বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এত খারাপ সময় আর কখনও আসে নাই

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় স্মরণ মঞ্চের উদ্যোগে ইসমাইল হোসেন সিরাজীর জীবন ও রাজনীতি শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কথা বলার স্বাধীনতাও সীমিত করে রখেছে বলে দাবি করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, দেশে এখন শনির দশা চলছে। দেশে গণতন্ত্র নাই। কথা বলার স্বাধীনতা নাই। তাই বিএনপিকে বলি।  এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের বললে আবার আমাকে জেলে পাঠিয়ে দিতে পারে।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে এসব কথা বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। কবি ইসমাইল হোসেন সিরাজীর ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় কবি আবদুল হাই শিকদারও বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিক।
দেশে এখন গণতন্ত্র নেই দাবি করে তা প্রতিষ্ঠায় কী কী করা উচিৎ, সে বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠানে পাশে বসা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর উদ্দেশ্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দুদু ভাই এখানে আছেন, হয়ত উনারা আগামীতে ক্ষমতায় যাবেন, তাই উনাদেরকে বলি। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের বললে আবার আমাকে জেলে পাঠিয়ে দিতে পারে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের ষড়ন্ত্রের অভিযোগে রাষ্ট্রদোহের একটি মামলায় দুই বছর আগে ২৮ মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল সাবেক ছাত্রনেতা মান্নাকে।  কারাগারের ভয় উপেক্ষা করতে সাবেক ছাত্রনেতা দুদুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যেও কথা বলতে সাহস করুন।
মান্না বলেন, দুদু (শামসুজ্জামান দুদু) মাইন্ড করবেন না। আমরা কেবল ওয়ান ডে ডেমোক্রেসি চাই না, আমরা কেবল আওয়ামী লীগের বদলে আরেকটা দল ক্ষমতায় আসুন সেটা চাই না। আমরা চাই সেই রকম একটা দেশ গড়তে যেখানে সবাই সুখে থাকেন, সবাই ভালো থাকেন।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, যখন ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় নির্বাচিত হয় এবং সেই থেকে ক্ষমতাসীনরা বগল বাজান, তখন বুঝতে হবে সেই দেশে শনির দশা লেগেছে।
গণতন্ত্রহীনতাকে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের জন্য দায়ী করে মান্না বলেন, বিশ্বের বহু জায়গায় উদাহরণ আছে, যেখানে গণতন্ত্রের বদলে স্বৈরতন্ত্র এসেছে, সেখানে সঙ্গীত ডেভেলপ করেনি, সেখানে সাহিত্য রচনা হয়নি, সেই জায়গায় মানুষের মূল্যবোধের বিকাশ হয়নি। আমরা এখন দিনে দিনে সেই জায়গায় যাচ্ছি।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ভুটানের প্রাইম মিনিস্টার বলছেন যে, আমরা জাতীয় উন্নতি, অর্থনীতির উন্নতি জিএনপি (গ্রোস ন্যাশনাল প্রোডাক্ট) দিয়ে নির্ধারণ করি না, আমরা করি জিএনএস গ্রোস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস দিয়ে।
এই হ্যাপিনেস মাপা যাবে কীভাবে? উনারা তারও কিছু ব্যারোমিটার তৈরি করেছেন। একটা যেমন বলছেন, একটা দেশের অর্ধেক অংশ বনাঞ্চল থাকা উচিৎ। বলছেন, আমরা খুবই হ্যাপি আমাদের ৭০ শতাংশ বনাঞ্চল।
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নে রোল মডেল বলে ক্ষমতাসীনদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে মান্না বলেন, আরে রোলই না, তার আবার মডেল কী? বলে যাচ্ছেন। কোনো ট্যাক্স লাগে না যা ইচ্ছা বলে যাচ্ছেন।
 আলাচনায় অংশ দিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এত খারাপ সময় আর কখনও আসে নাই। এখন গণতন্ত্র নাই, স্বাধীনতা নাই, ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য নাই।  এমন একটা সময় আমরা অতিক্রম করছি বাঁশের ছায়াকেও সন্দেহ করতে হচ্ছে- এই বোধ হয় আমাকে গাড়িতে উঠিয়ে নেবে, এই বোধ হয় আমার চোখ বাঁধবে। একটা জবাবহীন সমাজের জন্ম দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে নিন্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সব রাজনৈতিক দলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
ভয়াবহ গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য বিএনপির এই ভাইস-চেয়্যারম্যান বলেন, আপনারা যদি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চান তাহলে এ কথা আমাকে বলতেই হবে, ছোট ছোট আন্দোলন দেখেছেন এবার হবে ইতিহাসের ভয়াবহ সেই গণআন্দোলন; যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে আপনাদের পতন ত্বরান্বিত হয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পন্ডিত আখ্যা দিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প-িত প্রধান নির্বাচন কমিশন সব জানে; শুধু জানে না, কাকে দিয়ে কারা থাকলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। কয়েক দিন আগে তিনি ঠাস করে বলে ফেললেন বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, এ কথা বলে তিনিতো এক পক্ষে চলে গেলেন আমরা যে সহায়ক সরকারের দাবি করছি সেটা বললেন না। সিইসিকে একটু ভেবে চিন্তে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
দুদু আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন বললেন নির্বাচনের তিন মাস আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তারা কাজ করবেন। আপনারা তো পাঁচ বছরের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন। তিন মাস আগে যদি আপনারা কাজ করেন তাহলে পাঁচ বছরের বেতন নিবেন কেন? সরকারের পক্ষে যদি কথা বলেন; আমরা আপনাকে মানবো কেন? আপনারা তো নিজেরাই নিজেদেরকে বিতর্কিত করছেন।
দুদু অভিযোগ করেন, পুরো সমাজটাই এখন জেলখানা, পুরো দেশটাই এখন কারাগার। আর এর রক্ষক হচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে এখন ভয় ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বুদ্ধিজীবীদের ঘায়েল করার জন্য এত নিচু কাজ করা হচ্ছে যা কল্পনা করা যায় না।
জবাবহীন একটি সমাজের জন্ম দিয়েছে বর্তমান সরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে পুলিশ জনগণের ট্যাক্সে বেতন পায় তারা এখন বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের হামলা, মামলা নিয়ে ব্যস্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ