বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জুন মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : রমযানের কারণে রাজনৈতিক ভাবে উত্তাপ কম ছিল জুন মাসে। এ মাসে রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যে বিভিন্ন দলের ইফতার মাহফিল, প্রধানমন্ত্রীর সুইডেন সফর, বিএনপি মহাসচিব মির্যা মির্যা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপর চট্টগ্রামে সরকারী দলের হামলা এবং জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর ২০১৭-১৮ বছরে বাজেট পেশ নিয়ে খোদ সরকার ও সরকার আশ্রিত বিরোধী দলের সরব সমালোচনা ছিল উল্লেখযোগ্য বড় রাজনৈতিক ঘটনা। জুন মাসে ৯৮টি রাজনৈতিক সন্ত্রাসের তথ্যে নিহতের সংখ্যা ১০। এই ১০ জনের ৫ জনই খুন হয় আওয়ামী লীগের হাতে, ছাত্রলীগের হাতে ২, যুবলীগের হাতে ২ এবং বিএনপির হাতে ১ জন। এ মাসে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় প্রাপ্ত তথ্যে আহত হয় ২৬৪ জন এবং গ্রেফতার অনেক বেশী হলেও ১৮০ জনের তথ্য পাওয়া গেছে বাকীদের পরিচয় প্রকাশিত হয়নি, গ্রেফতারকৃতরা অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং দন্ডপ্রাপ্ত ১২ জন, এই ১২ জনের সকলেই ছাত্রলীগের। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জুন মাসে নিহত হয়- (১) মুন্সীগঞ্জ সদরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মাসুদ নামে একজন নিহত, (২) কুষ্টিয়ার মিরপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে শাহাবাুদ্দিন আহমেদ শাহীন নামে একজন খুন হয়, (৩) সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত হয় ফরিদুল ইসলাম ও (৪) শিপন, (৫) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আধিপত্য বিস্তার ও ইউপি নির্বাচনের দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগের হাতে ময়েজ উদ্দিন এবং বিএনপির হাতে (৬) নজরুল ইসলাম নিহত হয় বলে জানা যায়, (৭) ভোলার লালমোহনে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রী মাহমুদ মেহের তিথি হত্যার অভিযোগ, (৮) ঢাকার সাভারে জমি দখল করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা সিএম বাদশা ফয়সাল নিহত এবং (৯) রাঙ্গামাটির লংগদুতে যুবলীগ নেতার হত্যার প্রতিবাদে তাদের হামলায় গুনবালা চাকমা নামে এক পাহাড়ী উপজাতি মহিলা মারা যায় ও (১০) পিরোজপুরের নাজিরপুরে স্কুল শিক্ষক সমীরণ মযুমদার হত্যা রহস্য উদঘাটন দায়ী যুবলীগ নেতা।

আওয়ামী লীগ ঃ চাঁদপুরের শাহরস্তিতে খেড়িহর বাজার থেকে খেড়িহর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় পর্যন্ত পাকা করনের কাজ চলমান। গত ২০ মে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেযর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম এমপি বীর উত্তম রাস্তাটির কাজ উদ্বোধন করে। কাজের ঠিকাদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোঃ আদেল উদ্বোধনের পর রাস্তার ইট তার বাড়ীতে নিয়ে যায়। ৪ জুন শরীয়তপুরের নড়িয়ায় মাঝিকান্দি গ্রামে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে নশাসন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক লিটন হাওলাদারকে সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মাঝির নেতৃত্বে ইমরান সরদার, মাসুম ছৈয়াল, জাকির মাঝি, কাউছার আকন ও জুলহাস সরদারসহ ১০-১২জন কুপিয়ে জখম করে। বগুড়ার শেরপুরে অসামাজিক কাজ করার দায়ে আওয়ামী লীগ নেতা আল-হেলালকে আটক করে গনধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয় জনতা। পরে পুলিশ স্থানীয় ভাবে সালিসী করে তাকে ছেড়ে দেয়। ৭ জুন বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫নং পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল মতিনকে ৬০ পিস ইয়াবাসহ নিজ বাড়ী থেকে আটক করে পুলিশ। ৮ জুন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বিজয়পুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও ইউপি নির্বাচনী দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগের হাতে ময়েজ উদ্দিন নিহত হয় এবং অপর সাতজন আহত হয়। ১০ জুন মুন্সীগঞ্জ সদরের দক্ষিন চর মাগুরা গ্রামে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মাসুদ নামে একজন নিহত এবং অপর দশজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ও কেওয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান জীবন এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয় তারিফ, ইরফান ও সাইফুলসহ দশজন। বরিশালের হিজলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ টিপুর ছেলে তন্ময় সিকদার এগার দিন আটকে রেখে নির্যাতন করে মোছাদ্দেককে। পরে তাদের বাড়ীর পাশে ফেলে রেখে যায়। চিকিৎসার জন্য হিজলা উপজেলা হাসপাতালে যেতে চাইলে তন্ময় বাধা দেয়। পরে গোপনে তাকে বরিশাল শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। 

১১ জুন নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছাতারদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সতন্ত্র প্রার্থী সংখ্যালঘু সম্প্রদয়ের মলয় কুমার সরকারের মনোনয়ন পত্র তোলার পর ছিনিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ। হামলায় নেতৃত্ব দেয় সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক আনিচুর রহমান লিখন। ১২ জুন সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে গান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে ২ ইউপি সচিব আবুল কাশেম এবং আব্দুল কাদের মিলনকে অবরোধ করে মারধর ও বাড়ী-ঘর ভাংচুরের ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করে সংশ্লিষ্টরা। দু’টি ঘটনায় আহত হয় পাঁচজন। ১৩ জুন মানিকগঞ্জের ঘিওরে সিংজুড়ী ইউনিয়নে সরকারী প্রকল্পে অনিয়ম হওয়ায় তদন্ত করতে গেলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহমেদ মুকুল ও ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল বাকেজকে লাঞ্ছিত করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজের উপস্থিতিতে তার ছেলে দুলাল, তার সহযোগী শহীদ ও সবুজসহ কয়েকজন। ১৫ জুন নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে আনোয়ারা কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার পার্টিতে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত দশজন। স্থানীয় এমপি এইচ.এম ইব্রাহিম ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা ও বজরা ইউপি চেয়ারম্যান মিরণ, সোনাইমুড়ি পৌর যুবলীগ নেতা মহিন এবং হোক্কা মিয়াসহ আহত দশজন। ১৬ জুন রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারী কাজে বাধা দেয়ায় শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রহীম মোল্লাকে আটক করে পুলিশ। সরকারী পুকুর লিজ দেয়ার পর লিজ গ্রহীতাকে দখল করতে বাধা দেয়ায় ইউএনও এসি ল্যান্ডের সাথে অসৌজন্য ব্যবহার করে। পটুয়াখালীর মির্যাগঞ্জে রামপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ৫টি মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করে বলে অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মিযানুর রহমান লাভলুর বিরুদ্ধে। 

১৭ জুন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পূর্ব শত্রুতা, ঘের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ বহরবুনিয়া ইউনিয়নে পর পর তিন দিন ধরে সংঘর্ষে আহত পনের জন। আহতরা হলো- ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ সবুজ, যুবলীগ নেতা বাবু হাওলাদার, আওয়ামী লীগ নেতা সখিনুর, মোশাররফ হোসেন তালুকদার, যুবলীগ নেতা আবু সাম হাওলাদার, তরূণ লীগ ইউনিয়ন সাধারন সম্পাদক শাহীন গাজী ও ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ তালুকদারসহ পনের জন। ১৮ জুন কুষ্টিয়ার মিরপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে শাহাবুদ্দিন আহমেদ শাহীন নামে এক কর্মী খুন ও অপর সাতজন আহত হয়। আমলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুল মালিথা বিদেশ সফর করে এলাকায় ফিরলে তার সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করে এবং সে মিছিল থেকে আমলা বাজার যুবলীগ অফিসে হামলা করে। পরে সংঘর্ষে আতিয়ার রহমান, শাহার আলী ও সাইদুল ইসলামসহ আহত হয় সাতজন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সদরের ইছাখালীতে বিএনপি মহাসচিব মির্যা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধূরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মেযর জেনারেল (অবঃ) রুহুল আলম চৌধূরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মীর ফাওয়াজ হোসেন শুভ ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুল হাশেম বকরসহ আহত পনের জন। রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য দেয়ার জন্য যাওয়ার পথে এই হামলা হয়। 

১৮ জুন খুলনার ফুলতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও মাদক সিন্ডিকেট প্রধান হেদায়েত হোসেন লিটু ওরফে হাফ প্যান্ট লিটু মেম্বারকে ফুলতলা বাজার থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা এবং অর্ধশত পিস ফেনসিডিলসহ আটক করে পুলিশ। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আনারপুর এলাকায় সুপার ষ্টার শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাজের হিস্যা নিয়ে ভবেরচার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শাহ আলম এবং ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, ফলে উভয় পক্ষে পনের জন আহত হয়। পুলিশ সিরাজুল ইসলামসহ সাত জনকে আটক করে। ২০ জুন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সাবেক নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপকে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে ট্রাব্যুনাল। সাতক্ষীরার দেবহাটায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গনির সমর্থক বাবু ও মামুনের হামলায় উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম খোকন আহত হয়। বগুড়ার শিবগঞ্জে পৌর ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মামুনুর রশীদ ও মেহেদুল ইসলমকে ১৪৪ পিস ইয়াবাসহ আটক হয়। ২১ জুন পটুয়াখালীর বাউফলে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল ও হামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান অফিস ভাংচুর ও নাওমালা ইউপি চেয়ারম্যানকে নাজেহাল করা হয়। পরে ঘটনার জেরে বিকালে আবারও হামলায় ইউপি সদস্য হানিফ সরদার, লিঙ্কন, রিয়াদ ও মিলনসহ উভয় পক্ষে দশজন আহত হয়। ২৪ জুন রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কাঁকনহাট পৌর সভায় ভিজিএফ-এর গম বিতরণ কালে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত দশজন। নারী কাউন্সিলর শাহনাজ পারভীন ও ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ্্ আল-কাফি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ্্ আল-কাফি, বাবু, দুলাল ও শাহীনসহ আহত দশজন। পুলিশ কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ্্ আল-কাফিকে আটক করে। 

২৮ জুন সিরাজগঞ্জে কামারখন্দে ঈদ উপলক্ষে নেতা-কর্মীদের মাঝে বরাদ্দকৃত টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পাইকোশা বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত বিশজন। যুবলীগ নেতা বাবু ও আওয়ামী লীগ কর্মী মোহাম্মদ আলীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও পরে সংঘর্ষে ফরিদুল ইসলাম, আব্দুর রশীদ, শিপন, বেলাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ইমরুল হাসান, আব্দুল মজিদ ও মোহাম্মদ আলীসহ আহত বিশজন। গত ২৪ জুন ঘটনার সূত্রপাত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ জুন ফরিদুল ইসলাম ও ২৯ জুন শিপন মারা যায়। পুলিশ নয় জনকে আটক করে। ২৯ জুন মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ আব্দুল মান্নানের উপর দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সিকদার মিযানুর রহমান সমর্থকরা হামলা করে। ঘটনার জেরে মান্নানের লোকজনও প্রতিপক্ষ গ্রুপের তিন গ্রামের শতাধিক বাড়ী-ঘরে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সড়কে গাছ  কেটে অবরোধ, ভাঙচুর ও লুট পাটের ঘটনার ছবি তুলতে গেলে তারা তিন সাংবাদিককে মারধর করে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত দু’জনকে আটক করে। শরীয়তপুরের ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বাহাদুর বেপারী আগামী নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হিসাবে এলাকায় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ফেস্টুন ও পোস্টার লাগালে দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ তা ছিড়ে ফেলে। নাটোরের নলডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত আটজন। আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এস.এম ফিরোজ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাহাবুদ্দিন শাহ, ডাঃ শাহীন শাহ ও শাহজান আলী শাহসহ আহত আটজন। পুলিশ আসাদুজ্জামানসহ বার জনকে আটক করে। 

ছাত্র লীগ ঃ ১ জুন ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিবীণা হল প্রভোষ্ট রুহুল আমিন ও হাউজ টিউটর সঞ্জয় কুমার মুখার্জীকে গুলী করার হুমকি দেয়ায় তিন ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান অনিক, নয়ন মন্ডল ও নূরে রাব্বি মুরাদকে হল থেকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করে হল প্রশাসন। ২ জুন  ভোলার লালমোহন উত্তর বাজারে ছাত্রলীগ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে স্ত্রী মাহমুদ মেহের তিথি হত্যার অভিযোগ। পরিণয় সূত্রে ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ তাদের মধ্যে গোপনে বিবাহ হয় এবং পরে পরিবারও তা মেনে নেয়। রুবেল মৃত তিথিকে হাসপাতালে রেখে পালায়ে যায় এবং রুবেলের ভাই জুয়েল তিথির পরিবারকে ফোনে জানায়, সে আত্মহত্যা করেছে। বিভিন্ন সময়ে টাকার জন্য তিথিকে মারধর করতো, তিথির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় একাত্তর হলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র শিক্ষার্থী ইসমাইল আহমেদ মুবিনকে তিন দফা মারধর করে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ গং। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ইফতার পার্টিতে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত দশজন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ  নেতা শাওন গ্রুপ ও নাঈম হোসেন ইমরান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আল-আমিন, এনামুল হক, সাকিব হোসেন ও নাঈম উদ্দিন মিঠুসহ আহত দশজন। ৪ জুন ঢাকার সাভারে জামশিং ভাটপাড়া মহাল্লায় জমি দখল করতে গিয়ে ছাত্রলীগ সাবেক সাভার উপজেলা যুগ্ম-আহবায়ক সিএম বাদশা ফয়সাল নিহত হয়। ফয়সালের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ জোর করে জমি দখল করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ