মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ট্রাম্প দাদা, চীন-পাকিস্তানকে পিটিয়ে দিন না!

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী : ভারতের চরম হিন্দু সাম্প্রদায়িক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি তিন দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন। তার মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ওয়াশিংটনে। সেখানে তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অল্প কিছু সময়ের জন্য একান্ত আলাপ-আলোচনা হয়। সে আলোচনা নিয়ে ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা একটি রিপোর্ট করেছে। রিপোর্টের শিরোনাম ছিল : ‘শূন্য হাতে ফিরলেন মোদি’। রিপোর্টে বলা হয়, ‘পাঁচ ঘণ্টার মোলাকাত। তার মধ্যে কুড়ি মিনিট নরেন্দ্র মোদি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প একান্তে। বাকি সময় দু’পক্ষের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বৈঠক। হোয়াইট হাউজে নৈশভোজ। রোজ গার্ডেনে যৌথ বিবৃতি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির তিন দিনের এই সফর সম্পর্কে প্রবীণ কূটনীতিকেরা বলেছেন, দু’পক্ষ থেকেই বন্ধুত্বের উষ্ণতার দীর্ঘ ঘোষণা আছে। কিন্তু ট্রাম্প জামানার এইচওয়ানবি ভিসা নীতি অথবা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বিষয়গুলো তুলতে ব্যর্থ হলো ভারত।’
আনন্দবাজার লিখেছে, ‘মোদি-ট্রাম্পের বেশ কয়েকবার আলিঙ্গনের ছবি অবশ্য দেখা গিয়েছে। হোয়াইট হাইজের অতিথিবৎসল ট্রাম্প দম্পতির সহৃদয় বিদায় জানানোর ফুটেজ দেখা গিয়েছে। কিন্তু এই সফর শেষে মোদি কার্যত শূন্য হাতেই দেশে ফিরছেন বলেই মনে করছেন অনেক প্রবীণ কূটনীতিক। প্রাক্তন বিদেশ সচিব কানওয়াল সিব্বল মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে ভারত সম্পর্কে মার্কিন মনোভাবে কোনো পরিবর্তনই আসবে না।’ তার যুক্তি হলো, মোদির সফরকালে হিজবুল প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে বিশেষ সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করলো আমেরিকা। অথচ দশ বছর আগেই তো হিজবুল মুজাহিদিনকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন তার নেতাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করাটা কি নাটক নয়? এর আগেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী যুক্তরাষ্ট্র সফরের পূর্বে দাউদ ইব্রাহিমকে বিশ্বসন্ত্রাসী ঘোষণা করেছিল আমেরিকা।
আনন্দবাজার লিখেছে, ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের প্রাক্তন কূটনীতিকরা শুধু নন, বর্তমান সিনিয়র কূটনীতিকরাও মনে করেন যে, মোদি আমেরিকা গিয়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসকে বড় বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছেন। চীন যে এই এলাকার নিরাপত্তা বিঘিœত করছে, তা নিয়েও ট্রাম্পের কাছে প্রয়োজনের বেশি কান্নাকাটি করেছেন মোদি। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ বলেছেন, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দ্বিপক্ষীয় স্তরে রাখাটাই সঠিক ছিল। তবু আমেরিকার কাছে গিয়ে নালিশ করাটা যেন ‘মা, ও আমাকে মারছে’ গোছের কাঁদুনি গাওয়া। এ কথা ঠিক যে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে চীনের সিল্ক রুট তৈরি নিয়ে ভারতের উদ্বেগের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন একমত হয়েছে। কিন্তু শিবশঙ্কর মেননের মতো কূটনীতিকও মনে করেন, চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলেই বরং আমেরিকার কাছে ভারতের গুরুত্ব বাড়ে। যদ্ধংদেহি মনোভাব ভারতের বিদেশনীতির সাবেকি মূলমন্ত্র নয়। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক চীনের ওপর চাপ বাড়ায়। ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও জয়শঙ্কর যেভাবে চীনের সঙ্গে সংঘাতের কৌশল নিয়েছেন, তাতে ভারতের মার্কিন নির্ভরতা বেড়েছে।
দু’দেশের মধ্যে অসামরিক পারমাণবিক চুক্তির বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে রয়েছে। তা নিয়ে কথা হয়েছে। তবে তিন পৃষ্ঠার বিশাল যৌথ বিবৃতিতে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ যেভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ততোটা পাত্তা পায়নি। তাতে আছে ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকায় শান্তি রক্ষার কথা। উত্তর কোরিয়ার লাগাতার হুমকি থেকে শুরু করে আফগানিস্তানে নয়া কলেবরে সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা, নাম না করেও দক্ষিণ চীন সাগর সমস্যার ইঙ্গিতÑ এই সবই ঠাঁই পেয়েছে বিবৃতিতে। ভারত সরকারের দাবি, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে মার্কিন কর্তাদের সক্রিয় করে তোলা ও যৌথ বিবৃতি দেয়ানোটা মোদির একটা বিরাট সাফল্য। কূটনীতিক জগতের অনেকেই বলছেন, বারাক ওবামা এক সময় বিষয়টি নিয়ে উৎসাহ দেখালেও চীন যে এই এলাকাটিকে তার বাড়ির পুকুর ভাবতে শুরু করেছে, তা নিয়ে জাপান বা ভারতের মাথাব্যথা থাকলেও  ট্রম্পের কোনো উৎসাহ নেই। বিবৃতিটি তাই নাম কা ওয়াস্তে। রণেন সেন বা শ্যাম শরণের মতো কূটনীতিক প্রকাশ্যে কিছু না বললেও তারা পাকিস্তান সম্পর্কে আমেরিকার নীতি নিয়েও সতর্ক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আমেরিকা সফরের পরে বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোদির আসল সমস্যা হলো, তিনি বিদেশনীতির দিকে নজর দেয়ার চেয়েও পাকিস্তান ও চীনের বিরোধিতা করে নির্বাচনি রাজনীতির মোক্ষ লাভেই বেশি ব্যস্ত।
সে কারণে ব্যাপক ভিত্তিতে না হলেও পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে একটা ছোটখাটো যুদ্ধ চান নরেন্দ্র মোদি। আর এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তিনি দেখাতে চান, ভারতে তার কোনো বিকল্প নেই। পাকিস্তান বিশেষ করে কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা তার দৈনন্দিন ঘটনা। কিন্তু এবার মোদি চীনের সঙ্গেও গা চুলকিয়ে বিবাদ বাধাতে চাইছেন। সম্প্রতি চীন অভিযোগ করেছে যে, ভারতীয় সেনারা সিকিম ও তিব্বতের মাঝখানে তাদের ভূখ-ের ভেতরে অনুপ্রবেশ করেছে। চীন আরও অভিযোগ করেছে যে, তাদের ভূখন্ডের ভেতরে রাস্তা তৈরিতে ভারত বাধা সৃষ্টি করছে। চীন অবিলম্বে এসব সৈন্য সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রসঙ্গত চীন ১৯৬২ সালের যুদ্ধের কথা ভারতকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। সে যুদ্ধে বেইজিং নয়াদিল্লীকে পিটিয়ে তুলোধুনা করে দিয়েছিল। আর চীনা বাহিনী চলে  এসেছিল আসামের উত্তর সীমানা পর্যন্ত। চীন বলেছে, এবারও প্রয়োজনে তারা ভারতকে উচিত ‘শিক্ষা’ দিয়ে দেবে।
আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এই মুহূর্তে মোদির হাতে যুদ্ধ ছাড়া আর কোনো হাতিয়ার নেই। আর তাই তারা এমন একটা ভাব ধরেছে যে, দিল্লী একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তান উভয় ফ্রন্টেই যুদ্ধ করে বিরাট বিজয় অর্জনে সক্ষম। আর তাই দিন দশেক আগে ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান বিপিন রাওয়াত এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন আড়াই ফ্রন্টে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। এর মধ্য দিয়ে তিনি বলতে চেয়েছেন যে, তারা যেমন একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে সক্ষম, তেমনি কাশ্মীর সমস্যা মোকাবিলার জন্যও তৈরি। তবে বাস্তবতার সঙ্গে রাওয়াতের কথার কোনো মিল নেই। এমন কি ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানও বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নন। বছর খানেক আগে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল বিএস ধানোয়া  উপপ্রধান থাকার সময় বলেছিলেন যে, ভারতীয় বিমান বাহিনী একই সঙ্গে দুই রণাঙ্গণে যুদ্ধ চালাতে সক্ষম নয়। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন যে, দুই রণাঙ্গনে যুদ্ধ করার মতো আমাদের লোকবল নেই।
আধুনিককালে সেনাবাহিনী নয়, বিমানবাহিনীই যুদ্ধে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক। সেখানে বিমানবাহিনী প্রধানই যদি বলেন যে, দুই রণাঙ্গনে যুদ্ধ করার মতো যথেষ্ট জঙ্গি বিমান বা বৈমানিক তাদের নেই, সেখানে সেনাবাহিনী প্রধান কোন ভরসায় বললেন, তারা সক্ষম? কেননা তার আগের সেনাপ্রধান বিকে সিং প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে লিখিতভাবে একথা জানিয়েছিলেন যে, এমন কি একটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করার জন্য তার সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি বেহাল অবস্থায় আছে। তিনি লেখেন যে, সেনাবাহিনীর ট্যাংকগুলো অনেক পুরানো হয়ে গেছে। গোলাবারুদও অপ্রতুল। সেনাবাহিনীর বিমানগুলো প্রায় অকেজো। আর সাঁজোয়া বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রশস্ত্রের অভাব রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সংবাদপত্রের রিপোর্টে দেখা যায়, সমর প্রস্তুতির ঘাটতি মোকাবিলায় ভারত অবিলম্বে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমপক্ষে ১০ দিন নির্বিঘেœ যুদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জাম কিনতে মোদি সরকার ২০ হাজার কোটি রূপীর অনুমোদন দিয়েছে। এ সব অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, ট্যাংকের গোলাবারুদ, সাঁজোয়া বাহিনীর কামান, আগ্রাসী রাইফেল প্রভৃতি। দেখা গেছে বিগত চার বছরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুর্বল পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতিই হয়নি।  তবে ১০ দিনের তীব্র যুদ্ধের জন্য যুদ্ধের নিয়মানুযায়ী অন্তত ৪০ দিনের প্রস্তুতি থাকা দরকার।
আর বাস্তবতা ধারণার চেয়ে অনেক কঠিন। এদিকে ভারতীয় সামরিক সরঞ্জাম ক্রমেই অকেজো হয়ে পড়ছে। পুনঃস্থাপন যা হচ্ছে, তা বাতিলের তুলনায় নগণ্য। ভারতীয় সাঁজোয়া বাহিনীর বেশির ভাগ সৈন্য এখনও পুরানা আমলের ছোট অস্ত্রই ব্যবহার করে। এ সব অস্ত্রের ওপর কোনো ভরসা নেই। এগুলো মাঝেমধ্যেই জ্যাম হয়ে যায় আর ডিজাইনও এ যুগে অচল। গত বছর সরকার এক লক্ষ ৮৫ হাজার অ্যাসল্ট রাইফেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার টেন্ডারই ডাকা হয়নি। কার্যত ৮০’র দশকে বোফোর্সের অস্ত্র সংযোজনের পর ভারতীয সেনাবাহিনী সাজসরঞ্জামের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে কারগিল যুদ্ধের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩৫০০ আর্টিলারি কামান সংগ্রহের পরিকল্পনা করে। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র দুটি হালকা কামান এ মাসে ভারতে এসে পৌঁছেছে। সুতরাং রাওয়াতকে বুঝতে হবে, ধারণার চেয়ে বাস্তবতা অনেক কঠিন। এতে প্রমাণিত হয় যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থা কারগিলের সময়ের চেয়ে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। সে সময় ভারত ইসরাইলের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে আর্টিলারি শেল আমদানি করেছিল। ঐ যুদ্ধের পর অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকার বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তার তেমন কিছু এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর অবস্থাও একই। তাদের থাকার কথা ৪২ স্কোয়াড্রন (১২ থেকে ২৪টি) বিমান। পরে তার লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ স্কোয়াড্রনে নামিয়ে আনা হয়। বিমান বাহিনী কোনো কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা হবে আরও কম। ভারতের আছে পুরানো আমলের জরাজীর্ণ ২৩০টির মতো মিগ-২১ যুদ্ধবিমান। আগামী ১০ বছরের মধ্যে এর বহুসংখ্যক কার্যকারিতা হারাবে। এগুলো প্রায় অকেজো হয়ে পড়লেও ভারতের তা পুনঃস্থাপনের ক্ষমতা নেই। ২০১৫ সালে ভারত ফ্রান্স থেকে ১২৬টি আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু অর্থাভাবে পরে ৩৬টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।
ভারতীয় নৌবাহিনীর অবস্থাও তথৈবচ। ভারতীয় নেীবাহিনীর আছে ১৯০টি সমুদ্রগামী জাহাজ। ৭৫টি ডুবোজাহাজ। আরও তিনটি ডুবোজাহাজ (সাবমেরিন) মুম্বাই ডকইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে। এগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৫ বছর আগেই। কিন্তু এখনও হয়নি। এই সাবমেরিনগুলো মহাসাগরে তেমন সক্রিয় নয়। অপরদিকে চীনা যুদ্ধজাহাজগুলো আশপাশে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনের ১২টি যুদ্ধজাহাজ ঘুরছে ভারত মহাসাগরেই।
তা হলে নরেন্দ্র মোদির আর উপায় কি। অতএব ডোনাল্ড ট্রাম্পের বুকে মুখ লুকিয়ে তাকে আঁকড়ে ধরে বলেছেন, চীন ও পাকিস্তানকে মেরে দিন না দাদা! নইলে আমি যে আগামী নির্বাচনে জিততে পারবো না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ