বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পরিবেশের অনুকূলে বিশ্ব পদক্ষেপ নেয় আমরা নেই বিপরীতে

জিবলু রহমান : [চার]
সিডিএর উপসচিব অমল গুহ জানিয়েছিলেন, সংস্থার চলমান প্রকল্পসমূহের মধ্যে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কোনো প্রকল্প নেই। রেলের জমিতে কালুরঘাটে প্রকল্প স্থাপনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতির সংবাদ তার জানা নেই। (সূত্র : দৈনিক যুগান্তর ৬ জুলাই ২০১৪)
পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনের সব উদ্যোগই বর্তমানে থমকে আছে। চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের জন্য ২০০৭ সালে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়। দশ বছর ধরে ওই তহবিলের প্রায় ৭৪ লাখ টাকা পড়ে আছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, পাহাড়ের পাদদেশে এখনও ঝুঁকিপূর্ণভাবে কয়েক লাখ মানুষ বসবাস করছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে তাদের পুনর্বাসনেরও চিন্তাভাবনা সরকারের আছে। সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নিম্নবিত্তদের জন্য একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও তাতে ঠাঁই হবে মাত্র ৩৩টি পরিবারের। তাই এটি বাদ দিয়ে আমরা নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করছি।
পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমিন বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষকে সলিমপুরে পুনর্বাসন করা হবে। কেউ পাহাড় কেটে কিংবা দখল করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবেন না। যারা পাহাড়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দেবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তবে দায়িত্বশীলদের এমন কথাতেও আস্থা রাখতে পারছেন না নিম্নআয়ের মানুষ। তাই উচ্ছেদের পর আবারও তারা মৃত্যুকূপে ফিরে যাচ্ছেন।
পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বাস করা বস্তিবাসীর জন্য নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটে অস্থায়ী নগর ভবন করার সিদ্ধান্ত সিটি করপোরেশনের। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ভবনটি পরিদর্শনও করেন সিটি মেয়র। অথচ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের দাবির মুখে ২০১০ সালে বাটালী পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বস্তি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে ২০১৩ সালে বড় ধরনের বাধা ছাড়াই বস্তি উচ্ছেদ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৩ জন বস্তিবাসীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি ও হলফনামা নেয় সিটি করপোরেশন। তখন প্রতি ফ্ল্যাটের দাম ধরা হয় ছয় লাখ টাকা। অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এককালীন নেয়া হয় ১০ হাজার টাকা। মাসিক আড়াই হাজার টাকা কিস্তিতে এই মূল্য পরিশোধ করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল বস্তিবাসীদের। ২০১৩ সালে টাইগারপাসে ১২ কাঠা আয়তনের নিজস্ব জায়গার ওপর ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে চসিক। সাততলা ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮ টাকা। ভবনটিতে ২৫০ বর্গফুট আয়তনের ১৬১টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে। সাততলা ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে এখনও ভবনটিতে রঙ করা হয়নি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বহুতল ভবনটির নিচতলার একটি অংশ সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য রাখা হয়েছে। অন্য অংশে মুদি, ওষুধ ও সেলুনের দোকানের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল। শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য পাঠশালা স্থাপনেরও পরিকল্পনা ছিল। দ্বিতীয় থেকে সাততলা পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্ট। ২৫০ বর্গফুট আয়তনের প্রত্যেক অ্যাপার্টমেন্টে একটি থাকার ঘর, একটি শৌচাগার ও ছোট আকারের রান্নাঘর রয়েছে। কিন্তু এখন কাঠামো পরিবর্তন করে এটিকে করা হবে নগর ভবন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের পাহাড় ধসের আশঙ্কায় থাকা ছিন্নমূল মানুষের জন্য টাইগারপাস নবদিগন্ত ক্লাব মাঠের অস্থায়ী তাঁবুতে ৯০টি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। পাশেই অবস্থিত টাইগারপাস প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আরও শ’খানেক তাঁবু স্থাপন করা হবে বলে জানা যায়। এ ছাড়া আকবর শাহ এলাকাতেও স্থাপিত হবে তাঁবু। এর পর মতিঝরনা ও আকবর শাহ এলাকায় ঝুঁকির ভেতরে থাকা মানুষকে সরিয়ে আনা হবে পর্যায়ক্রমে। স্বল্প পরিসরে দেরিতে হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে আনার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
পাহাড় মানুষের আহারে পরিণত হচ্ছে। আর পাহাড়ের আহারে পরিণত হচ্ছে ছিন্নমূল অসহায় মানুষ, যারা পাহাড়ের ওপর ও পাদদেশে বসবাস করছে। মানবতার কারণে এসব ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসন করতে হবে। পাহাড় কাটা, পাহাড়ি বৃক্ষ উজাড় করা, অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধ, কাঠ পাচার রোধ করতে সরকারি নজরদারি জোরদার করতে হবে। মানুষের ভেতর সচেতনতা তৈরি করতে নিতে হবে নানাবিধ উদ্যোগ। এই উদ্যোগে শামিল হয়ে প্রকৃতির সাম্যাবস্থা বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।
বৈচিত্র্য আর ঐতিহ্যের দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। এখানে রয়েছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী আর তাদের রয়েছে আলাদা আলাদা সংস্কৃতি। পাহাড়ি অঞ্চল সেদিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এসব অঞ্চল পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যা থেকে বাংলাদেশ অর্জন করতে পারে অভাবনীয় সাফল্য। এদিক  থেকে পাহাড় আমাদের বড় সম্পদ। এ সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে সবার মাঝে। পাহাড় রক্ষার জন্য তৈরি করতে হবে একটি ‘হিল কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ যার মাধ্যমে দেশের বেকার সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হতে পারে। সরকার এক্ষেত্রে বিশেষ নীতিমালার মাধ্যমে প্রাইভেট সেক্টরকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। পাহাড় কাটার কারণগুলো সুস্পষ্টভাবে সুনির্দিষ্ট করে এ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য প্রয়োজনবোধে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং কর্মশালা-পোস্টারিংয়ের আয়োজন করা যেতে পারে। তখন নিজেদের বিবেকের তাড়নায়ই মানুষ পাহাড় কাটা বন্ধ করবে।
এখনো যেসব জায়গায় বৈধ-অবৈধভাবে পাহাড়ের সন্নিকটে, উপকণ্ঠে, চূড়ায় কিংবা কাছে, গা ঘেঁষে বাড়ি-ঘর, স্থাপনা, রাস্তাঘাট তৈরি করা হচ্ছে সেগুলোর ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষ তার কারিগরি দিক বিবেচনায় নিয়ে অনুমতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে কিনা। যদি উত্তর না হয় তাহলে অতীত ও বর্তমানে ঘটে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে ঘটিতব্য এসব দুর্ঘটনা ও জানমালের ক্ষয়-ক্ষতির দায়-দায়িত্ব কে নেবে? দুর্ঘটনা ঘটার পর আহত-নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে কিছু টাকার একটি আর্থিক অনুদান ধরিয়ে দিলেই এখানে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না বলে কথা উঠেছে। সেজন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নগর পরিকল্পনা ও কঠোর নজরদারি।
চট্টগ্রামে গত ১৫ বছরে ঘটে যাওয়া একাধিক পাহাড় ধসে লোকজনের প্রাণহানির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনগুলো কখনই আলোর মুখ দেখেনি। অথচ সবক’টি প্রতিবেদনেই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজন কাজ করেছেন। তারা গড়ে ২০/৩৬টি করে সুপারিশও করেছেন।
তাদের দেয়া সেই সব সুপারিশের প্রতিবেদনগুলোর বেশির ভাগই এখন ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার কিংবা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের স্টোররুমে। কোনো প্রতিবেদনের আলোকেই আজ পর্যন্ত নেয়া হয়নি পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
২০১৪ সালের জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে, নগরীর ১১টি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ৬৬৬টি পরিবার বসবাস করছে। এর মধ্যে নগরীর একে খান পাহাড়ে ১৮৬ পরিবার, ইস্পাহানি পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে হারুন খানের পাহাড় ও বায়তুন আমান সোসাইটির কাছে পাহাড়ে ৫টি, কৈবল্যধাম বিশ্ব কলোনি পাহাড়ে (পানির ট্যাংক) ২৭টি, লেকসিটি আবাসিক এলাকার পাহাড়ে ১২টি, আকবর শাহ আবাসিক এলাকা পাহাড়ে ২২টি, পরিবেশ অধিদফতরের কাছে সিটি কর্পোরেশন পাহাড়ে ১১টি, ফয়েজ লেক আবাসিক এলাকার কাছে পাহাড়ে ৯টি, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট একাডেমির উত্তর পাশে মীর মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন পাহাড়ে ৩৮টি, নাসিরাবাদ শিল্প এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে ৩টি, জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন পাহাড়ে ৩৩টি ও মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল পাহাড়ে ৩২০টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।
প্রশাসনের এই হিসাবের বাইরে রয়ে গেছে আরও অসংখ্য পরিবার। প্রতিদিনই রেলস্টেশনে গেলে দেখা মেলে ট্রেনে করে এসে নামছে বহু উদ্বাস্তু পরিবার। এরা এসেই প্রথমে ফুটপাত খোলা জায়গায় আশ্রয় নিলেও পরে এলাকার পরিচিত লোকজনের সূত্র ধরে এ ধরনের শত শত পরিবার প্রতিদিন নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এসব বস্তিতে। পাহাড়, টিলা, খাসজমিতে গড়ে উঠছে নতুন নতুন বস্তিও। এসব বস্তি গড়ে তোলার পেছনে সরকারি দলের মধ্যম ও নিচু পর্যায়ের ক্যাডারদের পাশাপাশি সরকারি বিভাগ ও সংস্থার কিছু অসাধু লোকজনও জড়িত। ফলে এদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াটি বড়ই জটিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন জেলা প্রশাসন, সিডিএ ও চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাছাড়া এই পুনর্বাসনের দায়িত্ব কার সেটাও পরিষ্কার নয়। সিডিএ বলছে, পুনর্বাসনের দায়িত্ব তাদের নয়। চসিক বলছে, নগরীর যারা স্থায়ী বাসিন্দা তাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব। প্রতিদিন বাইরে থেকে যেসব ছিন্নমূল মানুষ এসে অবৈধ বস্তিসমূহে আশ্রয় নিচ্ছে তাদের দায়িত্ব চসিকের নেয়া সম্ভব নয়।
পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক, কর্মী, পরিবেশবিদ ও সমাজের নানা স্তরের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই প্রতিবছর পাহাড় ধসে প্রচুর লোকের মৃত্যু হচ্ছে। তারা জানান, পাহাড় ধসের ঘটনার পর প্রতিবছর প্রশাসন থেকে গঠিত হয় একাধিক তদন্ত কমিটি। কিছুদিন এই নিয়ে হাঁকডাক শোনা যায়। কিন্তু মাস ফুরালেই আর আলোর মুখ দেখে না এসব তদন্ত প্রতিবেদন। ফলে পাহাড়খেকোরা পার পেয়ে যাওয়ায় আবারো তারা নানা ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পাহাড় নিয়ে বাণিজ্য শুরু করে।
পরিবেশ আন্দোলন কর্মী ও অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করা ও তাদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের সুপারিশগুলো কবে বাস্তবায়িত হবে আমাদের প্রশ্ন। দখল হওয়া পাহাড়গুলোর অধিকাংশের মালিক সরকারি সংস্থা। চট্টগ্রামে এখন ১১ মাসই পাহাড় কাটা চলে। এক মাসের উচ্ছেদে কি আর সমস্যার সমাধান হয়?
চট্টগ্রামের পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক শরীফ চৌহান বলেছেন, যারা পাহাড় কেটে বাণিজ্য করছে তারা বহাল তবিয়তে আছে। ওদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার খবর কেউ জানে না। পাহাড় থেকে সাময়িকভাবে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে আবারো সেখানে বসতি গড়ে উঠে। (সূত্র : দৈনিক মানব জমিন ১৫ জুন ২০১৭)
শিল্পবিপ্লবের নামে উন্নত দেশগুলো কর্তৃক নির্বিচারে কার্বন নিঃসরণের কারণে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে শতকোটি মানুষের স্বপ্নের পৃথিবীর ভৌগোলিক, উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ এবং বাস্তুসংস্থান স্থায়ী পরিবর্তনের সম্মুখীন। উন্নত দেশগুলো নির্বিচারে বনভূমি নিধন, অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশদূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাস (জিএইচজি) নিঃসরণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়িয়েছে। ফলে পৃথিবীর অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন।
গবেষকেরা বলছেন, বর্তমান হারে ভোগ এবং উৎপাদন বজায় থাকলে ২০৫০ সালে যখন পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৯৬০ কোটি, আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য জোগাতে পৃথিবীর মতো কমপক্ষে তিনটি গ্রহ লাগবে, যা প্রকৃতই অসম্ভব। এ পরিপ্রেক্ষিতে উন্নত দেশগুলোর নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাপন প্রণালিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বেঁচে থাকার সুযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বৃহৎ করপোরেট কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির ভেতর আনতে হবে। তাই শুধু জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব ব্যবসার নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবুজবান্ধব টেকসই বাণিজ্য চুক্তি (গ্রিন এইড ট্রেড) প্রণয়ন করা প্রয়োজন। (সূত্র : দৈনিক সংগ্রাম ৬ জুন ২০১৫)
অর্থনৈতিক উন্নতির নামে বনাঞ্চল ও বিভিন্ন বাস্তুসংস্থান উজাড় করা হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে আবহাওয়ার পরিবর্তনে কৃষির রোপণ-প্রক্রিয়াতেও ঘটছে পরিবর্তন। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য ধরিত্রীর আয়তনের কমপক্ষে ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে বনভূমির হার মাত্র ৬.৭%। প্রতিবছর দুই হাজার হেক্টর বনভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৯০% শালবন হারিয়ে গেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে সক্ষম পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন হুমকির সম্মুখীন। তারপরও নির্বিচারে গাছ নিধন ও সুন্দরবনের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে সরকার। এ কারণে ভবিষ্যতে জলবায়ু অভিযোজন ব্যয় আরও বেড়ে যাতে পারে।
শুধু ঢাকায় ট্রাফিক জ্যামের কারণে নাগরিকেরা প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয় ২০১৪ সালে প্রকাশিত আইপিসিসির পঞ্চম অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সমুদ্রস্ফীতিজনিত লবণাক্ততা ও তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে ধান ও গমের উৎপাদন যথাক্রমে ৮% ও ৩২% হ্রাসসহ ২০৩০ সালের মধ্যে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার আরও ১৫% বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে আশঙ্কাজনক হারে কৃষিজমি ও বনাঞ্চল নষ্ট করে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নগরগুলোও ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের এক-তৃতীয়াংশ নগরের দালানগুলো থেকে আসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ