বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

অর্থ ও সোনা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ ব্যবসায়ী কমলকে খুন করা হয়

খুলনা অফিস: খুলনায় অর্থ ও অলঙ্কার ছিনতাই উদ্দেশ্যে নগরীর ফুলবাড়ীগেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী কমল চন্দ্র পালকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার কর্মচারীরাই। হত্যায় জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার দু’জন গত রোববার বিকেলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। খুলনা মহানগর হাকিম মো. শাহীদুল ইসলাম এ জবানবন্দী রেকর্ড করেন।
আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে তারা জানিয়েছে টাকা ও সোনার গহনা ছিনতাই করতেই কমল চন্দ্র পালকে হত্যা করে তারই কর্মচারীসহ চারজনে মিলে। হত্যার পর কমলের কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও ১৫/১৬ ভরি সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
গত ২৪ জুন দিবাগত রাতের এ হত্যাকান্ডের পর নিহতের ছোট ভাই খোকন পাল বাদি হয়ে রানা, আলম, আমজাদ ও লিটনের নাম উল্লেখ করে ২৫ জুন খানজাহান আলী থানায় মামলা দায়ের করেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ী কমল চন্দ্র পালের প্রতিষ্ঠান নিউ ভাই বন্ধু জুয়েলার্সের কর্মচারী রানা ও তার প্রতিবেশী আলম জবানবন্দী দিয়েছে। আর বাকীরা রয়েছে পলাতক।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (দৌলতপুর জোন) সহকারী কমিশনার সোনালী সেন বলেন, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রানা, আলম, আমজাদ ও লিটন এক সাথে স্বর্ণ ব্যবসায়ী কমল চন্দ্র পালকে ছুরি ও ক্ষুর দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর কমলের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া নগদ এক লাখ টাকা ও ১৫-১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লিটনের কাছে রয়েছে। লিটন ও আমজাদ পলাতক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
স্বীকারোক্তিকারীদের বরাত দিয়ে সোনালী সেন আরও বলেন, গত শনিবার সকালে নগরীর আটরা এলাকার একটি বাসায় বসে রানা, আলম, আমজাদ ও লিটন পরিকল্পনা করে রাতে কমলকে হত্যার পর টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ কমলকে বাড়ি এগিয়ে দিতো তার কর্মচারী রানা। গত শনিবার রাতে কমল তাকে বাড়ি এগিয়ে দিতে বললে সে বলে তার অন্য কাজ রয়েছে, আজ সে যেতে পারবে না। তখন পার্শ্ববর্তী জামা-কাপড়ের ব্যবসায়ী আমজাদ কমল চন্দ্র পালকে এগিয়ে দিতে যায়। একটি ইজিবাইকে করে আটরা পালপাড়া এলাকায় বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে কিছু দূর যাওয়ার পর রানা ও লিটন ওই ইজিবাইকে ওঠে। এরপর তারা চারজন মিলে ইজিবাইকটিকে জোর করে বাইপাস সড়কের নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে কমলকে গলা কেটে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। হত্যাকান্ডের পর শনিবার রাতেই কমল চন্দ্র পালের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ছুটে যায় কর্মচারী রানা। রানার গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতাল থেকে খানজাহান আলী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে রাতভর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে কমল হত্যাকান্ডের সাথে সে জড়িত। রানার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আলমকে ফুলতলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ