শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

ঈমানের বাস্তবতায় হজ্জের শ্রেষ্ঠত্ব

ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমাদ : ইসলামের মূল ভিত্তি বা খুঁটি পাঁচটি। তা হলোÑ ঈমান, নামায, রোযা, যাকাত ও হজ্জ। এর মধ্যে ঈমানের গুরুত্ব সর্বাধিক। তাই কুরআন পাকে মহান আল্লাহ্ ঈমানদারদেরকেও বলেন, তোমরা ঈমান আনো। সূরা সাফ এর ১০-১১ আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন “হে ঈমানদার লোকেরা আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি ব্যবসার কথা বলব যা তোমাদেরকে কঠিন পীড়াদায়ক আযাব থেকে রক্ষা করবে? তাহলো তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, আর আল্লাহ্র পথে ধনÑমাল ও জান-প্রাণ দিয়ে সংগ্রামে লিপ্ত হও।” তাহলে ঈমান হল সব ইবাদতের মূল। ঈমান বা আকিদা ঠিক হলে আমল কবুল হবে। আর ঈমানে সমস্যা হলে সমস্ত এবাদতই বরবাদ হবে। ইসলামের মূল ভিত্তির মধ্যে হজ্জ হলো অতি শ্রেষ্ঠ এবাদত। হজ্জের মাধ্যমে মহান আল্লাহ, তাঁর সার্বভৌমত্ব, তাঁর নিদর্শন, মুসলমান জাতির মহাসমাবেশ, ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য, আর সর্বাধিক গুনাহ মাফের মহা সুযোগ বিদ্যমান। কাজেই যারই আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য এসে যায় তাকেই হজ্জ পালন করতে বার বার হুকুম দেয়া হয়েছে। হজ্জের অনুষ্ঠানের সাথে বিশেষ কিছু স্থান প্রতিজন মোমেন মুসলমানের হৃদয় ক্বলবে একেবারে গেথে থাকে। তাহলো হারাম শরীফ, কা’বা শরীফ, হাজরে আসওয়াদ, জমজমের পানি, মাকামে ইব্রাহীম, সাফা-মারওয়া পাহাড়, মীনা, মুযদালিফা, জামরাত, আরাফার ময়দান, মদীনা শরীফ ইত্যাদি। আল্লাহ্র কালামে ও হাদীসে পাকে এসবের উল্লেখ পাওয়া যায়। পবিত্র হজ্জের অনুষ্ঠানে যারা রত হয় তারা পূর্ব থেকেই তাদের হৃদয় ক্বলব, দেহ, অর্থ সবই পবিত্র করে নেয়। এহরামবদ্ধ হয়ে নিবিষ্ট মনে আল্লাহ্র দেয়া সীমা মেনে অন্যসব কিছুর নিষিদ্ধতা মেনে পুত পবিত্রতার মানসে শুধু আল্লাহ্র জন্য হাজিরা দেয়ার ঘোষণা দিতে থাকে প্রত্যেক হাজী। উচ্চস্বরে তারা বলতে থাকে লাব্বায়িকা আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক, লাব্বায়িকা লাশারিকা লাকা লাব্বায়িক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মূলক লা শারিকা লাক। অর্থাৎ হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, আমি হাজির, তোমার কোন শরীক নেই, আমি হাজির, তোমার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, এবং সমস্ত নেয়ামত রাজি তোমারই, সমস্ত রাজত্ব তোমারই, তোমার কোন শরীক নেই। এভাবে পুত পবিত্র মনে এক আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হয়। সমস্ত র্শিক থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর কাছেই সাহসের সাথে হাজির হতে হয়। যত নেয়ামত রয়েছে তার মালিক মহান আল্লাহ তার ঘোষণা দিতে হয়। সমস্ত রাজত্বের মালিকানা এক আল্লাহর এ ঘোষণা দিয়ে সমস্ত র্শিক থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেয়া হয়। সাদা মনে সাদা কাপড়ে খালেছ তওবা করে সবার থেকে মাফ মুক্তি নিয়ে দুনিয়াদারী ত্যাগ করে হাজী সাহেব মরা লাশের মত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে কাবার প্রান্তে হাজির হয়। বেহেস্ত থেকে আসা হাজরে আসওয়াদ প্রান্ত থেকে শুরু করে কাবা শরীফের চারদিকে এক এক করে সাতবার তোয়াফ করে বান্দাহ সমস্ত পাপরাশী থেকে মুক্ত হতে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতে থাকে। পরে সে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে দুই রাকাত নামায আদায় করে। আল্লাহ্র আরেক মহা কুদরত জমজমের পানি পান করে আল্লাহ্র শুকরিয়ার সাথে। মিনা প্রান্তরে আবার আল্লাহ্র সাহায্যপ্রার্থী হয়ে যিকির আসকার পড়ে নামায পড়ে দোয়া করা হয়। জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখে বিশ্বের সব হাজী একত্রিত হয়ে আল্লাহর প্রশস্থতর ও নেয়ামতপূর্ণ মাঠ আরাফাতে উপস্থিত হয়ে দিন ব্যাপী আকাশের দিকে হাত তুলে কেঁদে কেঁদে দোয়া করতে থাকে। এটাই হল সবার্ধিক পাপীদের মাফ করে দেয়ার মাঠ। সূর্য ডুবলেই যেতে হয় মুযদালিফায়। সেখানে একসাথে মাগরিব ও এশার নামায আদায় করে আল্লাহ্র কাছে মনের সব ফরিয়াদ করতে হয়। ১০ই জিলহজ্জ জামরাতে পাথর মারতে হয় ইব্রাহিম (আ:) ও ইসমাঈল (আ:) এর ক্ষিপ্ততার সাথে শয়তানকে পাথর মারার স্মৃতি স্বরুপ। কারণ আল্লাহ্র হুকুম পালনকারী ইব্রাহিম (আ:) যখন ইসমাঈল (আ:) কে জবেহ্ করতে যাচ্ছিলেন তখন এই জামরাতেই ইবলিশ শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিচ্ছিল। এরপরে মিনায় পৌঁছে আল্লাহ্র পথে কুরবানী দিতে হয়। প্রত্যেক হাজীকে ইব্রাহিমী সুন্নত হিসেবে সন্তানের পরিবর্তে পশু কুরবানী করে আল্লাহর ভালোবাসার নজীর স্থাপন করতে হয়। তারপর চুল কাটা হয়। এরপর কাবা ঘরের তোয়াফ করা হয়। এভাবেই হজ্জ শেষ হয়। কুরআন পাকে মহান আল্লাহ বিভিন্ন সূরায় হজ্জের বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। বিশ্বনবীর হাদিসেও বেশ গুরুত্বের সাথেই হজ্জের ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। কাজেই হজ্জের গুরুত্ব এবং তার সাথে ঈমানের বাস্তবতা কি তা বুঝার চেষ্টা করা খুবই জরুরী। কালামে পাকে সূরা বাকারায় প্রথম পৃষ্ঠায় আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, আল্লাযিনা ইউমিনুনা বিল গাইব। অর্থাৎ যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে বলা হয়েছে। যাহা দেখা যায় না উহাতে বিশ্বাস করে বুঝায়। ঈমান হল বিশ্বাস। বিশ্বাস বা ঈমানের মূল হল কালেমা তাইয়্যেবা। মুসলমান হবার শর্ত হল ঘোষণা দেয়া যে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। মানে আল্লাহ ব্যতীত কোন প্রভূ নেই, আর মুহম্মদ (সা:) আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূল। অদৃশ্য এই আল্লাহ ও রাসূলকে না দেখে আমরা মুসলমানের দলে শরিক হয়েছি। শুধু তাই নয়, আমরা বিশ্বাস এনেছি ফেরেস্তা, পরকাল, বেহেস্ত, দোজখ, কিতাবসমূহ। এসবের উপর ঈমান এনে আমরা নামায, রোযা, যাকাত ও হজ্জ করা সহ অন্যন্য এবাদত সমূহ বছরের পর বছর করে যাচ্ছি। সব অদৃশ্যের মধ্যে বড় অদৃশ্য হল আল্লাহ্। বায়তুল্লাহ মানে আল্লাহর ঘর। হাজীগণ এই আল্লাহকেই খুঁজতে গিয়ে বায়তুল্লাহর চারদিকে তোয়াফ করতে থাকে। বার বার তোয়াফ করে আবার সিজদায় পড়ে থাকে এ ঘরের চারদিকে। আল্লাহর ঘর দেখে দেখে আল্লাহকে খুজে বেড়ায়। ইহাই কা’বা ঘর। এই আল্লাহ্র ঘর। এই ঘরই ধ্বংস করতে এসেছিল ইয়েমেনের বাদশা আবরাহা। বিরাট হাতী বাহিনী নিয়ে এসে এই কা’বা ঘর ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছিল। আমরা সূরা ফিলে এই ঘটনা বার বার পড়েছি। কিন্তু উহার বাস্তবতা দেখিনি। সূরা ফিলে আল্লাহ্ বলেন- তুমি কি দেখনি তোমার মালিক (কা’বা ঘর ধ্বংসের জন্য আগত) হাতিওয়ালাদের সাথে কি ব্যবহার করেছেন? তিনি কি তাদের যাবতীয় ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেননি? এবং তিনি তাদের উপর (ঝাঁকে ঝাঁকে) আবাবিল পাখি পাঠিয়েছেন। এ পাখিগুলো তাদের উপর পাথরের টুকরো নিক্ষেপ করেছিল। ( অতঃপর) তিনি তাদের জন্য জানোয়ারের চর্বিত (ঘাসপাত) এর মত করে দিলেন। সূরা ফিল আমরা বারবার তিলাওয়াত করেছি এবং আল্লাহ্র ঘর এই কাবা ঘরের সংরক্ষণ ও হাতী বাহিনীর শোচনীয় ধ্বংসের ঘটনা পড়েছি। কিন্তু তা হৃদয় দিয়ে বুঝিনি। হাজীগণ হজ্জ করতে গিয়ে আল্লাহ্র ঐ মহা সম্মানিত কা’বা ঘর সংরক্ষিত অবস্থায় স্বচক্ষে দেখে গাঢ় ঈমানদার হয়ে উঠে। বাস্তবতার নিরীখে ঈমানের আলোকে কাবা ঘরের শক্তিশালী মালিকের অস্তিত্ব বুঝতে পারা যায়। ঈমানের শক্তি বেড়ে যায়। বুঝা যায় যে কাবা ঘর ধ্বংস করতে এসে বাদশাহ আবরাহা আল্লাহর পাঠানো ছোট ছোট পাখীর ছুড়ে মারা পাথরের আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মৃত্যু বরণ করল। আবরাহার সেই লাশের কবর এখনও রয়েছে মিনা প্রান্তরে। হাজীরা ওখান দিয়ে পার হতে দ্রুত পদচারণার নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহর ঘর আল্লাহর দ্বারা সংরক্ষিত হয়ে আজ মহান এক নিদর্শন হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে সুপরিচিত হয়ে আছে। আর অপর পক্ষে সেদিন সেই বিরাট হাতী বাহিনীর সব হাতী সব নেতাসহ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেল। বার বার আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করতে হয়। আল্লাহ কত বড় তার উত্তর বুঝতে কাবা শরীফ ও মদীনা শরীফ জিয়ারতে পরিস্কার হয়ে যায়। নামায আদায় করার সময় তাশাহুদে বসে আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি পড়ে রাসূলের মিরাজের ঘটনা পাঠ করা হয়। সেখানে আল্লাহ, রাসূল, নিজে ও এবাদতকারীদের সালাম দেয়া হয়। মদীনায় শুয়ে আছেন রাসূল (স.)। তাকে সালাম দিয়ে আমরা পড়ি- আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাব্যিউ রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। হজ্জ করতে গিয়ে মদীনা শরীফে পৌঁছে স্বচক্ষে হাজীগণ রাসূলের রওজা মোবারক দেখে দেখে ঈমান পাকা করার মহা সুযোগ পেয়ে থাকে। বাবা আদম (আ:) বেহেস্ত থেকে দুনিয়ায় আগমনের সময় হাজরে আসওয়াদ বা সাদা পাথরটি সাথে এনেছিলেন। উহাই বর্তমান পর্যন্ত কা’বা ঘরের কোণায় স্থাপন করে রাখা হয়েছে। ইব্রাহীম (আ:) তাঁর ছেলে ইসমাঈল (আ:) সহ কাবা ঘর পুনঃ নির্মাণ করেন। ইব্রাহীম (আ:) যে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে কা’বা ঘরের দেওয়াল উপরে নিচে গাথেন উহা এখনও ‘মাকামে ইব্রাহিম’ পরিচয়ে কাবা ঘরের পার্শে দাঁড়িয়ে আছে। লাখো কোটি হাজী আজ সেই মাকামে ইব্রাহীম স্বচক্ষে দেখে ঈমানের আলোকে পাকা ঈমানদার হতে সুযোগ পান। পবিত্র কুরআন থেকে এরুপই সাফা-মারওয়া, হারাম শরীফ এবং আরো অনেক নিদর্শনের কথা আমরা পড়েছি বা শুনেছি। কিন্তু হজ্জ করতে গিয়ে ঐসব স্থানের সরাসরি পরিচয় পাওয়া যায়। তাই হজ্জ করতে গিয়ে ঈমানের বাস্তবতা ফুটে উঠে। তবে এজন্য দরকার গভীর ভাবনা ও মনোনিবেশ। হজ্জ থেকে ঈমান মজবুতির উপকরণ গ্রহণ করার তৌফিক আল্লাহ আমাদের সবাইকে দান করুন। আমিন।
হাজীদের ভুল সংশোধন
ইসলামের পাঁচটি খুঁটির মধ্যে হজ্জ হলো গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরয এবাদত। জীবনে একবারই হজ্জ ফরয। হালাল পথের আয় থেকে সামর্থ্যবান ধনী মুসলমানের উপর হজ্জ ফরয। এই ফরয হজ্জ আদায় করতে গিয়ে সদা সর্বদা হক পথেই আমল করতে হয়। হজ্জ করতে গিয়ে অনেকেই র্শিক বিদআতে জড়িয়ে পড়ে। নির্ভেজাল তৌহিদের কাণ্ডারী হিসেবে সব হাজীকে ভুল ভ্রান্তি থেকে মুক্ত হয়ে নিষ্পাপ ও কবুলী হজ্জকারী হয়ে ফিরতে হবে।
নিম্নে হাজীদের দ্বারা কৃত ভুলভ্রান্তির উল্লেখ করা হলো :
০১। হজ্জের নিয়তের পূর্বে কোনো নামাযের নিয়ম নেই। যারা নিয়তের পূর্বে দুই রাকাত নামায পড়েন তারা বিদ’আত করেন। ওমরা বা হজ্জের জন্য মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করতে হবে।
০২। ইহরাম বাঁধার আগে নয় ইহরামের পরে তালবিয়া পাঠ শুরু করতে হবে।
০৩। এহরামের কাপড় পরিধান করলে আর বদলানো যাবে না মনে করা ঠিক নয়। যে কোন প্রয়োজনে এহরামের কাপড় বদল করা যাবে। তবে এহরামের কাপড়ের পরিবর্তে এহরামের কাপড়ই পরতে হবে।
০৪। সিলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরিধানকে এহরাম বলে না, হজ্জের নিয়ত করে হজ্জ্ব পালনের যে শর্তগুলো দেয়া হয়েছে তার বাহিরে না যাওয়াকে এহরাম বলে। হজ্জের সময় যেসব জিনিসকে হারাম করা হয়েছে ঐ সবকে হালাল না করাই এহরাম।
০৫। নিজে হজ্জ করে থাকলেই শুধু বদলি হজ্জ বা অন্যের হজ্জ করা যায়েজ।
০৬। জামরাতে পাথর মারা মানে শয়তানকে পাথর মারা নয়। জামরাহ হল লক্ষ্য বস্তু।
০৭। তাওয়াফের সময় অন্যকে ধাক্কা মেরে আগে যেতে চেষ্টা করা ঠিক নয়। পুরুষ বা মহিলাকে দেখে খুব সতর্কতার সাথে তাওয়াফ করতে হবে।
০৮। মসজিদুল হারামকে হারাম শরীফ বলা যায়। কিন্তু হেরেম শরীফ বলা যাবে না।
০৯। তাওয়াফে যিয়ারত হল ১০ই জিলহজ্জ। কিন্তু অনেকে মিনায় যাবার আগে তাওয়াফে যিয়ারত করে ফেলে। কুরবানীর পর তারা আর তাওয়াফে যিয়ারত করে না। বিশ্ব নবীর (সা:) জীবনে এরূপ করেননি।
১০। হজ্জের মধ্যে কোন ভুল হয়ে গেলে অতিরিক্ত কুরবানী দিতে হবে। অনেকে এমনিতেই অতিরিক্ত কুরবানী দিয়ে থাকে, যদিও জানামতে সে কোন ভুল করেনি। এটা ঠিক নয়। এটা বিদআত।
১১। আল্লাহর সাথে কাবা ঘরকে মিলিয়ে ফেলে অনেকে। মনে রাখতে হবে যে আমরা কাবা ঘরের সিজদা করি না। সিজদা করি আল্লাহকে। কাবা ঘরের রবের জন্য আমাদের এবাদত। যারা বলে যেই কাবা সেই আল্লাহ্, তারা র্শিক করে। ‘ওলি বা পীর বাবার ক্বলবের মধ্যে কাবা’ যারা বলে  তারাও র্শিক করে।
১২। কা’বাঘরের গিলাফের অলৌকিক ফজিলত আছে মনে করা র্শিক। যারা কা’বাঘরের গিলাফকে চুমু দেয়, ঘসাঘসি করে, মাথা ঠুকায়, গিলাফের কাপড় ছিঁড়ে ফজিলতের জন্য বাড়ীতে নিয়ে আসে, তারা র্শিক করে।
১৩। জামরাতে পাথর মারার সময় যারা উত্তেজিত হয়ে জুতা বা সেন্ডেল ছুড়ে মারে তারা ঠিক করে না। পাথর মারা হয় পিলারের গায়ে। পিলারগুলো শয়তান নয়।
১৪। ইহরাম অবস্থায় নিজের চুল বা অপরের চুল কাটা যায়। মহিলা বা পুরুষ সবার চুলই কাটা যায়।
১৫। ওমরার পর পুরুষগণ মাথার চুল ছোট করে কাটবেন। আর হজ্জের পর মাথা ন্যাড়া করবেন। ওমরার সময় চুল ন্যাড়া করে ফেললে হজ্জের সময় মাথায় চুল থাকে না।
১৬। জামরায় মারার জন্য সংগৃহীত পাথর ধৌত করার প্রয়োজন নেই।
১৭। নামায রোজা কুরবানী যাই করা হোক সবার সওয়াবই মক্কায় ১ লাখ আর মদীনায় ৫০ হাজার গুণ বেশী মনে করা ঠিক নয়। শুধু নামাজের কথা হাদীসে বলা হয়েছে।
হাজীদের উত্তম আমল
যারা হজ্জ করতে যান তারা আল্লাহ্র মেহমান। হাজীগণ অনেক উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। হাজীদের মন মিজাজ তাই অতি উন্নত মানের। তাই হাজীদেরকে হতে হয় চরম ধৈর্য্যশীল। তারা গীবত, পরচর্চা, হিংসা বা অহংকার সবই পরিত্যাগ করে। তারা অন্যের খারাপ ব্যবহারে রাগ করে না। কাউকে তারা ঘৃণা করে না। তারা কাউকে ভয় করে না। তারা সর্বদা আল্লাহ্র দাস ও আল্লাহর প্রেমিক হিসেবে সর্বোচ্চ মর্যাদায় এবাদতে মশগুল থাকবে। তারা বৈষয়িক চাওয়া পাওয়া বা আরাম আয়েশের পাগল হবে না। হাজী সাহেব সর্বদা হাসিখুশিতে থাকবেন। তারা চেহারা সুরতে আভিজাত্য পূর্ণ ভদ্রবেসে থাকবেন। তারা অন্যের সাথে তর্ক বিতর্ক এবং ঝগড়ায় জড়িয়ে যাবেন না। কারো সাথে উত্তেজিত হবেন না। বেহুদা লোকজনকে এড়িয়ে চলবেন। মক্কা ও মদীনায় সারাক্ষণ অযু অবস্থায় থাকবেন।
সবাইকে সম্মান দেখিয়ে চলতে হবে।
মক্কা-মদীনা সম্পর্কে কোন খারাপ মন্তব্য করবেন না।
সবার জন্য সবসময় হৃদয় থেকে দু’আ করবেন এবং সবসময় ভাল মন্তব্য করবেন।
নিজের জন্য সব সময় দু’আ করুন, “হে আল্লাহ্ আমাকে রক্ষা করো, আমার ভুল ক্রটি দূর করে দাও, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত কর।”
আপনার সাথীদের এবং অন্যান্যা হাজীদের সাহায্য সহযোগীতা এবং খিদমত করুন।
সারাদিন কী কী করবেন সকালেই তার একটা প্ল্যান তৈরী করে ফেলুন।
হাসি ঠাট্টা কম করুন এবং আখিরাতের কথা বেশী বেশী স্মরণ করুন।
মৃত্যু, কবর, কবরের আযাবের কথা স্মরণ করুন।
নিজের পূর্বের কৃত গুনাহের কথা বেশী করে স্মরণ করুন। আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করুন। বেশী করে ক্ষমা চান।
দেশে ফেরার আগে বেশী করে তাওবা ও ইস্তেগফার করুন।
(সূত্র : আল কুরআন ও সহীহ্ হাদীসের আলোকে হজ্জ ও উমরাহ্।
লেখক: আমির জামান, নাজমা জামান)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ