বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দাকোপে দ্বিগুণ মূল্যে বীজ ধান বিক্রির অভিযোগ

খুলনা অফিস : ন্যায্য মূল্যে আমন উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ পাওয়ার দাবিতে খুলনার দাকোপে ফুঁসে উঠেছে হাজারো কৃষক। অভিযোগ রয়েছে, ডিলাররা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে এসব ধানের বীজ দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রয় করছেন। ফলে প্রায় এলাকার ৬০ ভাগ কৃষক সময়মত বীজ না পাওয়ায়  চলতি চাষাবাদ মওসুমে হাজার হাজার বিঘা জমি অনাবাদী হয়ে পড়ে থাকার আশংকা করছেন এলাকার হাজারো কৃষক। ন্যায্য মূল্যে আমন উচ্চ ফলনশীল বীজ বিক্রয়ের দাবীতে বিভিন্ন স্থানে কৃষক তাদের সভা সমাবেশ ও মানববন্ধন অব্যাহত রেখেছেন।
দক্ষিণ খুলনার আইলা দুর্গত দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর মাধ্যমে সরবরাহ করা উচ্চ ফলনশীল আমন বীজ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাজুয়ার কৃষক ভবেশ মন্ডল, দ্বীনবন্ধু মল্লিক, গুনারীর কৃষক হরিপদ হালদার, তপন মন্ডল, পরিমল মন্ডল, বানিশান্তার কৃষক সঞ্জয় রায়, ফিরোজ হাওলাদার, পানখালীর কৃষক শেখ রফিকুল ইসলাম, রুহুল আমীন অভিযোগ করে বলেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় রবাদ্ধ কম দেয়ার অজুহাতে ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারের নির্ধারিত সাড়ে ৩শ’ টাকা থেকে ৪শ’ টাকার ১০ কেজি মূল্যের প্যাকেট বীজ বিআর-ভিত্তিকা-১০, ২৩ এবং প্রত্যায়িত বীজ সাড়ে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৮শ টাকা দরে বিক্রি করছেন। কিন্তু এ বিষয়ে কৃষি বিভাগকে অবগত করা হলেও তারা  কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছামত দাম নিচ্ছেন। এ দিকে সময়মত বীজতলা তৈরী করতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক চড়া দামে এ সব বীজ ক্রয় করছেন। আবার অনেকে চড়া দাম দিয়েও ডিলারদের কাছ থেকে বীজ পাচ্ছে না। এ সব ডিলারদের কাছে কোন প্রকার বীজের দাম নিয়ে দরকষাকষি করলে তখন তাদেরকে সাফ জানিয়ে দেয়া হচ্ছে বীজ নেই। দাকোপ উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবি, বীজের কোনো ঘাটতি নেই। ফলে কৃষক পরিবারে হতাশ হওয়ারও কিছু নেই। কৃত্রিম সংকট তৈরী হলেও আমনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হবে না।
অপরদিকে বীজ সংকট দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানের ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা কৃষকের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে বীজ বিক্রয় করায় দাকোপের বাজুয়া ও নলিয়ানে শত শত কৃষকের সমন্বয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তরা অনতিবিলম্বে কৃষকদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় বীজ সরবরাহ ও ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার আড়ৎ তল্লাশীর জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বীজ বিপনন খুলনার উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিয়াকত আলী ডিলারদের বীজ কম দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারী নিয়মনীতি অনুযায়ী ডিলারদের প্রাপ্য সিলিপ অনুসারে সকলের মাঝে বীজ সঠিকভাবে দেয়া হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে কৃষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় বীজ সংকটের সৃষ্টি হতে পারে। এটা রাতারাতি মেটানো সম্ভব নয়। কারণ পূর্ব থেকে যে চাহিদা দেয়া হয়েছে সে অনুযায়ী উপজেলায় বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।
দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরী করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বীজ বিক্রি করলে সেই সকল ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। প্রকৃত পক্ষে বাজারে কোনো বীজের সংকট নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ