রবিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

আইন অমান্যের প্রবণতা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নিরাপদ সড়ক চাই ও বাপার উদ্যোগে সড়কপথে গণহত্যা বন্ধ ও সারাদেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে এক সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, আইন অমান্য করার প্রবণতা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। চালক, পথচারিসহ সকলকে আইন মেনে রাস্তায় চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক নাগরিক সমাবেশে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, আইনজ্ঞ, পরিবেশকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অগ্রণী ব্যক্তিবর্গ এ কথা বলেন। যৌথভাবে ল্যাব’০২, নিরাপদ সড়ক চাই, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), গ্রীন ভয়েস, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট, তরুপল্লব, বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সাইক্লিস্ট ফেডারেশন এ সমাশের আয়োজন করে। “সড়ক পথের ‘গণহত্যা’ বন্ধ কর! সারা দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত কর!” শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাপা’র যুগ্মসম্পাদক মোঃ শাহজাহান মৃধার সভাপতিত্ব করেন। ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হোসেনের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম.হামিদ, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন, বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ সাইফুল আলম, বাপা’র যুগ্মসম্পাদক মিহির বিশ^াস ও শরীফ জামিল, পবা’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান, ল্যাব’০২ এর শিকদার মারুফ ইয়াজদানি ও মোঃ নাজিমউদ্দীন আহমেদ, আদি ঢাকাবাসী ফোরামের সদস্য সচিব জাবেদ জাহান, তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন প্রমুখ।
এছাড়াও সমাবেশে গ্রীনভয়েস এর সহসমন্বয়ক হুমায়ন কবির সুমন, আয়োজক সংগঠনসমূহের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও গোলাপবাগ মাঠ রক্ষা আন্দোলন, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, ঢাকা ইয়ুথ ক্লাবের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের অন্যান্য প্রতিনিধিগন অংশ নেন। কর্মসূচির সাথে সংহতি জানান বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবি সৈয়দ আবুল মকসুদ, পরিবেশবিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মঞ্জরুল আহসান বুলবুল, এভারেস্ট জয়ী এম এ মুহিত ও নিশাত মজুমদার। ম. হামিদ বলেন, বিটিভির নির্বাহী প্রযোজক হারুন অর রশিদ যে চালকের কবলে পরে মৃত্যুবরণ করেন ঐ চালক ছিল একজন শিক্ষানবীশ। একজন শিক্ষানবীশের হাতে এভাবে গাড়ি ছেড়ে দিয়ে দেশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই কর্মকর্তার মৃত্যুর কারণে আজ পুরো পরিবারটি ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আমরা আশা করছি, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারসহ নিহত পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এধরণের দুর্ঘটনারোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি পথচারিদের সচেতন হওয়া, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা ও সহনশীলতা তৈরির আহবান জানান।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দীর্ঘ চব্বিশ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছি। সড়ক দুর্ঘটনার অনেক কারণের মধ্যে আইনকে না মানা একটি অন্যতম কারণ। আইন প্রনেতা কর্তাব্যক্তি, আইন প্রয়োগকারীসংস্থার অনেক উর্ধ্বতন ব্যক্তিগনও আইন মানছে না। তারা অনেক সময় উল্টোপথে গাড়ি চালাচ্ছে এবং এতে দুর্ঘটনাও ঘটছে, যা খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই সকলে আইন মেনে রাস্তায় গাড়ি চালাবে। আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাথে সকলকে আরো সম্পৃক্ত হওয়া ও ২২ অক্টোবর নিরাপদ সড়ক দিবস পালনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, চালক, পথচারিসহ সকলকে আইন মেনে রাস্তায় চলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।
শরীফ জামিল বলেন, বাংলাদেশ অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম হচ্ছে এবং মধ্যম আয়ের দেশে উন্নতি হয়েছে বলে দাবী করা হচ্ছে। সড়ক পথেরও অনেক উন্নয়ন করা হচ্ছে, তবে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। আমরা চাই যেনতেন ভাবে সড়ক উন্নয়ন নয়, এজন্য একটি পরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সড়ক পথের অব্যবস্থাপনাগুলো দূর করতে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহন করার আহবান জানান তিনি।
আব্দুস সোবহান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিআরটিএ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানামা বন্ধ করতে হবে। বিদ্যমান আইন প্রয়োগের পাশাপাশি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের দাবিও জানান তিনি।
সাইফুল আলম বলেন, গাড়ি চালাতে গিয়ে তাড়াহুড়া না করে সঠিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। এজন্য চালকদের সচেতনতা হওয়া খুবই জরুরী। পাশাপাশি রাস্তায় দায়িত্ব পালনকারীগনকে আরো সতর্ক হওয়ার আহবান জানান।
মোঃ নাজিম উদ্দীন আহমেদ জানান, কয়েকদিন আগে শেরাটন হোটেলের সামনে উল্টোপথ দিয়ে আসা একটি গাড়ির ধাক্কায় মারাত্মকভাবে আহত হন তার একজন সহপাঠী। ঐ গাড়ির চাকার নিচে পড়ে শরীরের অনেক হাড় ভেঙ্গে যায় এবং যার কারণে ঐ মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতও আজ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শাহজাহান মৃধা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। দ্রুতগতির গাড়ি চালানোসহ সামান্য স্বার্থপরতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে। এ থেকে পরিত্রানের জন্য এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে বিপ্লব তৈরী করতে হবে। আমরা সকলে সচেতন হলে ও আইন মেনে চললে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
সমাবেশ থেকে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর যুগোপযোগী সংশোধনী আনয়ন ও বাস্তবায়নসহ ১৫ দফা সুপারিশ-দাবি উত্থাপন করা হয়। অন্যান্য দাবি মধ্যে পথচারি ও অযান্ত্রিক যানে নিরাপদে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, উল্টোপথে গাড়ি চালানো বন্ধ করা, যথাযথভাবে বিদ্যমান সড়ক পথ পরিচালনা ও মেরামত, ভূয়া লাইসেন্সধারী চালকদের নিষিদ্ধ ও শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা, পরিবহন মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং অপরাধের ভিত্তিতে শাস্তির বিধান চালু, ত্রুটিযুক্ত গাড়ি বাতিল, গাড়ি চালকদের ট্রিপ এর পরিবর্তে মাসিক বেতনে নিয়োগের ব্যবস্থা করা, বিআরটিএ-কে স্বচ্ছ ও কার্যকর করা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ