শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

সন্ত্রাস : বাড়িতে বন্দী মুসলিমরা

মানুষতো সমাজবদ্ধ হয়েছিল মহান লক্ষ্যে। ভালোবাসা ও সহযোগিতার চেতনায় জীবনযাপনকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে মানুষ সমাজ গড়েছিল। কিন্তু সেই সমাজের আজ এ কী হাল হয়েছে! ঘৃণা ও বিদ্বেষের কারণে অনেক সমাজে এখন মানুষের বসবাস অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বর্ণবাদী ও ধর্মীয় ঘৃণা সমাজে ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করে রেখেছে। পূর্ব লন্ডনের মুসলিম বাসিন্দারা এসিড হামলার শিকার হওয়ার পর নিজেদের বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। আর এই ভয়টা বেড়েছে গত ২১ জুন পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম শহরের রাস্তায় গাড়ির জানালার ফাঁক দিয়ে ভয়ঙ্কর এসিড হামলার পর থেকে। এই হামলায় ২১ বছর বয়সী প্রথম সারির মডেল রেহমা খান ও তার চাচাতো ভাই জামিল মুক্তার গুরুতর আহত হন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ বলেছিল, আক্রমণটি বর্ণবাদী বা ধর্মীয় ঘৃণা থেকে করা হয়েছে এমন কোনো  প্রমাণ নেই। তবে আহত মুক্তার জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলাম ভীতি থেকেই এই হামলা করা হয়েছে। তাছাড়া ফেসবুক পেজে জন টমলি (২৪) নামে এক ব্যক্তির উগ্র ডানপন্থীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশ ঘটনাটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। পুলিশ এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে খুঁজছে। এসিড হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। মুসলিম ও এশিয়ান চেহারা লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা বেশি হচ্ছে বলে জানান অনেকে। ২২ জুন বৃহস্পতিবার টাওয়ার হ্যামলেটসের সামনে বাণিজ্যিক রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আসার সময় এক এশীয়র ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা তার গাড়িটিও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া ইস্ট হামে এক মহিলা তার বাসার সামনে এক ব্যক্তি দ্বারা আক্রান্ত হন। ওই ব্যক্তি জিনিসপত্র সরবরাহকারীর বেশ ধারণ করেছিল। আর প্লাসেথ গ্রোভ এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় এসিড হামলার শিকার হয়েছেন এক মহিলা। এইসব ঘটনায় উপলব্ধি করা যায়, লন্ডনে সন্ত্রাসবাদের ঘটনা বেড়েই চলেছে। আর এই সব ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে বর্ণ ও ধর্ম বিদ্বেষীয় সাদা চামড়ার লোকেরাই। ফলে উপলব্ধি করা যায়, সন্ত্রাস কোনো বিশেষ ধর্ম বা বর্ণের মানুষের একচ্ছত্র বিষয় নয়, ভ্রান্ত চিন্তার ধারক হলে যে কোনো মানুষই জড়িয়ে পড়তে পারে সন্ত্রাসের ঘটনায়।
এইসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে গত ২৫ জুন রোববার সন্ধ্যায় এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল পূর্ব লন্ডনে। এতে টাওয়ার হ্যামলেটের মেয়র জন বিগসও উপস্থিত ছিলেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পরিবেশিত খবরে বলা হয়, বৈঠকে স্থানীয়রা বলেন, এইসব আক্রমণ আমাদের দোরগোড়ায় ঘটছে। ফলে আমাদের নারী-পুরুষ ও শিশুরা অনিরাপদ অনুভব করছেন। তারা এখন বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় একজন ইমাম শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, রাস্তায় ডাকাতির মত হঠাৎ এসিড হামলা হচ্ছে। এসব ঘটনার পর আমার স্ত্রীও এসিড হামলার ভয়ে বাইরে যাচ্ছেন না। প্রশ্ন জাগে, এমন পরিস্থিতির জন্য কি মানুষ সমাজবদ্ধ হয়েছে? মানুষতো সমাজবদ্ধ হয়েছে সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশে বসবাস করার জন্য। পূর্ব লন্ডনে তেমন পরিবেশ সৃষ্টির দায় বর্তেছে কর্তৃপক্ষের ওপর, ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে নাগরিকদেরও। দায়িত্ব কতটা পালিত হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ