈরি হয়। আমাদের দেশে এর আগে ডেঙ্গু নিয়ে বেশ আতংক ছড়ায়। চলতি আতংক চিকুনগুনিয়া।
এ নিয়ে সভা-সেমিনার আলোচনা চলছে বিস্তর। এর পাশাপাশি চিকিৎসকরা ঘাম ঝরাচ্ছেন এই রোগের ওষুধ নির্ণয়ে এবং আক্রান্ত মানুষকে স্বস্তি দিতে। সব পদ্ধতির চিকিৎসকগণই এই রোগের ওষুধ নির্ণয়ে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ্যালোপ্যাথির চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ এ রোগ নিয়ন্ত্রণে সকল প্রকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হোমিওপ্যাথিসহ অন্যান্য পদ্ধতির চিকিৎসকগণ যার যার স্থান থেকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করছেন। একজন হোমিও চিকিৎসক হিসেবে আমিও আমার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি এবং মানুষের কষ্ট লাঘবে কিছুটা হলেও অবদান রাখার চেষ্টা করছি। আগেই বলেছি হোমিও প্যাথি পদ্ধতিতে সিমটমকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যস্থাপত্র দিয়ে থাকে। বর্তমান আতংক সৃষ্টিকারী রোগের নাম চিকুনগুনিয়া দেয়া হলেও আমি আমার পদ্ধতি অনুসারে এ রোগের সিমটম বিশ্লষণ করে আক্রান্ত অনেক রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছি। আমার নিকট আসা রোগীদে প্রায় সবাই সহজ ও সল্প সময়ে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। আর বিষয়টি জনকল্যাণে মানুষকে জানানোর জন্য আমার ক্ষুদ্র চেষ্টা। এপর্যন্ত দেখা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের প্রায় অভিন্ন সিমটম। প্রচণ্ড শরীর ব্যথা। যা রোগ আক্রান্ত হওয়ার শুরুতেই লক্ষণীয়। পরক্ষণেই প্রচণ্ড জ্বর মাথা ব্যাথা। চোখ রক্তিম বর্ণ। শরীরের জোরায় জোরায় ব্যথা। তবে পায়ের দিকটায় অধিক ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত শীতল দেখা যায়। রোগের প্রকপে অনেকের ক্ষিচুনি ভাব দেখাযায়। রোগের উগ্রতায় অনেককে আতঙ্কজনকভাবে তাকাতে দেখা যায়। অনেক সময় রোগীকে নিরব হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোগমুক্ত হওয়ার পরও প্রায় সবাইকে খুড়িঁয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। তাই অনেকে এটাকে ল্যাংরা রোগ বলে মন্তব্য করেন। আমার স্বল্প বিদ্যা নিয়ে আমি আমার চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসারে সমাধানের চেষ্টা করি। আমি আমার বিবেচনায় রোগীদের ব্যবস্থা দেই। ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগীদের সবাই সহজ ও সাদামাঠা রোগের মত সহজে সুস্থ হয়ে আনন্দিত। মানুষের কল্যাণে এবং মানুষের ভোগান্তি লাঘবে আমি বিষয়টি মানুষকে জানাতে উদগ্রিব হই।
এই পর্যন্ত সফলভাবে ব্যবহৃত ওষুধগুলো হল : বেলাডোনা -২০০ এবং ব্রাইওনিয়া ৩০। এ দুটি ওষুধ পর্যায়ক্রমে চার ঘন্টা অন্তর সেবনে রোগী স্বল্প সময়ের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে ব্যথাসহ সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরো কিছুদিন ওষুধ চালিয়ে যাবেন। মাস বা বছর নয়, ১৫ দিনের মধ্যেই ব্যথা মুক্ত স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবেন।
এ পর্যন্ত এই চিকিৎসা গ্রহণ করা রোগীদের ফলাফলে এটা প্রমাণিত হয়েছে। রোগে উগ্র অবস্থায় অবশ্যই মাথায় পানি দিবে অথবা পানি পট্টি দিবেন, মাঝে মাঝে শরীর মুছে দিবেন। রোগের উগ্রতা কমে আসলে শরীরের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠে। রোগের উগ্রতা কমে আসলে বেলাডোনা এবং ব্রাইওনিয়া ওষুধ দুটির মধ্যে সময়ের দূরত্ব বৃদ্ধি করে দুটি ওষুধের মধ্যবর্তী সময়ে নেট্রম মিউর ৩০ ব্যবস্থা করলে দ্রুত দুর্বলতা সেরে উঠবে । আমার ব্যবস্থাপত্র কাজে লাগিয়ে একজনও উপকৃত হলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ