বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

আবারও কপোতাক্ষ পাড়ে বন্যার আশঙ্কা

এম এ ফয়সাল তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদতদাতা : কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানকল্পে ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের (১ম পর্যায়)’ আওতায় কপিলমুণি থেকে বালিয়া পর্যন্ত ১৭ কি.মি. নদী খনন সমাপ্ত না হওয়ায় চলতি বছরেও জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশংকায় আতংকিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
প্রকল্পটি যেভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা সেভাবে করা হয়নি। প্রকল্পে বলা হয়েছে উপজেলার পাখিমারা বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু করার পর নদী খনন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
অপরদিকে নিম্ন অববাহিকা থেকে খনন কাজ শুরু করে উপরের দিকে যেতে হবে। যান্ত্রিকভাবে নদী খননের পাশাপাশি খনন কাজে এলাকার শ্রমিকদের যুক্ত করতে হবে এবং শ্রমিক দ্বারা খননকৃত মাটি দিয়ে দুপাশে মজবুত বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধের উপর আউটলেট পাইপ স্থাপন করতে হবে। কিন্তু প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী টিআরএম চালু না করে নদী খনন করা হয়েছে। নিম্ন অববাহিকা থেকে নদী খনন শুরু করা হয়নি। খনন ও বাঁধ নির্মাণ কাজে শ্রমিকদের নিযুক্ত করা হয়নি এবং বাঁধে আউটলেট পাইপ বসানো হয়নি। কেবলমাত্র দুটি স্থানে ৬-৭ ফুট মতো মাটি না ফেলে ফাঁকা রাখা হয়েছে। তাছাড়া প্রকল্পের মূল ডিজাইন পরিবর্তন করে নদীকে অপ্রশস্ত করা হয়েছে এবং সাইড স্লোপ হ্রাস করা হয়েছে। সর্বশেষ যে ১৭ কি.মি. নদী খনন করা হয়েছে তাও অসম্পূর্ণ। অনেক জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি, ক্রসবাঁধগুলো সম্পূর্নভাবে অপসারণ করা হয়নি এবং শেষাংশে খননকাজ অসমাপ্ত রয়েছে। নদের দু’পাড়ের স্তুপকৃত মাটির বাঁধে প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী আউটলেট পাইপগুলো স্থাপন না করার কারণে অভ্যন্তরীণ পানি নিস্কাশিত হবে না। ফলে অববাহিকায় বসবাসকারী প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ জলাবদ্ধতা ও বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
কপোতাক্ষের নাব্যতা বৃদ্ধি ও পানিবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে তালা উপজেলা পানি কমিটি ও এলাকাবাসীর পক্ষে তালা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, পানি কমিটির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ময়নুল ইসলাম।
সাংবাদিক সম্মেলনে পানি নিস্কাশনের জন্য ক্রসবাঁধগুলো অতি দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে বালিয়া কাট পয়েন্ট সংলগ্ন পুরানো ধারার সাথে সংযোগ দেয়া। খননকৃত খাল ও নদীর দু’পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধসমূহ মেরামত, অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধে আউটলেট পাইপ স্থাপন,নদী খনন, স্তুপকৃত মাটির ব্যবস্থাপনা, সেকশনের ক্রস বাঁধ সহ টিআরএম বিল অভ্যন্তরে স্থাপিত নেট-পাটা অপসারণ করার দাবি জানানো হয় সাংবাদিক সম্মেলনে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ