বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

মাছে ভেজাল না দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কেআইবি মিলনায়তনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৭ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ছবি : বাসস

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মৎস্য সম্পদের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে সামান্য মুনাফার লোভে মাছে ভেজাল না দিতে মৎস্য ব্যবসায়ী, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিতে সম্পৃক্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কিছু মানুষের একটু ভেজাল দেবার প্রবণতা রয়েছে। এই ভেজাল দিয়ে বেশি মুনাফা করতে গিয়ে একেবারে নিজের ব্যবসারও সর্বনাশ। দেশেরও সর্বনাশ। এই সর্বনাশের পথে যেন কেউ না যায়। বিশেষ করে আমাদের মৎস্য ব্যবসায়ীরা।’
তিনি বলেন, ‘রপ্তানির ক্ষেত্রে সবসময় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যাতে কোনরকম অভিযোগ যেন আমাদের বিরুদ্ধে না আসে। মাছচাষ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো-সামান্য একটু মুনাফার লোভে নিজের ব্যবসাটাও যেমন নষ্ট করবেন না, তেমনি দেশের রপ্তানি বা পণ্যটাও আপনারা নষ্ট করবেন না।’
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ মিলনায়তনে জাতীয় মৎস সপ্তাহ-২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
বর্তমানে দেশেও মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। আগে একজন রিক্সাওয়ালা যেখানে শুধু চাল কিনতে সক্ষম ছিল, সে এখন একটু মাছও সাথে কিনতে পারে। একজন দিনমজুরের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য চাহিদাও বাড়বে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যত বাড়বে, আমাদের বাজারও ততটা বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
প্রধানন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেখলাম চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি নেবে না। কেন না, চিংড়ি মাছের মধ্যে লোহা ঢুকিয়ে দিয়ে ওজন বাড়িয়ে সেটা রপ্তানি করা হয়। এটা যখনই ধরা পড়ে সাথে সাথেই চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলে মৎস্য খাতের উন্নয়নের জন্য সেই সময় ৪০ কোটি টাকা এবং একটি কমিটি করে দেই। সেই টাকা দিয়ে প্রত্যেকটি হ্যাচারি উন্নত করা হয়। ধীরে ধীরে মানসম্পন্ন রপ্তানির মধ্যদিয়ে আবার মৎস্য রপ্তানি সচল হয়।
মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী সায়েদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহমুদুল হাসান খান বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুরোধ করেছিলাম যেমন আমাদের  কৈ মাছ, মাগুর মাছসহ দেশী মাছের ওপর গবেষণার জন্য। আগে দেখতাম তেলাপিয়া ও কার্প জাতীয় মাছ নিয়েই কেবল গবেষণা চলত। কোন মাছটার বাজারে চাহিদাটা বেশি সেটা নিয়েই আমাদের গবেষণা করা, উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং প্রক্রিয়াজাত করে সেটা বিদেশে রপ্তানি করা প্রয়োজন।
১৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত এবারের মৎস্য সপ্তাহ উদযাপিত হচ্ছে। মৎস্য সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বদলে দেব বাংলাদেশ।’
তিনি বলেন, আজ দেশের ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা মৎস্য সম্পদের সাথে সম্পর্কিত। জিডিপিতে মৎস্যসম্পদের অবদান প্রায় ৪ শতাংশ। প্রাণিজ আমিষের ৬০ ভাগ যোগান দেয় মৎস্য খাত।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ১৩ জন মৎস্যচাষি এবং প্রতিষ্ঠানকে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেব স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক প্রদান করেন। এদের মধ্যে ৪ জন স্বর্ণ এবং ৯জন রৌপ্য পদক লাভ করেন। পদক ও সনদপত্রসহ নগদ ৫০ হাজার এবং ৩০ হাজার টাকার চেকও বিজয়ীদের প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
আবহমানকাল থেকেই ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ বলেই আমাদের পরিচিতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমের বিশাল প্লাবনভূমি - যা স্বাদু পানির মাছের প্রধান প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র। এছাড়াও রয়েছে বিশাল সমুদ্র। এই সমুদ্রে আরও যোগ হয়েছে মিয়ানমার ও ভারতের থেকে আইনী লড়াইয়ে অর্জিত গভীর সমুদ্রের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা। স্বাদু পানি এবং বিশাল এই সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তথা মৎস্য আহরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
 শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কৃষিজ আয়ের ২৪ দশমিক ৪১ ভাগ আসে মৎস্য খাত থেকে এবং জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ৩ দশমিক ৬১ ভাগ। তাছাড়া মাছ প্রাণিজ আমিষের ৬০ ভাগ যোগান দেয় ও  বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এ খাতের বিশেষ অবদান উল্লেখযোগ্য।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিপন্নপ্রায় মৎস্য প্রজাতির সংরক্ষণ, প্রজনন ও বংশ বিস্তারের জন্য মুক্ত জলাশয়ে অভয়াশ্রম স্থাপন ও এর সংরক্ষণে দেশের মৎস্য খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে আরও তৎপর হবেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী গণভবনের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ