বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সকলের সহযোগিতা চাই -শাওন

গাজীপুর সংবাদদাতা : নন্দিত কথা সাহিত্যিক মরহুম হুমায়ূন আহমেদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। গাজীপুরে নুহাশ পল্লীতে মরহুম কথা শিল্পীর সমাধিতে শাওনের সাথে তার বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, মা জহুরা আলী, ছেলে নিষিদ, নিনিত, বোন ও ভক্তদের নিয়ে তার স্ত্রী পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ ও কবর জিয়ারত করেছেন। এসময় নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা কর্মচারী এবং স্থানীয় সড়কঘাট হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে বর্ষণমুখর এই দিনেও হুমায়ূন আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন মরহুম লেখকের ভক্ত ও অনুরাগীরা। ‘হিমু’রাও এদিন তাদের কর্মসূচি ও হিমু পরিবহন নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল হুমায়ূনের সমাধিস্থলে।
হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন নুহাশ পল্লীতে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা তার যে বড় স্বপ্ন ছিল সে স্বপ্ন আমার একার পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এদেশের গুণীজন, নীতিনির্ধারক যারা রয়েছেন, হুমায়ূন আহমেদের পাঠক, ভক্ত শুভাকাক্সক্ষী, দর্শক যারা রয়েছেন এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, নুহাশ পল্লী হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে প্রিয় স্থান। তিনি সবুজকে যেভাবে ভালবাসতেন সেভাবেই নুহাশ সাজানো গোছানো রয়েছে। সবুজ বৃক্ষের ছায়ায় তিনি শুয়ে আছেন। নেত্রকোণায় তার যে স্কুলটি রয়েছে সেটির জেএসসি এবং এসএসসির ফলাফল শতভাগ ভাল। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এ প্লাস পেয়েছে। এ দুটি স্বপ্ন তার ভালভাবেই বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে আমার মনে হয়েছে।
হুমায়ূন আহমেদের ডাকে সকল ভক্ত অনুরক্তরা যেভাবে এগিয়ে আসে একক আমার ডাকে আমার আহ্বানে সেভাবে এগিয়ে আসবে না। তার এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে অংশ নিতে হবে। আমি তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি। এজন্য হুমায়ূন আহমেদের প্রতি ভালবাসার টানে সকলকে ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসলেই তার এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। আর আমি তার এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবসময়ই থাকব, আজীবন চেষ্টা করে যাব।
শাওন অনুরোধ করে বলেন, হুমায়ূন আহমেদের এ স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরের বিভিন্ন সময়ে হুমায়ূন আহমেদের অগণিত দর্শক নুহাশ পল্লীতে যাতায়াত করেন। নুহাশ পল্লীর যাতায়াতের রাস্তাটি গত তিন বছর যাবত মানুষের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করতে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকসহ সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
এদিকে, সমাধিতে সকাল পৌণে ১১টায় প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হুমায়ূন আহমেদের ছোট বোন সুফিয়া হায়দার। গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামে তার সমাধিতে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় তার পরিবারের কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১১টায় গাজীপুরের হুমায়ূন ভক্তরা তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
হুমায়ূন আহমেদের ছোট বোন সুফিয়া হায়দার বলেন, ঢাকার পল্লবীতে হুমায়ূন আহমেদের যে দোতলা বাড়ি রয়েছে সেটি হুমায়ূন স্মৃতি জাদুঘর করা হবে। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের ভাই ড. জাফর ইকবাল চিকুনগুনিয়া রোগে অসুস্থ এবং অপর ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব বাইপাস সার্জারীর কারণে তার সমাধিতে আসতে পারেননি।
গাজীপুরের হিমু পরিবহনের প্রধান সমন্বয়কারী নাসরিন সুলতানা বেবী বলেন, হুমায়ূন আহমেদ স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার সামাজিক প্রদিষ্ঠানসমূহে ৫’শ বনজ, ফলজ ও ওষুধি গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। এছাড়াও হিমু পরিবহনের পক্ষ থেকে কুরআন খতম করা হয়েছে। ক্যান্সার সচেতনতায় সারাদেশব্যাপী লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। নেত্রকোণায় হুমায়ূন আহমেদের শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা শোক বইয়ে দর্শনাথীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। আগামী তিনদিন এ কর্মসুচী চলবে।
নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মৃত্যুার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কমপক্ষে ৬শ’ লোকের আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়েছে। এতিম শিশু ছাড়াও হিমু পরিবারের ৯০ জন হিমু, বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অতিথি, এলাকার লোকজন ও হুমায়ূন স্যারের পরিবারের লোকজন সকাল ১১টার মধ্যে চলে এসেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ