ঢাকা, মঙ্গলবার 14 July 2020, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ষ্টেশনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ অবর্নণীয় দুর্ভোগ লাখো যাত্রীর

 

শাহেদ মতিউর রহমান : নগরীর সব ষ্টেশনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় আজ বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর অধিকাংশ যানবাহন চলাচল বন্ধ। ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী লাখো মানুষেরা কাজে যোগ দিতে বেরিয়ে সকাল থেকে পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অন্যদিকে ঈদ শেষে নগরীতে ফিরে আসা যাত্রীরাও গন্তব্যে যেতে নাজেহাল হয়েছেন। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সংকট স্থায়ী কোন সমস্যা না। সংস্কার কাজের জন্যই এই সমস্যা  হয়েছে, এটা কেটে যাবে। 

এদিকে সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধের কারণে রাজধানীতে বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহন ও প্রাইভেট যানবাহন থেমে থাকতে দেখা গেছে। এতে করে চরম ভোগান্তিত পড়েছেন নগরবাসী। অনেকে তড়িঘড়ি করে গতকাল রাতেই গাড়িতে গ্যাস নিলেও, অনেকেই জানেনা বিষয়টি।

তবে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের সংস্কার কাজ প্রতি বছরই হয়। এবারের কার্যক্রমও পূর্বনির্ধারিত। ঈদের আগে জনগণকে এ বিষয়টি জানাতে ছয়টি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। আর এটি নতুন ঘটনা নয়। প্রতি বছরই বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের সংস্কার কাজ হয়ে থাকে।

সংস্কারের জন্য এ সময়কে বেছে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদের সময়টাতে দেশের কলকারখানা বন্ধ থাকে। বাসাবাড়ির লোকজন গ্রামেই অবস্থান করেন বেশি। ফলে গ্যাসের চাপ থাকে কম। তাই এ সময়ে সংস্কার কাজ করা হয়। 

তবে ভুক্তভোগিরা জানান, গতকাল সকালে  যারা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন তারা অনেকেই আগে থেকে এই গ্যাস সরবরাহ বন্ধের খবর জানতেন না। ফলে অনেকেই মাঝপথে বাসের গ্যাস সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই বাসা থেকে বের হওয়ার পরে জানতে পারেন যে,  রাত ১২ টার আগ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর কারণে অনেক বাসের যাত্রীকে মাঝপথে নেমে যেতে হয়। কিন্তু গণপরিবহনের সংকটের কারণে বেশিরবাগ যাত্রীকে হেঁটে কিংবা রিক্সাযোগে কর্মক্ষেত্রে যেতে দেখা গেছে।

নগরীর গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাস জানিয়েছে, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রয়েছে।  মঙ্গলবার রাত ১২ টা থেকে স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত  এগুলো বন্ধ থাকে। তিতাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের আগেই এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্যাস কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়। 

তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানির অধীনে থাকা সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন এই ২৪ ঘন্টা বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ২৩ জুন থেকে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত সব সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার কথাও জানানো হয়।

গ্যাসের এই সংকটের বিষয়ে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকা ‘সাময়িক’ সমস্যা। এটা কেটে যাবে । তিনি আরো জানান,  সাময়িত এই সমস্যার  জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলো বন্ধ আছে- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা বেশ আগে থেকেই জানিয়ে আসছি (সার্ভিসিংয়ের জন্য) সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকবে। বিবিয়ানায় আমাদের যে গ্যাসক্ষেত্র আছে ওখানে ওরা সার্ভিসিংয়ে যাব। বিষয়টা আমরা পত্রিকায় ও টেলিভিশনেও দিয়েছি। এটা বেশিক্ষণ নয়, ২৪ ঘণ্টার জন্য। গত রাত ১২টা থেকে শুরু হয়েছে, বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত থাকবে। তিনি বলেন, এটা খুব সাময়িক। হয়তো সিএনজি পাম্পগুলো গ্যাস দিতে পারবে না। যারা সিএনজি গাড়ি ব্যবহার করেন তারা তো পেট্রোলও ব্যবহার করেন। তারা তেল নিয়ে চলতে পারবেন।

নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের বড় চিন্তা ছিল পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য। আমি দেখছি পাওয়ারে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কারণ এখন যে অবস্থায় আছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ এমএমসি এফটি কমে গেছে, বাট আমরা স্ট্যাবল আছি। আমরা সব জায়গায় পাওয়ার দিতে পারছি। কারণ আমাদের হাতে কিছু রিজার্ভ ছিল, সেটা দিয়ে আমরা মোটামুটি কাভার করতে পারছি। তবে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে একটি ভাল অবস্থায় যেতে ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে আরও দু’তিন বছর সময় লাগবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ