শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া সড়ক যেন মরণ ফাঁদ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট- ধোবাউড়া সড়ক যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ছবিটি হালুয়াঘাট উপজেলার গরু বাজার মোড়ের -সংগ্রাম

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া সড়ক যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে, প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা দেখার যেন কেউ নেই। উপজেলার গরু বাজার মোড় থেকে আকন পাড়া হাদিসের মোড়, সুর্যপুর চৌরাস্তা বাজার, বালিচান্দা, মেকিয়ার কান্দা, মান্দালিয়া, মুন্সিরহাট বাজার থেকে ধোবাউড়া পর্যন্ত রাস্তায় বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলচলে ভোগান্তির শেষ নেই। প্রায় দু’বছর হলো হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া রাস্তার সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। সংস্কারের দু’বছরের মধ্যেই সৃষ্টি হতে চলছে শত শত ছোট বড় গর্ত। হালুয়াঘাট বাজার থেকে শাহাপাড়া এবং ধোবাউড়া মুন্সির হাট বাজারে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে বিটুমিন উঠে গিয়ে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে কার্পেটিং, তৈরী হচ্ছে বড় বড় গর্ত। ধোবাউড়া থেকে তারাকান্দার রাস্তা খারাপ হওয়ায় সমস্ত যানবাহন হালুয়াঘাটের এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। এছাড়াও ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর, পোরাকান্দুলিয়া, গোয়াতলা, সিবগঞ্জ, চাটুয়াপাড়া, চন্দ্রকোনা, ঘোষগাঁও, এরশাদ বাজার সহ বিভিন্ন রোডের গাড়িগুলো এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়। নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর ও ধোবাউড়া উপজেলা থেকে চীনা মাটি ও বালু ভর্তি ট্রাক অতিরিক্ত লোডে আসা-যাওয়া করার কারণেই ধবংস হতে চলছে এ সড়কটি। যে কোনো সময় বিচ্ছিন্ন হতে পারে এই দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে কয়েক লক্ষ মানুষের এ অভিযোগ স্থানীয়দের। ধোবাউড়ার উপজেলার বাঘবের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরহাদ রব্বানী সুমন বলেন, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ার রাস্তাটি গুণগত কাজের মান একদম কম এবং রাস্তাটির ধারণ ক্ষমতা কম থাকায় অতিরিক্ত লোডে গাড়ি চলাচল করায় এই সব ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাই দ্রুত সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি করছি। একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ বজলুর রহমান খান বলেন মুন্সিরহাট বাজারের রাস্তাটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগ হয়ে পরছে। সাবেক ছাত্র নেতা আনোয়ার হোসেন খান দিনার বলেন, মুন্সিরহাট বাজারের রাস্তাটি একমাত্র ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই ধরের বড় বড় গর্ত দেখা দিয়েছে। বাজারের ফান্ডে টাকা থাকার পরও কেন ড্রেনেজ ব্যবস্থা হচ্ছেনা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এই বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা জানান, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ার যে রাস্তাটি আছে এতে ধারণ ক্ষমতা একেবারেই কম বর্তমানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ টন লোডে এ সব গাড়ি চলাচল করছে। এই বিষয়ে আমরা আগামী আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে উপস্থাপন করবো এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের উর্ধ্বতন র্র্কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো। রাস্তাটিকে ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা করতে হলে এই সব অতিরিক্ত লোড গাড়ির বিরুদ্ধে সওজের কর্মকর্তাদেকে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবহণ চালকদের সাথে কথা বলে যানা যায়, গাড়ি ভাড়া কম থাকায় অতিরিক্ত লোডে গাড়ি চলে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদ খান জানান, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া সড়কটি অতিরিক্ত লোডে ট্রাক চলাচল করার কারণেই ছোট বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন সেক্টরকে কোনোভাবেই অতিরিক্ত লোড থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। আমরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সংস্কারের কাজ শুরু করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ