বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সৈয়দপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে মারপিট করে চার লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে বেদম মারধর করে চার লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাবেক ওই ইউপি সদস্য। আহত ও টাকা ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ওই ইউপি সদস্যের নাম মো. মিলন (৩৪)। তিনি উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউপির হুগলীপাড়া গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম নজুর পুত্র ও একই ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার।
জানা যায়, কাশিরাম বেলপুকুর ইউপির হাজারীহাটে মিলনের সার, কীটনাশক, ধান, ভুট্টা, গম ক্রয়-বিক্রয়ের দোকান রয়েছে। কয়েকদিন আগে রাত আনুমানিক ১১টায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে হুগলীপাড়াস্থ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তার সাথে ব্যবসার ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিল। কিন্ত হাজারীহাট বাজার ত্যাগ করার পূর্বেই হুগলীপাড়ার মৃত আফাজ উদ্দিনের পুত্র ওহিদুল ইসলাম (৫০) ও তার দুই ছেলে আব্দুর রশীদ সবুজ (২৮) ও আ. কুদ্দুস (২৪) মিলনের গতিরোধ করে। এসময় মিলনের অত্মচিৎকারে উপস্থিত স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উভয় পক্ষকে আলাদা করা সহ মিলনের কাছে টাকা থাকায় তাকে বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ করেন। ওই সাবেক ইউপি মেম্বর বলেন, হাজারীহাট বাজার থেকে হুগলীপাড়া যাওয়ার মাঝপথে নির্জন রাস্তায় রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পেছন থেকে লাঠি দিয়ে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করেন সবুজ। এরপর আমি মাটিতে পড়ে গেলে ওহিদুল ও তার অপর ছেলে কুদ্দুসসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন আমার সামনে এসে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করতে থাকে। আমি অজ্ঞান হয়ে গেলে ওরা আমাকে মৃত ভেবে আমার সাথে থাকা আমার ব্যবসার ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়।
গভীর রাত হওয়ার পরও বাসায় না ফেরায় আমার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করলে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ৪র্থ তলায় পুরুষ বিভাগের ১৫ নং ওয়ার্ডের পেইন কেবিনে মিলন চিকিৎসা নিচ্ছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রোগীর শরীরের আঘাত খুবই গুরতর। শরীরের স্পর্শকাতর অংশে লাঠি দিয়ে আঘাতের কারণে সুস্থ্য হতে আরো সময় লাগবে।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে ওহিদুল ইসলামের সাথে যোগায়োগ করেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে তার দুই ছেলে সবুজ ও আ. কুদ্দুস বলেন, ‘মিলন সস্পর্কে আমাদের চাচা। আমরা তাকে মারধর করিনি কিংবা তার কোন টাকাপয়সা আমরা নেইনি। এটা স¤পূর্ণরুপে মিথ্যাচার। তবে তারা হাজারীহাটে মিলনের সাথে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির কথা স্বীকার করেন।
এ প্রসঙ্গে সৈয়দপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানায় অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ