মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

বাগমারায় মাদকের রমরমা ব্যবসা

বাগমারা (রাজশাহী) থেকে আফাজ্জল হোসেন : রাজশাহীর বাগমারায় র‌্যাব ও পুলিশের অব্যাহত অভিযানে বন্ধ হয়নি বেপয়ারা মাদক ব্যবসা। মাদক দ্রব্যব্যের রমরমা ব্যবসায় ও মাদকসেবীদের অবাধ চলাফেরায় অভিভাবক মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আসক্ত মদক সেবীদের চিকিৎসা কিংবা নিরাময় কেন্দ্র উপজেলায় না থাকায় মাদকাসক্তদের নিয়ে অভিভাবকরা বেকায়দায় রয়েছেন। ব্যবস্থা গ্রহণে ইচ্ছা থাকলেও বড় উপজেলা হওয়ার কারণে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উপজেলার চিহ্নিত স্পটে খোলামেলায় মাদক বিক্রি ও সেবনে এলাকার অভিভাবক মহল তাদের সন্তানাদিদের কালো নেশার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ উপজেলা। উপজেলা বড় ও ঘনবসতি হবার কারণে উপজেলায় সর্বত্রই মাদক ব্যবসায় বেসামাল অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন চরমপন্থী ও জে এম বি’র তৎপরতা বর্তমানে কমে গেলেও নতুন করে মাদকের মরণ ছোঁয়ায় যুবসমাজ ধংসের দিকে এগিয়ে চলেছে। হাত বাড়ালে হাতের নাগালে মেলছে নেশা দ্রব্য। অভিজ্ঞমহলের অভিমত মাদকের পাওয়ার সহজলাভ্যতায় দ্রত ব্যবহার বাড়ছে। এতে করে নিশায় ঝুঁকছে স্কুল, কলেজ পড়–ড়া ছাত্র ও ছাত্রীরাসহ যুবক ও ছোটরাও। দিবারাত্রি মাদক সেবিদের যত্রতত্র চলাফেরায় সর্বমহলে অসন্তোস দেখা দিয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ভবানীগঞ্জ, মচমইল, হাটগাঙ্গোপাড়া, বীরকুৎসা, তাহেরপুর বাজার, সিকদারীহাট, দেউলিয়া, চাঁনপাড়া, তালঘরিয়া, মাদারীগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজারে ও সংশ্লিষ্ট এলাকার বাড়িতে গাঁজা, চোলাই মদ, বাংলা মদ, ফেন্সিডিল ও হেরোইন অবাধে বিক্রি চলছে। মরণ নেশার ছবলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই অসহায় হয়ে ফিরছে। আসক্তদের নিয়ে অভিবাবক মহল বেকায়দায়। নিশাগ্রস্তরা প্রলোভন দিয়ে অন্যদেরকেও উৎসাহিত করছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাবের একাধিক অভিযান হলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের দেখেও না দেখার ভান করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধিতে এলাকার সচেতন মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আসক্তদের চিকিৎসা সেবা কিংবা নিরাময় কেন্দ্র না থাকায় দিনের পর দিন মাদকসেবীদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। মাদকে আসক্ত পরিবারে দাবি এলাকার বকাটেদের সাথে মিশেই তারা মদকাসক্ত হয়ে পড়েেছ। 

এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ জানান, মদক ব্যবহারের সংখ্যা বড়লেও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। তবে বাগমারায় কোন নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। তিনি আরো জানান, আমার আসার পর। এই অল্প সময়ে পুর্বের অবস্থা থেকে এখন মদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কমে গেছে। বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। 

এছাড়া পুলিশ ও র‌্যাবের নিয়মিত অভিযানে মদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের ভ্রাম্যমান আদালতে নিয়ে এ অবস্থার উন্নতির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা চলছে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ