মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নির্ভরতা আরো বাড়ছে

 

শাহেদ মতিউর রহমান : বিদ্যুতের জন্য বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ওপর সরকারের নির্ভরতা আরো বাড়ছে। সম্প্রতি বেশ কটি দেশি এবং বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনাও শুরু করেছে সরকার। এখন দ্বিপাক্ষিক আলেচানার মাধ্যমে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ এবং গ্রাহক পর্যায়ের মূল্য চূড়ান্ত করা হবে। 

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বিদ্যুৎ কেদ্র স্থাপনের জন্য বেসরকারি খাতের বিভিন্ন কোম্পানির দেয়া পস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম ইতোমধ্যে ডজন খানেক কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছে। চলতি সপ্তাহে আরও কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। 

সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বিদ্যুতের ক্রয়-মূল্যসহ বেশ কিছু ইস্যুতে দর কষাকষি করছে ওই টিম। আলোচনা শেষে তারা বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দেবে। তার আলোকে মন্ত্রণালয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটিতে প্রস্তাব পাঠাবে। কমিটির অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নামে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতিপত্র ইস্যু করবে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।

উল্ল্যেখ, সাম্প্রতিক লোডশেডিং এর প্রেক্ষিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি খাতে নতুন কয়েকটি কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র্র স্থাপনের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (২৬ জুন) ২১টি প্রস্তাব জমা পড়ে। পরে আরও ১৪ প্রস্তাব জমা দিয়েছে কিছু প্রতিষ্ঠান।

নির্ধারিত সময়ে যেসব প্রস্তাব জমা পড়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, গত রোববার তারা সামিট গ্রুপ, ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ, কনফিডেন্স পাওয়ার, ওরিয়ন গ্রুপ ও মিডল্যান্ড পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এসব প্রস্তাবে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার কমিটি ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক করে। এদিন দেশ এনার্জি, এ্যাক্রন পাওয়ার ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এপিআর এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে।

চলতি সপ্তাহে নেগোসিয়েশন কমিটি আরও কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করতে পারে। যাচাই-বাছাই শেষে কমিটি সর্বাধিক যোগ্য প্রস্তাবগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে তা মন্ত্রণালয়কে দেবে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে সামিট গ্রুপ, ইউনাইটেড গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, শাহজিবাজার, বারাকা পাওয়ার, ডরিন গ্রুপ, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, মিডল্যান্ড পাওয়ার, বারাকা পতেঙ্গা,অ্যাক্রন, এপিআর, দেশ এনার্জি, সামুদা পাওয়ার, প্রিসিসন্স পাওয়ার, এনার্জিপ্যাক, পাওয়ার সোর্স, এগ্রিকো পাওয়ার প্রমুখ। এছাড়া ঈদের ছুটি শেষে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দিয়েছে, সেগুলো নিয়েও পর্যায়ক্রমে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ