শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

আশুলিয়ার যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের নতুন প্রকল্প

* নির্মাণ সময়সীমা ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত
* তৈরি পোশাক পরিবহণে ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার
শাহেদ মতিউর রহমান : আশুলিয়ার অসহনীয় যানজটে তৈরি পোশাক পরিবহণে নাকাল হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দিন দিন তীব্র হওয়া এই যানজটে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তির যেন কোন অন্ত নেই। ফলে যানজট নিরসনে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী এবং এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দারা।
এদিকে আশুলিয়ার তীব্র যানজটের কারণে  তৈরি  পোশাক পরিবহণে আর্থিক ক্ষতি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সেতু মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এ বিষয়ে বিদেশী আর্থিক সহায়তায় নতুন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ণের কথা জানিছেন মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, তৈরি পোশাক দ্রুত পরিবহনের জন্য আশুলিয়াতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিমার্ণের উদ্যোগ নিচেছ সরকার। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়ণে আর্থিক সহায়তা দেবে চীন। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় অসহনীয় যনজটে প্রতিনিয়তই নাকাল হচ্ছে যাত্রীরা। অন্তহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচেছ আব্দুল্লাহপুর- আশুলিয়া-ইপিজেট রুটের লাখো যাত্রীর। এই রাস্তায় অফিসগামী এবং অফিস ফেরত যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সবচে বেশি। প্রতিকার পাওয়া যাবে এমন কোন কর্তৃপক্ষও যেন নেই এখানে। সরেজমিনে স্থানীয় লোকজন, ভুক্তভোগী যাত্রী, ব্যবসায়ী ও চালকদের সাথে কথা বলে এই রাস্তায় যানজটের একাধিক কারণ জানা গেছে। বিশেষ করে প্রধান রাস্তায় বালু বিক্রির গদি, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, কম গতির যানবাহনের পৃথক লেন না থাকা, ইটভাটার ট্রাকের দৌড়াত্ম, মূল রাস্তায় অস্থায়ী বাজার, ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির কারণেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে তৈরি পোশাক দ্রুত পরিবহনের জন্য আশুলিয়াতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিমার্ণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়ণে আর্থিক সহায়তা দেবে চীন।
সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পটির আওতায় বিমানবন্দর সড়ক থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে ছাড়াও নবীনগর ও চন্দ্রায় দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। চীনের অর্থায়নে জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহী চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা।
সম্প্রতি প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার খসড়া প্রতিবেদন জমা দেয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়ার স্ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল এবং বাংলাদেশের ডেভ কনসালট্যান্টস ও এসিই কনসালট্যান্টস। এতে দেখা যায়, ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় হবে পাঁচ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। এক্সপ্রেসওয়েটিতে ওঠানামার র‌্যাম্প নির্মাণে ব্যয় হবে ১৮৩ কোটি ও টোল প্লাজায় ১২৮ কোটি টাকা। আর নবীনগর ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় হবে ১৫৫ কোটি টাকা। সড়কটি ব্যবহারে টোল দিতে হবে। তবে টোলের হার চূড়ান্ত না হলেও টোল আদায়ের সময় ধরা হয়েছে ১৫ বছর। এছাড়া ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত।
এদিকে প্রকল্পটির আওতায় নিচের ১৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ করতে হবে। পাশাপাশি দুই লেনের সেতু নির্মাণ করতে হবে। এতে ব্যয় হবে এক হাজার ৪২ কোটি টাকা। এছাড়া জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে দুই হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। আর ভূগর্ভস্থ পরিষেবা সংযোগ স্থানান্তর ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ব্যয় হবে ৮৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।
সূত্রমতে, আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শিল্পের সুবিধার্থে ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে সাভার ইপিজেড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পণা নেয়া হয়েছে। চীন সরকারের অর্থায়নে আগামী ডিসেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী আরো জানান, আশুলিয়ার সড়কটি চার লেনে উন্নীত ও সড়কের পাশে ফুটপাত ও ড্রেনেজ নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
নতুন একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পণার কথা উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার রাস্তা। এই রাস্তার দুইপাশে বিল ও জলাশয় রয়েছে। যেখানে জমি অধিগ্রহণ সম্ভব নয়। কিন্তু রাস্তা প্রশস্ত করতে হলে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। যে কারণে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পণা নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু বিভাগের সঙ্গে বসেছিলেন। ওখানে অনেক গার্মেন্ট শিল্প আছে। ওই সড়কটি প্রশস্থ হওয়া দরকার। যেহেতু নীচে প্রশস্থ করা কঠিন তাই এয়ারপোর্ট থেকে ইপিজেড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চীন সরকার এই প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কাজ শুরু করা যাবে।
মন্ত্রী আরো জানান, গার্মেন্ট শিল্প মালিকরা বলেছেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি নিচে ফোরলেন করার কথা। আসলে ফোরলেন আর প্রয়োজন হবে না। কারণ যেখানে যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে সেখানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প থাকবে। ফলে নেমে যাওয়ার কোনো সমস্যা হবে না। তারপরও পরে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ওই এলাকায় ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা দরকার। এটা করা কঠিন। কারণ রাস্তার পাশে অনেক দোকানপাট ও গার্মেন্ট শিল্প আছে। এর ভেতর দিয়ে কাজ করা খুবই কঠিন। তবে জনগণের সুবিধার্থে ফুটপাত নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ