বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বেতন আটকে নতুন কারখানায় যেতে বাধ্য করা হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : বিনা নোটিসে স্থানান্তরিত কারখানায় যেতে বাধ্য করতে বকেয়া বেতন আটকে রাখার অভিযোগ এনে বিজিএমইএ ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে চার শতাধিক গার্মেন্টস শ্রমিক।
গতকার সোমবার মিরপুরের কিউ পয়েন্ট ফ্যাশন লিমিটেড নামে গার্মেন্টস কারখানাটি ‘বিনা নোটিসে’ সাভারের হেমায়েতপুরের মুচিপাড়ায় স্থানান্তরিত করা হয় বলে জানান আন্দোলনরত শ্রমিকেরা।
তাদের অভিযোগ, নতুন কারখানায় কাজে যেতে বাধ্য করার জন্য তাদের বকেয়া বেতন আটকে রাখার হুমকি আসছে মালিকপক্ষ থেকে। কারখানার সুইং সুপারভাইজার আব্দুল জব্বার বলেন, আমাগো মে মাসের অর্ধেক বেতন পাই নাই, সেইটাসহ জুন মাসের বেতন আজকে (১০ জুলাই) দেওয়ার কথা আছিল। আমাগো কইতাছে নতুন কারখানায় কাজে না গেলে এক টাকাও দিব না।
জব্বার জানান, কারখানাটি নতুন ভবনে স্থানান্তরের বিষয়ে তাদের মালিক পক্ষ থেকে নোটিস দিয়ে কোনোকিছু জানানো হয়নি। মিরপুর ১৩ নম্বরের বাসিন্দা নাজমা তিন বছর ধরে কারখানাটিতে কাজ করছেন। পরিবার-পরিজন ফেলে হেমায়েতপুরে থেকে কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
নাজমা বলেন, আমাদের পরিবার ঢাকায় থাকে, বাচ্চাদের স্কুলও ঢাকায়। এখন বললেই তো আমরা হেমায়েতপুর চলে যেতে পারি না। বাবা-মা, ভাই-বোন ফেলে হেমায়েতপুর থেকে কাজ করতে রাজি নন আরেক শ্রমিক সাথী।
তিনি বলেন, আমরা যারা নতুন কারখানায় যামু না, আমাদের প্রাপ্য বেতন দিয়া দিলেই আমরা খুশি। আমরা ঢাকাতেই আরেকটা কাজ খুঁইজা নিমু।
তবে হেমায়েতপুরে কারখানা স্থানান্তর নয়, নতুন একটি কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে বলে দাবি কিউ পয়েন্ট ফ্যাশন লিমিটেডের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
মিরপুরের কারখানাটিও থাকছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বলেছি যারা হেমায়েতপুরে কাজ করবে, তারা যাবে। যারা করবে না তারা মিরপুরে কাজ করবে, দুই কারখানাই চালু আছে। শ্রমিকদের বেতনও এই সপ্তাহের মধ্যেই দিয়ে দেওয়া হবে।
শ্রমিক বিক্ষোভ প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর বলেন, ১০-১৫ জন কি সব করছে, তা জেনে আমরা কি করব? আমাদের কারখানা চালু আছে এবং অধিকাংশ শ্রমিক কাজেও এসেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ