শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

ওরা সংহতি জানালো ফিলিস্তিনের মজলুম জনতার প্রতি

ফিলিস্তিনী জনগণের মুক্তি সংগ্রামের কথা শুনেছি সেই কৈশোরে। পরে জেনেছি সংকটের কারণ ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে। পরাশক্তিগুলোর স্বার্থ ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের কারণে ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান আজও হলো না। ভূমিপুত্র ফিলিস্তিনীদের রাষ্ট্র হলো না, অথচ উড়ে এসে জুড়ে বসে ইহুদীরা শুধু রাষ্ট্রই পেল না, ইসরাইল গঠন করে ওই অঞ্চলে তারা জুলুম-নির্যাতনের পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছে নির্মম আগ্রাসন। ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান এবং ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জাতিসংঘসহ বড় বড় শক্তিগুলোর অনেক আশ্বাস বাণী শুনেছি। শুনতে শুনতে কৈশোর পেরিয়ে আমরা প্রবীণ হয়েছি কিন্তু সংকটের আর সমাধান হলো না। দীর্ঘমেয়াদী এখন নির্মম ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসনের দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ এই পৃথিবীতে নেই। তারপরও কি বলতে হবে, সভ্য পৃথিবীতে আমরা বসবাস করছি?
দীর্ঘকালের ইসরাইলী আগ্রাসনে আর দমন-পীড়নে পিষ্ট ফিলিস্তিনী জনতার প্রতি সংহতি জানাতে একাত্ম হয়েছে বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত ৩০টিরও বেশি দেশের তরুণ-প্রজন্ম। ৮ জুলাই তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে জড়ো হয়েছেন ওইসব দেশের তরুণ প্রজন্ম। নিজেদের ভূমির সুরক্ষায় ফিলিস্তিনী জনগণ যে প্রতিরোধ সংগ্রাম জারি রেখেছে, তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করতেই দুইদিনের এক সম্মেলনে জমায়েত হয়েছেন তারা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মুক্তিকামী ফিলিস্তিনীদের স্বাধীনতার দাবিকে বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম নাগরিকের মনে জিইয়ে রাখতেই এই সমাবেশ। সমাবেশে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশী তরুণরাও। ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সম্মেলনটির আয়োজন তুরস্কভিত্তিক আনাদোলু ইয়ুথ এসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন অব ইয়ুথ এন্ড স্টুডেন্ট ইউনিয়ন টু সাপোর্ট প্যালেস্টাইন। উদ্বোধনী ভাষণে আনাদোলু ইয়ুথ এসোসিয়েশনের প্রধান সালিহ তুরান বলেন, ‘ফিলিস্তিন, আল-কুদ্স (জেরুজালেম) এবং আল-আক্সা মসজিদকে আলোচ্যসূচির শীর্ষে রেখে আমরা দ্বিতীয়বারের মত এ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। গোটা মুসলিম বিশ্বের তরুণ, যাদের ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি একই রকমের অনুভূতি রয়েছে তাদেরকে প্রতিনিধিত্ব করছি আমরা। ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন অব ইয়ুথ এন্ড স্টুডেন্ট ইউনিয়নস টু সাপোর্ট প্যালেস্টাইন-এর প্রধান ইহাব নাফি বলেন, মুসলিম বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে ফিলিস্তিনী দাবিগুলোকে জিইয়ে রাখতে আমরা সম্মিলিত হয়েছি। বিশ্বের কাছে একটি বার্তা আমরা পৌঁছে দিতে চাই। বার্তাটি হলো- আমাদের দৈনন্দিন এজেন্ডা থেকে ফিলিস্তিন ইস্যুকে সরিয়ে দেওয়া যাবে না। আরব ও মুসলিম বিশ্বের জনগণ ফিলিস্তিনী জনগণের অধিকার খর্ব হতে দেবে না।
ফিলিস্তিনী জনগণের অধিকারের প্রতি সংহতি জানাতে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর তরুণ-প্রজন্মের নেতারা যে উপলব্ধি ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, আমরা তার প্রতি সমর্থন জানাই। কারণ এতটুকুন না করলে মুসলিম থাকা যায় না, মানুষও থাকা যায় না। তরুণ প্রজন্মের ওই সম্মেলন আসলে একথারই জানান দিল যে, বস্তুবাদী প্রহসন ও চাতুর্যপূর্ণ বর্তমান সভ্যতায় এখনো ন্যায়ের চেতনায় উদ্দীপ্ত মানুষ জীবিত রয়েছে। তারা মজলুম মানুষের পক্ষে অবশ্যই দাঁড়াবে। আমরা তাদের চেতনাকে স্বাগত জানাই এবং কামনা করি সাফল্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ